সহকারী প্রধান শিক্ষক
২৮ ডিসেম্বর, ২০২৪ ০৫:৩৩ অপরাহ্ণ
সহকারী প্রধান শিক্ষক
নেতৃত্বের গল্প (ঘন্টা ঝুলানো এবং ঘন্টা বাজানোর মাধ্যমে আমার কাজ শুরু হয়েছিল)
প্রত্যেক শিক্ষকের মতো আমিও অনেক স্বপ্ন নিয়ে সহকারী প্রধান শিক্ষক হিসাবে সান্দিকোনা উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয় (স্কুল এন্ড কলেজ), কেন্দুয়া, নেত্রকোণায় যোগদান করি। অধিকাংশ শিক্ষক আমার পূর্বপরিচিত এবং প্রতিষ্ঠানটি আমার একই উপজেলায় হওয়ায় অনেক কিছুই জানতাম। সেই হিসাবে নির্বাচিত হওয়া এবং যোগানের দিন থেকেই প্রতিষ্ঠান সুন্দর করার, আদর্শ প্রতিষ্ঠানে রূপ দেয়ার ভাবনা শুরু হয়।
প্রথম দিনেই যে বিষয়টা লক্ষ্য করলাম তা হলো স্কুলের ঘন্টাটি অনেক ওজনের এবং এটি ঝুলানোর কোন ব্যবস্থা ছিল না। ধরার জন্য একটু দড়ি বাঁধা ছিল। আলমারী থেকে নিয়ে এসে দড়িতে ধরে বাজাতো। বাজানো শেষে আবার জায়গায় রেখে দিতো।
আমি নিজে একদিন হাতে নিয়ে দেখলাম। অনেক ওজন এবং দশটা বাড়ি দেয়া পর্যন্ত ধরে রাখা কঠিন মনে হলো। কিছু যারা এটা বাজানোর কাজে নিয়োজিত তারা কেউ কোন অভিযোগ ছাড়াই নিয়মিত ঘন্টা বাজানোর কাজটি করে যাচ্ছে।
যাইহোক আমি কেন্দুয়া ফিরে আমার অরিন আইটি’র সামনে একটি ওয়ার্কসপে গেলাম। ওদের বুঝাতে কষ্ট হচ্ছিল যে দন্ড আর শেকল কেন। শেষে একজন বুঝতে পারলো এবং কাজটা করে দিলো। দন্ড বানাতে যে খরচ গেলো শিকল কিনতে তার চেয়ে বেশি গেল। এটার কারণ এখনো জানতেই পারলাম না।
স্কুলে
নিয়ে রিয়নকে দিয়ে ঝুলানোর ব্যবস্থা করলাম। রিয়ন আমাদের প্রতিষ্ঠানের চতুর্থ
শ্রেণির কর্মচারী হলেও খুব দায়িত্বশীল এবং কি করতে চাই, কি করতে যাচ্ছি এটা তাকে
সহজেই বুঝানো যায়। এটা তার অনেক বড় গুণ এবং সে আইতে বেশ পারদর্শী। এই হিসাবে আমরা
ভাগ্যবান।
ঝুলানোর পরের টা ইতিহাস। সামান্য একটা উদ্দ্যোগে সবাই খুশি এবং আগের চাইতে সৌন্দর্য বৃদ্ধি পেয়েছে, সহজে বাজানো যাচ্ছে, টানা হ্যচড়ার ঝামেলা মিটে গেল। আবার উচ্চতা ঠিক রাখার জন্য শিকল রয়েছে। যেমন, জালেক ভাই টল ফিগার এজন্য তার উচ্চতার সমস্যা নাই। ফুলেছা, খাইরুল ওদের জন্য উচ্চতা কমানো বাড়ানোর জন্য শিকল ব্যবহার করেছ। যাতে যার যতটুকু দরকার ততটুকু উচ্চতায় ঘন্টা ঝুলাতে পারে।
যে কাজটি করলাম খুব সামান্য। অল্প কয়েকটাকা খরচ হয়েছে। আমার মানসিক তৃপ্তির জন্য আমি কোন খরচ প্রতিষ্ঠান থেকে নেইনি, ভাউচার দেইনি। এটা আমার প্রথম কাজ বিধায় নিজ কষ্টার্জিত টাকা খরচ করে করেছি। অনেকটা আমার মনের আনন্দের জন্য।
ঘন্টা ঝুলানের ব্যাপারে কলেজ শাখায় কর্মরত জেষ্ঠ প্রভাষক কামরুল ইসলাম ভূঞা একদিন ঘন্টার ব্যাপারে আমাকে বলেছিলেন। তখন আমার চাকুরী হয়নি। এজন্য যোগদানের পরে এই ছোট্ট কাজটি দিয়ে শুরু করেছিলাম।
অনেক কাজের থিম আমি এটুআই এর বিভিন্ন সম্মেলন থেকে, ওয়ার্কসপ থেকে পেয়েছি। যেমন:
‘‘স্বপ্নের স্কুল গড়ি, নিজেকে দিয়ে শুরু করি’’ সিলেট বিভাগীয় অ্যাম্বাসেডর শিক্ষক সম্মেলন, শ্রীমঙ্গলে এই থিমটা দেয়া হয়। এজন্য আমি শিক্ষক বাতায়ন ও এটুআই এর প্রতি কৃতজ্ঞ। নেতৃত্বের গুণের অনেকটাই ওখানে কাজ করা শিক্ষকের কাছে পাওয়া, অনেক কিছু তাঁদের কাছে শেখা।
এই উদ্দ্যোগ আমি যেটা নিয়েছি যদি আপনাদের ভাললাগে কমেন্ট করতে পারেন। আর আমি কচ্ছপ গতিতে আগানোর মানুষ। এজন্য কোন প্রতিষ্ঠানে হয়তো এটা কোন কাজই নয়। কিন্তু আমার কাছে অনেক বড় কাজ। কারণ এই ঘন্টা উপর সারা দিনের সিদ্ধান্তগুলো নির্ভর করে। ঘন্টার মাধ্যমে শিক্ষক-শিক্ষার্থী জানে কি হতে যাচ্ছে। আবার অপক্ষোয় থাকে কখন এই ঘন্টা বাড়ি যাওয়ার অনুমতি দিবে। এই ঘন্টাই পরীক্ষার সময় বলে দেয় কত গতিতে লিখতে হবে, কত সময় পরে লিখতে বারণ। আরো এমন অনেক ভাষা রয়েছে প্রাচীন কাল থেকে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অন্যতম উপকরণ এই ঘন্টা।
www.sumbk.edu.bd এটি আমার প্রতিষ্ঠানের ওয়েবসাইট। এই ওয়েবসাইটে প্রবেশ করে ভিডিও লিংক এবং ফটোগ্যালারী ভিজিট করলে প্রতিষ্ঠানের বিস্তারিত জানতে পারবেন।
উল্লেখ্য, আমার প্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষ স্যার সহ স্কুল-কলেজ শাখার সকল সহকর্মীদের কাছে আমি অনেক উৎসাহ উদ্দীপনা পাই, অনেক স্নেহ ভালবাসা পাই এজন্য আমি সবার প্রতি কৃতজ্ঞ।
মো: আনোয়ার উদ্দীন হিরন
সহকারী প্রধান শিক্ষক
সান্দিকোনা উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়
কেন্দুয়া, নেত্রকোণা।
01711129709
28.12.2024