সিনিয়র শিক্ষক
২২ নভেম্বর, ২০২৪ ০৯:২৬ অপরাহ্ণ
সিনিয়র শিক্ষক
ধরনঃ সাধারণ শিক্ষা
শ্রেণিঃ সপ্তম
বিষয়ঃ ইতিহাস ও সামাজিক বিজ্ঞান
অধ্যায়ঃ অধ্যায় ৪
সাইমন ড্্রিিং: বাংলাদেশের বন্ধু
ব্রিটিশ সাংবাদিক সাইমন ড্্রিিংকে বলা হয় বাংলাদেশের একজন ‘প্রকৃত বন্ধু’।
১৯৭১ সালে সাইমন ড্্রিিং ২৬ বছরের একজন তরুণ সাংবাদিক। ঢাকায় এসেছিলেন পাকিস্তানের গণতন্ত্রে
উত্তরণের সংকট কীভাবে সমাধান হচ্ছে তার খবর সংগ্রহ করতে। আরও কয়েকজন বিদেশি সাংবাদিকদের
সঙ্গে তিনি ছিলেন হোোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে।
কিন্তু পঁচিশে মার্্চ পা র্্চ কিস্তানিরা সব বিদেশি সাংবাদিকদের ঢাকা ছেড়ে যাওয়ার নির্্দদেশ দিয়েছিল। পাকিস্তানি
সামরিক কর্্মকর্্ম র্্ততা রা পাহারা দিয়ে তাদের বিমান বন্দরে পৌৌঁঁছে দিচ্ছিল। তরুণ সাইমন ড়্্রিিংক আঁচ করতে
পেরেছিলেন যে ঢাকায় বড় ধরনের কোোনোো ঘটনা ঘটতে যাচ্ছে, যা সরকার বিদেশিদের কাছে গোোপন করতে
চায়। তখনই তিনি ঠিক করলেন যেভাবে হোোক খবরটা তাাঁকে সংগ্রহ করতে হবে।
পাকিস্তানি সামরিক সদস্যদের চোোখকে ফাাঁকি দিয়ে সাইমন ড্্রিিং ৩২ ঘণ্টার বেশি সময় হোোটেলে লুকিয়ে
ছিলেন। উদ্দেশ্য একটাই, পাকিস্তানের হিংসাত্মক ঘটনার খবর তিনি বিশ্ববাসীকে জানাবেন। ২৭ ঘণ্টা পরে
যখন কারফিউ বা সান্ধধ্য আইন তুলে নেওয়া হয় তখন তিনি রাস্তায় টহলরত মিলিটারির চোোখ এড়িয়ে
পথে নামলেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, রাজারবাগ পুলিশ লাইন এবং পুরানোো ঢাকার কিছু জায়গা থেকে তিনি
গণহত্্যযা ও ধ্বংসযজ্ঞের ছবি তুললেন, খবর সংগ্রহ করলেন।
তাাঁর আসল কাজ তোো হলোো, এবার অবরুদ্ধ দেশ থেকে যত দ্রুত সম্ভব বেরোোতে হবে, কারণ খবরটা তোো
বিশ্ববাসীকে জানাতে হবে। নানা কৌৌশলে, এমনকি তথ্য টুকে রাখা কাগজ, ছবির নেগেটিভ মোোজার মধ্যে
লুকিয়ে রেখে.কোোনোো মতে বিমানে উঠে অবরুদ্ধ দেশ ছেড়ে সাইমন ব্্যাাংকক পৌৌঁঁছান।
ব্্যাাংকক থেকেই তিনি তাাঁর বিখ্যাত প্রতিবেদন ‘পাকিস্তানে ট্্যাাংকের নিচে বিদ্্ররোহ দমন’ শিরোোনাম পাঠিয়ে
দেন তাাঁর পত্রিকা লন্ডনের দ্য ডেইলি টেলিগ্রাফে। এটি ২৯ মার্্চ প্রকাশিত হয়। র্্চ
প্রতিবেদনটির শুরুর বাক্্য ছিল এ রকম- সৃষ্টিকর্্ততা এবং ঐক্্যবদ্ধ পাকিস্তানের নামে ঢাকা আজ বিধ্বস্ত ও
ভয়ার্্ত এক র্্ত শহর। চব্বিশ ঘণ্টা ধরে ঠান্ডা মাথায় বর্্বরভা বর্্ব বে কামানের গোোলার আঘাতে ঢাকায় এক রাতে
অন্তত ৭০০০ মানুষ প্রাণ হারিয়েছে, বিভিন্ন এলাকার ঘরবাড়ি গুুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে এবং পূর্্ব পা র্্ব কিস্তানের
স্বাধীনতার সংগ্রামকে শেষ করে দেওয়া হয়েছে।
সে রাতের বিধ্বস্ত, অগ্নিদগ্ধ, স্তুপিকৃত লাশের এক শহর দেখে তাাঁর মনে হয়েছিল আমাদের স্বাধীনতার
সংগ্রাম তখনকার মতোো শেষ। কিন্তু এই খবর এবং তার সাথের ছবিগুলোো বিশ্ববাসীর কাছে এই বাংলায়
পাকিস্তানিদের চালানোো ভয়ঙ্কর হত্্যযাকাণ্ড ও ধ্বংসযজ্ঞ সম্পর্্ককে সুস্পম্পর্্ককে ষ্ট বার্্ততা দিয়েছিল। এটি মুক্তিযুদ্ধে
আমাদের পক্ষে বিশ্ব জনমত গঠনে সহায়ক হয়েছিল।
সাইমন ড্্রিিং সারা জীবনে ভিয়েতনাম যুদ্ধসহ পৃথিবীর নানা প্রান্তে ২০টি যুদ্ধ ও বিপ্লবের খবর সংগ্রহ করে
বিভিন্ন পত্রিকায় ছাপিয়েছিলেন, টিভিতে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছিলেন। ২০২১ সালে ৭৬ বছর বয়সে তাাঁর
মৃত্যু হয়।
77
wkÿvel© 2024
ইতিহাস ও সামাজিক বিজ্ঞান