Loading..

পাঠসংশ্লিষ্ট ছবি/ইমেজ

রিসেট

২৭ আগস্ট, ২০২৪ ১০:৫৯ পূর্বাহ্ণ

সিন্ধু সভ্যতার সময়কার এক গুরুত্বপূর্ণ বন্দর হিসেবে ইতিহাসের পাতায় ঠাঁই নিয়েছে ‘লোথাল’। গুজরাটি ভাষায় ‘লোথ’ শব্দের অর্থ ‘মৃতের স্তূপ’।

সিন্ধু সভ্যতার সময়কার এক গুরুত্বপূর্ণ বন্দর হিসেবে ইতিহাসের পাতায় ঠাঁই নিয়েছে ‘লোথাল’। গুজরাটি ভাষায় ‘লোথ’ শব্দের অর্থ ‘মৃতের স্তূপ’। কথিত আছে, মৃত মানুষের ইতিহাস নাকি ছুঁয়ে দেখা যায় এই প্রত্ন ক্ষেত্রে। ‘মহেনজোদাড়ো’ শব্দের অর্থও ‘মৃতের স্তূপ’। লোথালের অবস্থান ছিল গুজরাটের সৌরাষ্ট্র অঞ্চলের সবরমতীর উপনদী ভোগাবোর উপত্যকায়। এলাকাটিকে গুজরাটি ভাষায় ‘ভাল্’ বলে ডাকা হয়। বর্ষার পানিতে এই বন্দরের প্রায় সবটাই ডুবে যায়, ভেসে থাকে শুধু গ্রামগুলো। ধারণা করা হয়, লোথাল একটি আন্তঃবন্দর ছিল। .

প্রাচীন বন্দর হিসেবে অতীতে লোথাল বন্দরের গুরুত্ব ছিল অপরিসীম। লোথাল গুজরাটের প্রাচীন কাম্বে এবং বর্তমানে খাম্বাটের সন্নিকটে অবস্থিত। এখানকার জমি ছিল লবণাক্ত। সেই যুগে এখানে বাবলা আর তেঁতুল গাছের প্রাধান্য ছিল বেশি। এর কাছাকাছি নাল সরোবর নামে একটি জলাভূমি অবস্থিত। ধারণা করা হয়, কাম্বে উপসাগর থেকে একটি খাঁড়ি মূল ভূখণ্ডে প্রবেশ করত। সেখান থেকে লোথালে প্রবেশের একটি জলপথ ছিল। মূল কেন্দ্রটি ৪০০×৩০০ মিটার এবং ১৩ মিটার চওড়া ইটের দেয়াল দিয়ে ঘেরা ছিল। ঠিক কোন উদ্দেশ্য নিয়ে এই দেয়ার নির্মাণ করা হয়েছিল, তা এখনো অজানা।

কেন্দ্রটি পুরনো একটি নদীখাতে অবস্থিত। এই নদীখাতকে ঘিরে একটি শহরের গোড়াপত্তন হয়েছিল। কেন্দ্রের দক্ষিণ-পূর্ব অঞ্চলকে অ্যাক্রোপলিস বলা হচ্ছে, আর বাকি অংশটুকু হলো নিম্ন-শহর। শহরের শাসকরা অ্যাক্রোপলিসে বাস করতেন। এখানে পাকা স্নানাগার, নোংরা জল ও ময়লা নিষ্কাশনের জন্য নর্দমা, পানীয় জলের কূপ, গুদামঘর অবস্থিত ছিল। নিম্ন শহর দুই ভাগে বিভক্ত ছিল। এর মধ্যে একটি ছিল প্রধান বাণিজ্যিক এলাকা। এখানে ধনী, সাধারণ ব্যবসায়ী এবং কারিগরেরা বাস করত। আবাসিক এলাকাটি বাজারের উভয় পাশে অবস্থিত ছিল। লোথালের সমৃদ্ধির বছরগুলোতে নিম্ন শহরটি পর্যায়ক্রমে প্রসারিত হয়েছিল। এখানে সন্ধানে মিলেছে একাধিক পাকা সড়কের। এর মধ্যে একটি সড়ক ১৩ মিটার প্রশস্ত। একসময় সিন্ধু সভ্যতার বণিকদের কোলাহলে মুখরিত থাকত এই স্থান।

মন্তব্য করুন

সম্পর্কিত পোস্ট