সহকারী শিক্ষক
২৩ ডিসেম্বর, ২০২৪ ১০:০৩ অপরাহ্ণ
সহকারী শিক্ষক
ধরনঃ সাধারণ শিক্ষা
শ্রেণিঃ তৃতীয়
বিষয়ঃ প্রাথমিক গণিত
অধ্যায়ঃ অধ্যায় ২
#বিভাজ্যতার সূত্র বলতে এমন নিয়ম বা পদ্ধতিকে বোঝায় যা কোনো সংখ্যা অন্য কোনো সংখ্যা দ্বারা বিভাজ্য কি না তা নির্ধারণ করতে সাহায্য করে। এখানে কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিভাজ্যতার সূত্র দেওয়া হলো:
#২ দ্বারা বিভাজ্যতা: যদি কোনো সংখ্যার একক স্থানীয় অংকটি ০ বা জোড় হয়, তবে সংখ্যাটি ২ দ্বারা বিভাজ্য। যেমনঃ ৫০, ৫৪।
#৩ দ্বারা বিভাজ্যতা: যদি কোনো সংখ্যার সব অংকের যোগফল ৩ দ্বারা বিভাজ্য হয়, তবে সংখ্যাটি ৩ দ্বারা বিভাজ্য। যেমনঃ ২৪৬= ২+৪+৬= ১২, যা ৩ দ্বারা বিভাজ্য। তাই ২৪৬ সংখ্যাটি ৩ দ্বারা বিভাজ্য।
#৪ দ্বারা বিভাজ্যতা: যদি সংখ্যাটির শেষ দুটি অংক ৪ দ্বারা বিভাজ্য হয় অথবা শেষ দুটি অংক ০০ হয়, তবে সংখ্যা ৪ দ্বারা বিভাজ্য। যেমনঃ ১৫০০ এর শেষে ০০ আছে তাই এটি ৪ দ্বারা বিভাজ্য। ২৩২৮ এর একক ও দশক স্থানীয় অংক দ্বারা গঠিত ২৮ সংখ্যাটি ৪ দ্বারা বিভাজ্য তাই ২৩২৮, ৪ দ্বারা বিভাজ্য।
#৫ দ্বারা বিভাজ্যতা: যদি কোনো সংখ্যার একক স্থানীয় অংকটি ০ বা ৫ হয়, তবে সংখ্যা ৫ দ্বারা বিভাজ্য।
#৬ দ্বারা বিভাজ্যতা: যদি কোনো সংখ্যা ২ এবং ৩ উভয় দ্বারা বিভাজ্য হয়, তবে সংখ্যাটি ৬ দ্বারা বিভাজ্য। অর্থাৎ কোনো জোড় সংখ্যা যদি ৩ দ্বারা বিভাজ্য হয় (জোড় সংখ্যার অংকগুলোর যোগফল ৩ দ্বারা বিভাজ্য হলে) সংখ্যাটি ৬ দ্বারাও বিভাজ্য হবে। যেমনঃ ১২০০, ৭৮১২।৭৮১২ সংখ্যাটির একক স্থানীয় অঙ্ক ২, যা জোড় সংখ্যা হওয়ায় ২ দ্বারা বিভাজ্য এবং সংখ্যাটির অঙ্কগুলোর যোগফল (৭ + ৮ + ১ + ২) = ১৮, যা ৩ দ্বারা বিভাজ্য। ৭৮১২ সংখ্যাটি ৬ দ্বারা বিভাজ্য।
#৭ দ্বারা বিভাজ্যতা :
#সূত্র – ১ : একক স্থানীয় অঙ্কটিকে ২ দিয়ে গুণ করে, গুণফলকে বাকি সংখ্যা থেকে বিয়োগ করি। বিয়োগফল ৭ দ্বারা বিভাজ্য হলে ঐ সংখ্যাটিও ৭ দ্বারা বিভাজ্য। যেমন : ৮৫৪-এর ক্ষেত্রে, ৮৫ – (৪ × ২) = ৮৫ – ৮ = ৭৭। এখানে ৭৭ সংখ্যাটি ৭ দ্বারা বিভাজ্য হওয়ায় ৮৫৪ সংখ্যাটিও ৭ দ্বারা বিভাজ্য হবে।
বড়ো সংখ্যার ক্ষেত্রে একই নিয়মের পুনরাবৃত্তি করতে হবে।
যেমনঃ ২৩৪৫৭ঃ ২৩৪৫৭-এর ক্ষেত্রে, ২৩৪৫ – (৭ × ২) = ২৩৩১।এরপর ২৩৩১-এর ক্ষেত্রে, ২৩৩ – (১ × ২) = ২৩১। এখন ২৩১-এর ক্ষেত্রে, ২৩ – (১ × ২) = ২১। ২১ সংখ্যাটি ৭ দ্বারা বিভাজ্য হওয়ায়, ২৩৪৫৭-সংখ্যাটিও ৭ দ্বারা বিভাজ্য।
#সূত্র ২ : একক স্থানীয় অঙ্কটিকে ৫ দিয়ে গুণ করে, গুণফলকে বাকি সংখ্যার সাথে যোগ করি। যোগফল ৭ দ্বারা বিভাজ্য হলে ঐ সংখ্যাটিও ৭ দ্বারা বিভাজ্য। যেমন : ৮৫৪-এর ক্ষেত্রে, ৮৫ + (৪ × ৫) = ৮৫ + ২০ = ১০৫। এরপর ১০৫-এর ক্ষেত্রে, ১০ + (৫ × ৫) = ১০ + ২৫ = ৩৫। ৩৫ সংখ্যাটি ৭ দ্বারা বিভাজ্য হওয়ায় ৮৫৪ সংখ্যাটিও ৭ দ্বারা বিভাজ্য হবে।
#৮ দ্বারা বিভাজ্যতা: যদি কোনো সংখ্যার শেষ তিনটি অংক ৮ দ্বারা বিভাজ্য হয় অথবা শেষ তিনটি অংক ০০০ হয়, তবে সংখ্যাটি ৮ দ্বারা বিভাজ্য। যেমন : ১০০০, ২০০০,... আবার ১২৩৪৪ সংখ্যার শেষ তিনটি অঙ্কের দ্বারা গঠিত সংখ্যা হলো ৩৪৪। যেহেতু ৩৪৪ সংখ্যাটি ৮ দ্বারা বিভাজ্য, সুতরাং ১২৩৪৪ সংখ্যাটিও ৮ দ্বারা বিভাজ্য।
#৯ দ্বারা বিভাজ্যতা: যদি কোনো সংখ্যার সব অংকের যোগফল ৯ দ্বারা বিভাজ্য হয়, তবে সংখ্যাটি ৯ দ্বারা বিভাজ্য। (৩ এর মতো)
#১০ দ্বারা বিভাজ্যতা: যদি কোনো সংখ্যার একক স্থানীয় অংকটি ০ হয়, তবে সংখ্যা ১০ দ্বারা বিভাজ্য।
#১১ দ্বারা বিভাজ্যতা: যদি সংখ্যার বিজোড় স্থানীয় অংকগুলোর যোগফল ও জোড় স্থানীয় অংকগুলোর যোগফলের ব্যবধান ১১ দ্বারা বিভাজ্য হয় অথবা শূন্য হয়, তবে সংখ্যা ১১ দ্বারা বিভাজ্য। যেমনঃ
১৪৬৩= (১+৬) - (৪+৩) =৭-৭= ০ অর্থাৎ, ১৪৬৩ সংখ্যাটি ১১ দ্বারা বিভাজ্য হবে।
এই সূত্রগুলো ব্যবহার করে সহজে নির্ধারণ করা যায় যে কোনো সংখ্যা নির্দিষ্ট সংখ্যা দ্বারা বিভাজ্য কি না।