সহকারী শিক্ষক
২০ ডিসেম্বর, ২০২৪ ১০:৩৪ পূর্বাহ্ণ
সহকারী শিক্ষক
বাস ভাড়া করে শিক্ষার্থীদের নিয়ে ঐতিহাসিক স্থানে প্রাথমিক বিদ্যালয় পর্যায়ে শিক্ষাসফর সম্ভবত এটাই প্রথম। খুব কম সংখংখ্যক বিদ্যালয়ই শিক্ষাসফর করেছ যারাও করেছে তারা কোন বিনোদন স্পট বা পার্কে গিয়েছেন আবার বাস ভাড়া করেও যাননি। তাই আমি বলব এই শিক্ষাসফর টি এই দুটি দিক দিয়ে অনন্য।
এই সফরের আগে শিক্ষাসফরের আদব বা শিষ্টাচারের উপর একটি ক্লাস নেওয়া হয়েছে যার ফলে শিক্ষার্থীরা খুব সুন্দর ও সফল ভাবে সফর সম্পন্ন করতে পেরেছে।এই সফরটি যে স্থানে করা হয়েছে সেটি ১৭৮০ সালে অর্থাৎ প্রায় ২৫০ বছর আগে চন্দ্রদ্বীপের রাজা শিব নারায়ন এর খননকৃত একটি দীঘি। যার আয়তন প্রায় ২৮ একর এছাড়াও এই এলাকার মোট আয়তন ৪৫ একর। এটি পরিযায়ী পাখির একটি অভয়ারন্য ও এবং বরিশাল বিভাগের একমাত্র মিনি চিড়িয়াখানা ও বটে । এখানে চিত্রা হরিণ, বানর, ময়ূর ,অস্ট্রিচ সহ বিভিন্ন ধরনের পাখি রয়েছে এছাড়াও আছে একটি ছোট শিশুপার্ক। এই দীঘিটি মুলত এই এলাকার সুপেয় পানির অভাব দূর করার জন্য খনন করা হয়েছিল, যদিও এই দীঘি নিয়ে অনেক মিথ প্রচলিত রয়েছে। এই দীঘিটির গুরুত্বের কারনে বরিশাল জেলার , জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের ওয়েব সাইটের উপরেই এই দীঘির ছবি রয়েছে।
এই শিক্ষাসফরের মাধ্যমে কয়েকটি প্রচলিত আচলায়তন ভেঙ্গে গিয়েছে এবং আরও কিছু সুফল পাওয়া গিয়েছে সেগুলো হচ্ছে এক, শিক্ষকদের আন্তরিকতা থাকলে যে কোন গরীব বা আজপাড়াগাঁয়ের বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের নিয়ে শিক্ষাসফরে যাওয়া যায়। দুই, বেশির ভাগ প্রাইমারি শিক্ষক মনে করেন চাঁদা দিয়ে শিক্ষার্ত্থীরা শিক্ষাসফরে যাবে না, এই ভুল ধারনা দূর হয়েছে। তিন, ছোট শিশুদের ম্যানেজ করা অত্যন্ত কষ্টকর কাজ এবং এদের নিয়ে দূরে যাওয়া যায় না এই ধারনা দূর হয়েছে।চার, প্রাইমারি বিদ্যালয়ে সব সেবাই বিনামূল্যে পাওয়া যায় এই ধারনা থেকে অভিভাবকরা বের হয়েছেন। পাচ, শিক্ষকদের সাথে যে দূরে কোথায়ও যাওয়া যায় এই ধারনা পোক্ত হয়েছে। ছয়, ভ্রমনের মাধ্যামে যে জ্ঞান অর্জন করা যায় ও শৃংখলা শেখা যায় তা শিক্ষার্থীরা বুঝতে পেরেছে। সাত, অনান্য বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের এটা দেখে আগ্রহ সৃষ্টি হয়েছে এবং ইতিবাচক অনুরনন তৈরি হয়েছে। যা আমাকে অনেক শিক্ষক ফোনে জানিয়েছে এবং তারা আগামী বছর শিক্ষা সফর করবেন ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন এছাড়াও এই সফর করার পদ্ধতি ও কৌশল জেনেছেন আট, শিক্ষার্থীদের চিন্তার জগতে এক অভূতপূর্ব ইতিবাচক পরিবর্তন হয়েছে। সর্বোপরি শিক্ষক-শিক্ষার্থী-অভিভাবক আন্তরিকতা ও হৃদ্যতা অনেক বৃদ্ধি পেয়েছে।
এগুলো সবই আমাদের স্বপ্নের বিদ্যালয় গড়তে সাহায্য করবে বলে আশা করা যায়।
যে কোন প্রয়োজনে
মো. মশিউর রহমান
সহকারী শিক্ষক
বীর মুক্তিযোদ্ধা মতিউর রহমান সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়
বাকেরগঞ্জ, বরিশাল।
মোবাইলঃ ০১৮৬০৩২৩৯২৭