সহকারী শিক্ষক
২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৪ ১১:০০ পূর্বাহ্ণ
সহকারী শিক্ষক
ধরনঃ সাধারণ শিক্ষা
শ্রেণিঃ নবম
বিষয়ঃ শিল্প ও সংস্কৃতি
অধ্যায়ঃ অধ্যায় ২
বিশ শতকের প্রথমার্ধে আবির্ভূত বাংলা সাহিত্য সরণির বিশিষ্ট পথিক বর্গের মধ্যে এক অবিস্মরণীয় নাম লীলা মজুমদার। তদানীন্তন মহিলা সাহিত্যিক মহলে ও এক ব্যতিক্রমী ধারার স্রষ্টা।তার পূর্বসূরি এবং সমকালীন লেখিকা বৃন্দের কলমে যখন উঠে আসে ইতিহাস -কল্পনার বর্ণময় জগত, সামাজিক সংকট, নারী মনস্তত্ত্ব, সেখানে তিনি এক ভিন্ন পথের দিশারী। শিশুমন, প্রাচ্য-পাশ্চাত্য জীবনধারার সংঘাত তার সাহিত্যের বিষয় হয়ে ওঠে বিশেষ করে উপন্যাস গুলিতে। প্রখ্যাত সাহিত্য সমালোচক শ্রীকুমার বন্দ্যোপাধ্যায় এর কথায়--"লীলা মজুমদার একটি বিশেষ সমাজের বিশেষ সম্প্রদায়ভুক্ত বর্ষিয়সী নারী গোষ্ঠীর মনের চিত্র আঁকিয়া উপন্যাস ক্ষেত্রে কিছুটা নূতনত্বের প্রবর্তন করিয়াছেন। ইহার ঔপন্যাসিক মূল্য ছাড়াও একটি সমাজ পরিচয় গত মূল্য আছে।"
সাহিত্যিক পরিমণ্ডলে ঘেরা বিখ্যাত রায়চৌধুরী পরিবারের সুযোগ্যা সন্তান হিসেবে লীলা মজুমদার ১৯০৮ সালের ২৬ শে ফেব্রুয়ারি জন্মগ্রহণ করেন। মা সুরমা দেবী, বাবা ভারতীয় জরিপ বিভাগের অফিসার ও বিশিষ্ট সাহিত্যিক প্রমদা রঞ্জন রায়, দুঃসাহসিক অভিযান প্রেমী কর্মজীবনে বেশিরভাগ সময় ভারত ও বর্মার ঘন অরণ্যে ঘুরে বেড়িয়েছেন। তার বিচিত্র অভিজ্ঞতার কাহিনী ও উঠে এসেছে তাঁর কন্যা স্বনামধন্যা লেখিকা লীলা মজুমদারের লেখনীতে। লেখিকা হিসেবে যেমন তার সমধিক পরিচিত ছিল, তেমনি সফল ছিলেন পত্রিকা সম্পাদনার ক্ষেত্রেও।দীর্ঘ সময় জুড়ে শিশুদের জন্য প্রকাশিত উল্লেখযোগ্য পত্রিকা "সন্দেশের "যুগ্ম সম্পাদিকা ছিলেন। জ্ঞান ও অনুভূতির মেলবন্ধনে তিনি হয়ে উঠেছেন অনন্যা। প্রখর বুদ্ধিমত্তার সঙ্গে শিক্ষাজীবন সম্পূর্ণ করে শিক্ষকতাকে পেশা হিসেবে গ্রহণ করেন এবং সৃষ্টির অবিরাম ধারাকে অব্যাহত রাখেন আমৃত্যু।