Loading..

নেতৃত্বের গল্প

রিসেট

২৪ ডিসেম্বর, ২০২৪ ০৭:১৭ অপরাহ্ণ

নেতৃত্বের গল্প (শিক্ষার্থীদের পাঠাভ্যাস বৃদ্ধিতে বইপড়া কর্মসূচী)

নেতৃত্বের গল্প(শিক্ষার্থীদের পাঠাভ্যাস বৃদ্ধিতে বইপড়া কর্মসূচী)

পাঠদানে অন্যদের চাইতে কিছুটা বৈচিত্র আনার পর, ক্লাসগুলোকে শিক্ষার্থী কেন্দ্রিক করার পর বই পড়ার অভ্যাস বৃদ্ধির জন্য, পাঠাভ্যাস বৃদ্ধির জন্য কি করা যায় ভাবতে শুরু করলাম।

সিলেটে কর্মরত থাকা অবস্থায় বিকাশ চক্রবর্তী, বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের প্রোগ্রাম সংগঠক এর সাথে আমার ভাল পরিচয় ছিল। আমি বইপড়া কর্মসূচীর সফল ও দক্ষ সংগঠক ছিলাম বিধায় নিয়মিত কথা হতো, আমাকে খুব পছন্দ করতেন। হঠাৎ সেই বিকাশ দাদার কথা মনে হলো।



অনেক খোঁজা খুঁজি করে নাম্বারটা পেলাম। যোগাযোগ করলাম, দাদা অনেক খুশি হলেন সহকারী প্রধান শিক্ষক হিসাবে নিজ এলাকায় বড় একটি প্রতিষ্ঠানে নিয়োগ পাওয়াতে। আমার প্রতিষ্ঠানে কর্মসূচী চালু করার অনুমিত দিলেন এবং ৬ষ্ঠ শ্রেণি থেকে ৯ ম শ্রেণি পর্যন্ত ২০টি করে ৮০টি এবং ১০ম এ ১৬টি মোট ৯৬টি বই দেয়ার ব্যবস্থা করলেন।



আমার প্রতিষ্ঠানের সহকারী শিক্ষক গ্রান্থাগার ও তথ্য বিজ্ঞান তপন চন্দ্র দেবনাথ বাবুকে সংগঠক করে প্রয়োজনীয় ডকুমেন্ট পাঠালাম। সকল শ্রেণির শিক্ষার্থী আমি বাছাই করে দিলাম। সকল ক্লাসেই প্রয়োজনীয় শিক্ষার্থী পেলাম। তারাও খুব একসাইটেড ছিল। কারণ এমন কর্মসূচী কখনো ছিলনা। অনেক গল্পের বই পড়বে, পুস্কার পাবে এসব ভেবে খুশি ছিল সদস্য শিক্ষার্থীরা।

১২টি বই, ১৬টি বই, ১৮টি বই ও ২০টি বই পড়ুয়া শিক্ষার্থীকে পুরস্কার প্রদান করা হবে। পরীক্ষার মাধ্যমে জেনে নেয়া হবে কে কতটি বই পড়েছে। এই বিষয়গুলো আমি বুঝিয়ে দিলাম। বই পড়ার পর একটি নোট লিখতে হতো, বইটি কেন ভাল লেগেছে, বইটি পড়ে কি শিখতে পেরেছে, বই এর ভাললাগার বিষয়গুলো কি এসব বিষয়ে।


শিক্ষার্থীরা কতটা গুরুত্বের সাথে বই পড়ছে এগুলো আমি নিজে চেক করতাম। দায়িত্বপ্রাপ্ত শিক্ষকও চেক করতেন। এভাবে আমার বই পড়া কর্মসূচী চলতে থাকে। যার সুযোগ তৈরি করে দেয় বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র, পাঠাভ্যাস বৃদ্ধিতে দেশ ভিত্তিক উৎকর্ষ কার্যক্রম এর মাধ্যমে।

মোবাইল আসক্তির যুগে আমার শিক্ষার্থীরা পাঠ্য বইয়ের পাশাপাশি অতিরিক্ত বই পড়ছে, নিয়মিত কিছুটা সময় বই পড়াতে দিচ্ছে, অভিভাবকরা আমাকে ফোন দিতেন যে এই বই পড়া কেন, কি হবে এসব সংক্রান্ত। সবগুলো বিষয় আমার খুব পছন্দ হয়, ভাল লাগে যে আমার পদক্ষেপটি সফলতার দিকে এগুচ্ছে। আমি বই পড়া কর্মসূচীকে আরো বেগবান করার জন্য আমার ব্যক্তিগত পুরস্কার প্রদানের উদ্দ্যোগ নিই। স্কুল ব্যাগ, পানির পট, ম্যাডেল এই তিনটি উপকরণ পুরস্কার হিসাবে নির্বাচন করি।



নির্ধারিত সময়ে(নভেম্বর) এর আগেই আমার সদস্যরা প্রতি জনের জন্য নির্ধারিত ২০টি বই পড়ে ফেলে। একটি অভিভাবক মতবিনিয়ম সভায় আমি সদস্য শিক্ষার্থীদের পিতা/মাতার উপস্থিতিতে আমার ব্যক্তিগত পুরস্কার তুলে দেই। উল্লেখ্য, বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র নভেম্বর মাসে বইপড়া শেষে একটি পরীক্ষা নিয়েছে। কতজন পুরস্কার পাবে তার ফলাফল হয়নি। ফলাফল হলে আবারো এটি নিয়ে লিখবো।



প্রতিষ্ঠান ভাল করতে, ভাল রাখতে নেতৃত্ব অবশ্যই একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। আমি নিজে সেটা দেখেছি এবং প্রমাণ পেয়েছি। এক্ষেত্রে বিভিন্ন প্রতিবন্ধকতা আসে তবুও নেতৃত্বেথাকা দক্ষ শিক্ষকরা সেটা ওভারকাম করতে পারেন।

আমার প্রচেষ্ঠায় অনেক ইতিবাচক পরিবর্তন আমার প্রতিষ্ঠানে এসেছে। বই পড়ার মাধ্যমে পাঠ অভ্যাস বৃদ্ধি তার মধ্যে অন্যতম। আগামীতে আরো একটি পদক্ষেপ লিখবো ইনশাল্লাহ।

শিক্ষক বাতায়ন ও এটুআই কে আবারো ধন্যবাদ আমাদের নেতৃত্বের গল্প, সফলতার গল্প শিক্ষক সমাজে উথ্থাপন করতে পারছি যা হয়তো কাউকে অনুপ্রাণিত করবে। এগুলো দেখে কেউ না কেউ নিজেও ভালগুলো নিজ প্রতিষ্ঠানে বাস্তবায়ন করবেন। 



www.sumbk.edu.bd  

এই ওয়েবসাইটে ভিডিও গ্যালারীতে এবং ফটো গ্যালারীতে সকল কার্যক্রমের বিস্তারিত ছবি/ভিডিও পাওয়া যাবে। সময় সুযোগ হলে দেখতে পারেন।



লেখাটি পড়ার জন্য ধন্যবাদ

মো. আনোয়ার উদ্দীন হিরন

সহকারী প্রধান শিক্ষক

সান্দিকোনা উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়(স্কুল এন্ড কলেজ)

কেন্দুয়া, নেত্রকোণা।

01711129709

মন্তব্য করুন