সহকারী প্রধান শিক্ষক
১৮ ডিসেম্বর, ২০২৪ ০৪:৫৬ অপরাহ্ণ
সহকারী প্রধান শিক্ষক
নেতৃত্বের গল্প(স্কুলে আমবাগান ও শিক্ষার্থীর ইতিবাচক পরিবর্তন)
সান্দিকোনা উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়(স্কুল এন্ড কলেজ) এ সহকরী প্রধান শিক্ষক হিসাবে যোগদানের দিন থেকেই বিভিন্ন রকম স্বপ্ন বুনা শুরু করি। সেই স্বপ্নের এক পর্যায়ে আমবাগান করার কথা মাথায় আসলো।
স্কুল ক্যাম্পসের বাউন্ডারীর ভিতরে মাঠের উত্তর দিকে অনেকটা খালি নিচু পরিত্যক্ত জায়গা ছিলো। প্রায় দশ শতাংশের মতো হবে। অধ্যক্ষ স্যারের সাথে পরামর্শ করে আমের চারা লাগানোর উদ্দ্যোগ নেই। স্যার সম্মত হয়ে হোসাইন আহমদ নামক একজন প্রভাষককে চারা কেনার দায়িত্ব দেন।
বিভিন্ন রকমের প্রতিবন্ধকতার কথা শোনা যায়। যার মধ্যে অন্যতম ছিল শিক্ষার্থীরা এগুলো রাখবে না, আম কড়ি থাকা অবস্থায় শেষ হয়ে যাবে। রেন্ট্রি জাতীয় গাছ লাগালে লাভবান হবে ইত্যাদি। কোন কিছু কর্ণপাত না করে আম বাগানের দিকে ঝুঁকলাম। ৬০টির মতো ভিবিন্ন প্রজাতির চারা লাগালাম। বর্তমানে ৫৫টি টিকে আছে এবং একবছরে ১২টিতে ফলন এসেছে। আশাকরি আগামীবছর সবগুলো ফলন আসবে।
সামান্য পরিচর্যা করা হলো। কিছু শিক্ষার্থীকে নিয়ে কাজ করার উদ্দ্যেগ নেই। ওদের নিয়ে ছবি তুলি ভিডিও বানাই। এভাবে ওদের বাগানের সাথে যুক্ত করলাম।
কয়েকমাস পর দেখা
গেল ১৫-২০টির মতোগাছে মুকুল আসলো। মুকুল আমি কড়িতে(ছোট্ট সাইজ আম) রূপান্তর হলো। এবারে
রক্ষা করার জন্য আরো চ্যালেঞ্জ বেড়ে গেল। প্রতিদিন স্কুল-কলেজ মিলে ৬শতাধিক শিক্ষার্থীর
আনাগোনায় এমন পরিবেশে আম বাগানে আম টেকানো খুবই কঠিন। আমার প্রচেষ্টা ও শিক্ষার্থী মোটিভেশন দেখে প্রিন্সিপাল স্যার এই বাগানকে ‘‘সান্দিকোনা স্কুল এন্ড কলেজ অম্রকানন’’ হিসাবে নামকরণ করেছেন।
তারপরেও প্রত্যাশিত সাফল্য আসলো। অনেকগুলো গাছে ফলন আসে, তার মধ্যে ১২টি গাছের আম টিকে যায়, তবে সংখ্যায় কম-বেশি ছিল। তার বেশিরভাগ আমার শিক্ষার্থীরাই রক্ষা করে। বড় হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করে। কোন গাছ বা আম নষ্ট করেনি। ভিডিওতে আছে বিস্তারিত।
কিভাবে এমন ইতিবাচন পরিবর্তন শিক্ষার্থীর মাঝে আসলো তা আমিও জানি না। তবে প্রতিটি ক্লাসে বিশেষ করে আমার ক্লাসে বাগান, আম, সবুজায়ন, শিক্ষার্থীর নৈতিক দায়িত্ব এসব নিয়ে কথা বলতাম। ওরা একটা আম ছিড়ার প্রস্তাব করলে বড় হওয়া, আটি হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করতে বলতাম।
পরিশেষে মনো হলো
উদ্দ্যোগ নিলে সামান্য হলেও সফলতা আসে। দুষ্ট শিক্ষার্থীর সাথে অনেক ভাল শিক্ষার্থী
রয়েছে। তারা সজাগ দৃষ্টি রাখে সকল ক্ষেত্রেই। তারা পুরো বাগান রক্ষা করে অনন্য উদাহরণ
রচনা করলো।
সহকারী প্রধান শিক্ষক হিসাবে আমার সংক্ষিপ্ত সময়ে অনেক প্রত্যাশিত পরিরর্তন প্রতিষ্ঠানে করতে সক্ষম হয়েছি। এখানে সঠিক নেতৃত্ব একটি বড় ব্যপার। যার মধ্যে ক্লাস,পড়াশুনার মান, শিক্ষার্থীর মানসিকতার পরিবর্তন এবং সবুজ ও পরিচ্ছন্ন স্কুল ক্যাম্পাস।
ইনশাল্লাহ্ ধারাবাহিক সকল পরিবর্তন নিয়ে লিখবো।
শিক্ষকের সফলতা, নেতৃত্বের গল্প তুলে ধরার মাধ্যমে নতুন প্রজম্মকে উৎসাহিত করার যে সুযোগ এটুআই ও শিক্ষক বাতায়ন দিয়েছে তার জন্য আমি কৃতজ্ঞ।
মো. আনোয়ার উদ্দীন হিরন
সহকারী প্রধান শিক্ষক
সান্দিকোনা উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়(স্কুল এন্ড কলেজ)
কেন্দুয়া, নেত্রকোণা।
01711129709