Loading..

উদ্ভাবনের গল্প

রিসেট

৩১ জুলাই, ২০২৪ ১১:৫৬ অপরাহ্ণ

উদ্ভাবনী গল্প-১।। দূর্যোগকালীন (বন্যা) বিদ্যালয়

উদ্ভাবনী গল্পঃ দূর্যোগকালীন (বন্যা) বিদ্যালয়


উদ্ভাবকঃ মোঃ হাবিবুর রহমান সহকারী শিক্ষক

ইন্দ্রগড় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়

নাগেশ্বরী, কুড়িগ্রাম।


উদ্দেশ্যঃ বন্যায় বিদ্যালয়ে পানি উঠায় বিকল্প উপায়ে শ্রেণি পাঠদান কার্যক্রম সাময়িকভাবে চালু রাখা এবং বন্যার দূষিত পানি ও রোগ জীবানু থেকে শিক্ষার্থীদের নিরাপদে রাখা।


বাস্তবায়ন প্রক্রিয়াঃ কুড়িগ্রাম জেলার নাগেশ্বরী উপজেলার কচাকাটা ইউনিয়নের সীমান্তবর্তী নদীবেষ্টিত ও নিচু এলাকা বং উপজেলা সদর থেকে প্রায় ২৫ কি.মি. দূরে প্রত্যন্ত অঞ্চলের ইন্দ্রগড় গ্রামে ১৯৩১ খ্রিষ্টাব্দে “ইন্দ্রগড় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়” টি স্থাপিত হয়ে সুনামের সহিত পাঠদান কার্যক্রম পরিচালিত হয়ে আসছে। বিদ্যালয়ের দক্ষিণে প্রায় ৫০০ মিটার এবং পূর্বে প্রায় ৭৫০ মিটার দূরে গংগাধর নদী প্রবাহিত। নদীবেষ্টিত, নিচু এবং বন্যাকবলিত এলাকা হওয়ায় প্রতিবছর বিদ্যালয়টিতে বন্যার পানি উঠে যার কারনে শ্রেণি পাঠদান কার্যক্রম সাময়িক বন্ধ রাখা হয়। প্রতি বছরের ন্যায় এবছরও বন্যার পানি উঠে একটি ঘরের মেঝে তলিয়ে যায় এবং আরেকটি ঘরের মেঝে পানি ছুঁই ছুঁই অবস্থা যার কারনে বিদ্যালয়ের শ্রেণিকক্ষে পাঠদান কার্যক্রম চালানো সম্ভব নয়। তাই দূর্যোগকালীন এই সময়ে শ্রেণি পাঠদান বন্ধ না রেখে সাময়িকভাবে চালু রাখার জন্য উপজেলা শিক্ষা অফিসার, সহঃ উপজেলা শিক্ষা অফিসার, এসএমসি কমিটি, প্রধান শিক্ষক, সহকারী শিক্ষকবৃন্দসহ এলাকাবাসীর সাথে পরামর্শ করে বিদ্যালয়ের পাশে রাস্তার ধারে একটি আংগিনায় “দূর্যোগকালীন (বন্যা) বিদ্যালয়” স্থাপন করি।

এতে প্রয়োজনীয় সহযোগীতা করেন এসএমসি’র সকল সদস্যবৃন্দ, এলাকাবাসী এবং সকল শিক্ষকসহ আমার প্রাণপ্রিয় শিক্ষার্থীবৃন্দ। সকলের স্বতঃস্ফুর্ত সহযোগীতায় ২টি তাবু, কয়েকটি বাঁশসহ প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র দিয়ে একটি ঘর নির্মান করি এবং বিদ্যালয় থেকে বেঞ্চ এনে শ্রেণিকক্ষ সাজাই যার নামকরন করি “দূর্যোগকালীন (বন্যা) বিদ্যালয়”এটি একটি সাময়িক প্রতিষ্ঠান এবং এই প্রতিষ্ঠানেই বন্যা চলাকালীন সময়ে শ্রেণি পাঠদান কার্যক্রম সাময়িকভাবে চলমান থাকবে বলে অভিভাবকদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে অবগত করি। অভিভাবকরাও স্বতঃস্ফুর্ত সাড়া দেন এবং এই দুযোগকালীন (বন্যা) বিদ্যালয়ে তাঁরা তাদের সন্তানদের সাবধানে নিয়ে আসেন আবার নিয়ে যান। শিক্ষার্থীদের স্বাচ্ছন্দ ও স্বতঃস্ফুর্ত অংশগ্রহনে চলছে এই দুর্যোগকালীন (বন্যা) বিদ্যালয়ের শ্রেণি পাঠদান কার্যক্রম। যতদিন বিদ্যালয়ের শ্রেণিকক্ষে পাঠদান কার্যক্রম পুনরায় চালু করা সম্ভব হবেনা ততদিন এই দূর্যোগকালীন (বন্যা) বিদ্যালয়েই সাময়িকভাবে শ্রেণি পাঠদান কার্যক্রম চলমান থাকবে ইনশাআল্লাহ্‌।



ফলাফলঃ

১. বিকল্প উপায়ে শ্রেণি পাঠদান চলমান থাকায় বন্যায় শিক্ষার্থীদের লেখাপড়া চলমান আছে।

২. শিক্ষার্থীদের বাড়িতে লেখাপড়া চালু থাকছে।

৩. বিকল্প উপায়ে পাঠদান চলমান থাকায় শিক্ষার্থীরা স্থায়ী ক্ষতি থেকে রক্ষা পাচ্ছে।

৪. দূর্যোগকালীন (বন্যা) সময়ে শিক্ষার্থী ঝরে পড়া রোধ হবে।

৫. বিদ্যালয় চলাকালীন সময়ে অভিভাবকরা নিশ্চিন্তে থাকতে পারছে।

৬. বন্যার দূষিত পানি ও রোগ জীবানু থেকে শিক্ষার্থীরা রক্ষা পাচ্ছে ।

৭. শিক্ষার্থীরা প্রাকৃতিক দূর্যোগ (বন্যা) সম্পর্কে এবং এর ক্ষতি ও করণীয় সম্পর্কে জানতে পারছে।

৮. প্রতিকূল পরিবেশের সাথে শিক্ষার্থীরা নিজেদেরকে খাপ খাওয়ানোর অভিজ্ঞতা অর্জন করছে।

মন্তব্য করুন