Loading..

উদ্ভাবনের গল্প

রিসেট

০৪ আগস্ট, ২০২৪ ১০:৫৯ পূর্বাহ্ণ

উদ্ভাবনের গল্প(পাঠের অভ্যাস বৃদ্ধি)

আমি সান্দিকোনা স্কুল এ্যান্ড কলেজে সহকারী প্রধান হিসাবে যোগদানের পর সার্বিক উন্নয়নের জন্য যে সকল বিষয়ে উদ্ভাবনী পদক্ষেপ গ্রহণকরি তারমধ্যে অন্যতম ছিল শিক্ষার্থীদের পাঠমুখী করা, বই মুখি করা। এজন্য আমি পড়ার দক্ষতা উন্নয়নের জন্য চিন্তা করি এমন একটি কাজ করতে হবে যে কাজে শিক্ষক-শিক্ষার্থীর পড়ার আগ্রহ বৃদ্ধি পায়। এজন্য আমি পাঠ্য বইয়ের বাইরে পত্রিকা পড়াকে বেছে নিলাম। কিন্তু সমস্যা হলো প্রতিষ্ঠানে একটি জাতীয় ও একটি স্থানীয় পত্রিকা রাখা সত্ত্বেও পড়ার আগ্রহ খুবই কম। লাইব্রেরীতে রাখলেও শিক্ষার্থীদের খুব কম পড়তে দেখা যায়।

চিন্তা ভাবনা করে একটি দৃষ্টি নন্দন টেবিল তৈরি করার সিদ্ধান্ত নিলাম। টিচার্স ট্রেনিং কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে পত্রিকার পড়ার যে ব্যবস্থা সেটাকে অনুকরণ করলাম। এ ব্যাপারে আমার সহকর্মী বড়ভাই সহকারী অধ্যাপক জনাব কামরুল কবীর ভূঞা পল্টু ভাই খুব সাপোর্ট করেন। তার প্রেরণায় আমাদের কেন্দুয়া বাজারে আমাদের সমবয়সী স্বপন মিস্ত্রির কাছে যাই। ড্রয়িং করে তাকে কোন মতে বুঝাতে সক্ষম হই কি করতে হবে।

পরবর্তীতে স্বপন কাঠ ক্রয় করে আমাকে ডাকে। আবারো তাকে মধ্যরাত পর্যন্ত ডিজাইন, উচ্চতা, পত্রিকা কিভাবে থাকবে, কিভাবে আটকাতে হবে ইত্যাদি বুঝাই। এবার সে ধরতে পারে এবং কাজ শুরু করে। তারপর থেকে নিয়মিত ডাকে, দেখায় কেমন হচ্ছে, কোন কারেকশন আছে কিনা ইত্যাদি। উল্লেখ্য, স্বপন মিস্ত্রি অনেক সুন্দর সুন্দর ডিজাইনের ফার্নিচার তৈরি করলেও এই টেবিল তার জীবনে প্রথম।

সব মিলিয়ে প্রায় একমাস সময় লাগে। বহু প্রত্যশিত পত্রিকার পড়ার টেবিল প্রতিষ্ঠানে যায়। উদ্ভাবনী আইডিয়ার জন্য গভর্ণিং বডির সভাপতি লে. এবিএম আব্দুল্লাহ্(অব.) আমাকে ধন্যবাদ জানান, খুব খুশি হন। সুযোগ্য অধ্যক্ষ জনাব বাবুল আহমেদ স্যার খুব খুশি হন এবং ব্যয় পরিশোধের খাত দেখিয়ে দেন।

তারপর পত্রিকা পড়ার টেবিল পরীক্ষামূলক ভাবে বারান্দার রাখি। দেখা যায় শিক্ষার্থী-শিক্ষক সবাই এখানে একটু সময়ের জন্য হলেও দাঁড়িয়ে পত্রিকাটি পড়েন। ধীরে ধীরে পাঠকের সংখ্যা বৃদ্ধি পায়। শিক্ষার্থীরা আরো একটি টেবিলের আবদার জানায়।

সবাই এটি ব্যবহার করে বা সবাই পত্রিকা পড়ে বিষয়টা এমন নয় তবে প্রতিদিন লক্ষ্য করেছি কিছু শিক্ষার্থী পত্রিকাটি পড়ে যা আগে পড়তো না এবং টেবিলের উপর পড়ে থাকলেও হাত দিতো না, এখন সেই সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে। আগে পত্রিকাটি অবহেলায় পরে থাকতো যা এখন থাকে না, আমি এটাকে সফলতা মনে করি। পড়ার সাথে রিডিং স্কিল ও সাধারণ জ্ঞান বৃদ্ধি পাচ্ছে, কিছু সময় হলেও এখানে পড়ছে। আমাদের কেন্দুয়া উপজেলায় এই ব্যবস্থা আর কোন প্রতিষ্ঠানে নাই। স্কুল-কলেজ-মাদ্রাসা মিলিয়ে 59টি প্রতিষ্ঠান রয়েছে এই উপজেলায়।

তবে আমার প্রতিষ্ঠানে আসা অন্য প্রতিষ্ঠানের অনেক শিক্ষক এই উদ্ভাবনী আইডিয়ার প্রশংসা করেন এবং নিজেরাও সুযোগ হলে এমনটা করবেন বলে জানান।

এমন আরো অনেক ছোট-খাটো উদ্দ্যোগ রয়েছে যা আমি নিয়েছি। ইনশাল্লাহ্ পর্যায়ক্রমে শেয়ার করবো।

 

মোঃ আনোয়ার উদ্দীন হিরন

সহকারী প্রধান শিক্ষক

সান্দিকোনা স্কুল এ্যান্ড কলেজ

কেন্দুয়া, নেত্রকোণা।

04-08-2024

 

মন্তব্য করুন