সহকারী শিক্ষক
০৩ জুলাই, ২০২৪ ০৩:২৭ অপরাহ্ণ
সহকারী শিক্ষক
ধরনঃ সাধারণ শিক্ষা
শ্রেণিঃ অষ্টম
বিষয়ঃ কৃষি শিক্ষা
অধ্যায়ঃ দ্বিতীয় অধ্যায়
এই মুহূর্তে করােনা পরিস্থিতিতে সমস্ত পৃথিবী তােলপাড়।পরিসংখ্যান বলছে,বহু সমস্যার পাশাপাশি এই অস্থির আঘাত হেনেছে আমাদের পেশার ওপর। আমি একজন সাধারণ ছােট কোম্পানির কর্মী। লকডাউন থাকাকালীন কিছু দিন টানা বন্ধ থাকার পর এখন কোম্পানি মাঝে মাঝে খুললেও উৎপাদন কম। সােশ্যাল ডিস্ট্যান্সিং মেইনটেন করে সামান্য কাজ চলছে, সেজন্য কর্মীও সেরম প্রয়ােজন হচ্ছে না।প্রতি পদে পদে কর্মহীনতার আশঙ্কা ও যন্ত্রনায় ভুগছি। তবুও এই অন্ধকার সময়ে দাঁড়িয়ে একজন সৈনিকের মতাে, আমি পরবর্তী সময়ের জন্য নিজেকে তৈরি করেছি।কারণ আমি ভালাে মতােই উপলব্ধি করছি কর্মহীন হয়ে পড়লে দোষ টা আমার নয়। নদীর জল শুকিয়ে শুন্য হয়ে উঠলে মাঝির কর্ম যাওয়াটা স্বাভাবিক। অতীত ইতিহাস বলছে একটি সমস্যা কোনদিন মানব সভ্যতার গতি থামিয়ে দিতে পারেনা। বলাবাহুল্য এরম ম এরম দুঃসময়ে মানুষের সব চেয়ে বড় সহায়ক হয়ে উঠেছে প্রযুক্তি বিদ্যা। এও অনুধাবন করেছি বর্তমান বিশ্ব প্রযুক্তি নির্ভর। যে রকমই কঠিন সময় আসুক না কেন প্রযুক্তি নিজের মতাে উন্নত হয়ে গিয়ে মানুষের কর্মসংস্থান হাজার গুণ বাড়িয়ে দিয়েছে অতীতে এর উদাহরণ রয়েছে। সে কারণে একদম সময় নষ্ট না করে আমি এই সময়ে অনলাইনের মাধ্যমে বিভিন্ন প্রযুক্তি নির্ভর কোর্স করে নিজের যােগ্যতা বাড়ানাের প্রচেষ্টা করছি। যাতে নিষ্ঠুর সময় অতিক্রান্ত হলে অন্য কাজের সুযােগ আসে। যত টা সম্ভব খরচ কমিয়ে শুধু মাত্র অত্যাবশ্যক পণ্য ক্রয় করে সব রকম শখ বিলাসিতা বন্ধ রেখেছি। যাতে করে অর্থ সঞ্চয়ে মনাে নিবেশ করা যায়।আমার এই ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র সঞ্চয় পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে ছােট্ট ব্যবসা গড়ে তােলবার মূলধন হয়ে ওঠতে পারে। এর সঙ্গে নিয়মিত আমার পরিচিত বন্ধু-বান্ধব, আত্মীয় সকলের সঙ্গে যােগাযােগ রাখছি। কারণ কারাে মারফত একটা নতুন কাজের সুযােগ এসেও যেতে পারে। একটু বাস্তবের মাটিতে নজর ফেললেই বােঝা যায় মেডিসিন এখন প্রত্যেক ঘরে ঘরে জীবন ধারণের জন্য মুড়ি মুড়কির জায়গা নিয়েছে। তাই কোন প্রকার ওষুধ বিক্রয় কারী সংস্থার সাথে যােগাযােগ রেখে হােম ডেলিভারীর মতাে কাজ করলে, হয়ে উঠতে পারে যুগ উপযােগী রােজকারের পথ।প্রথমেই মনে রাখতে হবে সৎ পথের কোনাে কাজই ছােট নয়।আমাদের দেশ কৃষি প্রধান। কৃষিজ দ্রব্যের চাহিদা সব সময়ই থাকবে। মানুষের খাদ্যের যােগানের বাজার সব সময়ে ঊর্ধমুখী। তাই কোনাে কাজের সন্ধান না পেলে কৃষি কাজ, পশুপালন,পােলট্রি ফার্ম মৎস্য চাষ প্রভৃতি কে আমার অন্যতম জীবিকা করে ফেলার পরিকল্পনাও রাখছি। অনেক দুশ্চিন্তা মাথায় আসলেও তাতে ভর করে কোনাে হটকারী সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেললে ক্ষতি হতে পারে। তাই এখন আমার প্রয়ােজন স্থির হওয়া, মানসিক দৃঢ় তা আনা। কারণ সমুদ্রে ঝড় উঠলে, তাতে নৌকা নিয়ে নামা টা বােকামি। বরং পাড়ে বসে ঝড় থামার অপেক্ষা করা টা বুদ্ধিমানের কাজ।