সহকারী প্রধান শিক্ষক
১৩ জানুয়ারি, ২০২৫ ১১:৩৮ অপরাহ্ণ
সহকারী প্রধান শিক্ষক
গত ২০২৪ সালে দুইটি অভিভাবক মতবিনিময় সভা করেছি যার পুরো নেতৃত্ব পরিকল্পনায় আমিই ছিলাম। পূর্বের রেকর্ড ঘেটে দেখা যায় অভিভাবক সমাবেশ বা মতবিনিময় সভা তেমন একটা হয়না। যদি কখনো হয় তবে অভিভাবকের উপস্থিতি নাই বললেই চলে। এমন ইতিহাস ঘেটে আমি কিছুটা ভিন্ন পথ অবলম্বন করলাম। তার একটি হলো আশা শিক্ষা কর্মসূচী যুক্ত করলাম, হলো বিভিন্ন পারদর্শিতার জন্য শিক্ষার্থীকে পুরস্কার প্রদান এবং আগত অভিভাবককে সম্মানিত করার পন্থা।
ঠিক পরিকল্পনা করেই কাজ শুরু হলো। একশ জনকে চিঠি করে দাওয়াত দিলাম, যাদের চিঠি দেয়া হয়নি তাদেরও আসতে আমন্ত্রণ জানালাম। শর্ত জুড়ে দিলাম অভিভাবক মতবিনিময় সভায় শিক্ষার্থী তার অভিভাবকের হাত ধরে ক্যাম্পাসে প্রবেশ করবে এবং হলরুমে বসিয়ে দিয়ে আসবে এবং উপস্থিতি নিশ্চিত করতে হবে।
নির্ধারিত দিনে পিতা-মাতার হাত ধরে সন্তানকে ক্যাম্পাসে প্রবেশ করতে দেখেছি, ক্যাম্পাসে হাটতে দেখেছি। দৃশ্যটা আমার কাছে বছরের শ্রেষ্ঠ দৃশ্য ছিল। আমি কখনো ভুলতে পারবোনা। অভিভাবকরা আমার এ পদক্ষেপে অতি আবেগাপ্লুত ছিলেন। বহুবছর পরে তাদের সন্তান হাত ধরেছে এটাও অনেকে বলেছেন। উল্লেখ্য ১০০চিঠি বিতরণ করে ১৩৫জনের উপস্থিতি রেকর্ড করেছিলাম। এটাও ছিল আমার একটি পরীক্ষা যে চিঠি না পেলেও পিতা-মাতা সন্তানের জন্য কতটা সময় দেয়ার ইচ্ছা পোষণ করেন এবং আমাকে কতটা গুরুত্ব দেন। এখনেও আমি খুশি ও সফল, অভিভাবকের কাছে ঋণী।
বিভিন্ন ক্যাটাগরীতে শিক্ষার্থীকে পুরস্কৃত করলাম। আগত অভিভাবকে সম্মানিত করার জন্য পুরস্কার গ্রহীতার নামের আগে অভিভাবকের নাম ঘোষণা করি এবং আগত পিতা/মাতা পুরস্কারটি তার সন্তানের হাতে তুলে দেয়ার অনুরোধ করি। আমার এই ব্যতিক্রম ও সৃজনশীল আইডিয়ার জন্য প্রশংসিত হয়েছিলাম শিক্ষক-অভিভাবক-অতিথিবৃন্দের কাছে।
একটি দিনের জন্য একটি মুহুর্তের জন্য আমি কয়েকজন পিতা-মাতাকে খুশি করতে পেরেছি এটা আমার জন্য আনন্দের। ভাল ফলাফল আর ভাল শিক্ষার্থী তৈরিতে পিতা-মাতার গুরুত্ব কম নয় এটা বুঝাতে পেরেছি। উল্লেখ্য একটি মতবিনিময় সভায় শিক্ষার্থীরাই বাংলা এবং ইংরেজিতে উপস্থাপন করে পুরো অনুষ্ঠান নিয়ন্ত্রণ করেছে, যার ভিডিও ইতোমেধ্যে আপলোড হয়েছে।
৩৮জন শিক্ষার্থী ঐ অনুষ্ঠানে পুরস্কৃত হয়েছিল(পুরস্কারের বিস্তারিত আরেকটি গল্পে লিখবো), তার মানে ৩৮জন পিতা/মাতা তাদের সন্তানের সাফল্যে সম্মানিত বোধ করেছিলেন। ঐ অনুষ্ঠানে এলাকার গন্যমান্য নেতৃবৃন্দ, আশা এনজিওর কর্মকর্তা, আশার জেলা শিক্ষা অফিসার, শিক্ষকবৃন্দ ও কোমলমতি শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিল।
ভিভিন্ন চ্যালেঞ্জ নিয়ে কাজ করি বিধায় সামন্য সাফল্যে আমি অনেক আনন্দিত হই। নতুন করে প্রেরণা পাই, সমালোচনাগুলো গায়ে না মেখে আপনমনে কাজ করার শপথ গ্রহণ করি। দুটি অভিভাবক মতবিনিময় সভা আমাকে অভিভাবরে কাছে পৌছাতে সহযোগিতা করে, প্রতিষ্ঠানে পাঠদানের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। আমার ইচ্ছাগুলো তাদের কাছে পৌছাতে পারি। সম্মানিত অভিভাবক থেকেও অনেক গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ পাই যা ২০২৫ সালে বাস্তবায়ন হবে ইনশাল্লাহ।
শিক্ষক বাতায়নকে কৃতজ্ঞতা। এখানে আপলোডের সুযোগ না থাকলে আমার এই সফলতার গল্প অংকুরেই বিনষ্ট হয়ে যেতো, এভাবে শিক্ষক সমাজে উথ্থাপিত হতো না, ভবিষ্যতের জন্যও সংরক্ষিত হতো না।
মো. আনোয়ার উদ্দীন হিরন
সহকারী প্রধান শিক্ষক
সান্দিকোনা উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়
(স্কুল এন্ড কলেজ)
কেন্দুয়া, নেত্রকোণা।
01711129709
www.sumbk.edu.bd
13.01.2025