সহকারী শিক্ষক
২৮ জানুয়ারি, ২০২৫ ১১:২৬ অপরাহ্ণ
সহকারী শিক্ষক
স্বপ্নের স্কুল
প্রাথমিক শিক্ষায় শিশুদের লেখাপড়ার হাতেখড়ি হলেও মাধ্যমিক শিক্ষার গুরুত্ব কম নয়। মাধ্যমিক শিক্ষা তার ভবিষ্যত জীবনে ব্যাপক প্রভাব ফেলে। তাই মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে পড়ালেখার সুষ্ঠু পরিবেশ গড়ে তুলতে সরকার বিভিন্ন ধরনের কার্যক্রম বাস্তবায়ন করছে । তার মধ্যে অন্যতম হলো স্বপ্নের স্কুল কার্যক্রম । এক সময় ধারনা করা হতো মাধ্যমিক বিদ্যালয়গুলোর অবস্থা সাদামাটা ও জড়াজীর্ন, কিন্তু সেই দিন আর এখন নেই।
আজ প্রতিটি বিদ্যালয় যে কোনো মানুষের কাছে স্বপ্নের মতো। আর শিক্ষার্থীদের কাছে অন্যতম ও অনেক কিছু। আগে শিশুদের পরিস্ফুটিত হওয়ার আগেই ঝরে যেত। আজ বিদ্যালয়গুলো তাদের কাছে স্বপ্নের মতো।
বিদ্যালয়গুলোকে এমন ভাবে সাজানো হয়েছে, যাতে শিশুরা স্কুলকেই সবচেয়ে বেশি আনন্দের জায়গা মনে করে। আর এতে করে আমরা তাদেরকে খেলার ছলে আমাদের মূল লক্ষ্য অর্জন করতে পারছি। যার ধারাবাহিকতায় বাংলাদেশ সরকার মাধ্যমিক বিদ্যালয় পর্যায়ে ৫৩ তম শীতকালীন জাতীয় খেলাধূলার আয়োজন করেছেন। বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের ঝরে পড়ার হার একেবারেই কমে গেছে বলে মনে হয়। বলা যায় এটি সরকারের একটি আন্তরিকতা ও বাস্তবমূখী সিধান্ত।
'আমার স্বপ্ন- আমার স্কুল' এই স্লোগানেই মূলত পরিচালিত হয় স্বপ্নের স্কুল।বছরের প্রথম দিন শিশুদের হাতে নতুন বই তুলে দেওয়ার মাধ্যমে বই উতসব পালিত হচ্ছে। স্বপ্নের স্কুল কার্যক্রমে সৃজনশীল কাজের মাধমে
শিশুদের আকৃষ্ট করার জন্য শ্রেনিভিত্তিক দেয়ালিকা লেখা হয়। দেয়ালিকা লেখার মাধ্যমে শিশুর মেদ্গার বিকাশ ঘটে।যেসব বিদ্যালয়ে অতিরিক্ত শ্রেনি কক্ষ রয়েছে সেখানে বিভিন্ন শিক্ষা উপকরন দিয়ে উপকরন কক্ষ নামে নতুন রূম করা হয়েছে।
শিক্ষক- শিক্ষার্থীদের যথাসময়ে হাজিরা নিশ্চিত করতে ;বায়োমেট্রিক হাজিরা ব্যবস্থা করা হয়েছে। শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের বিভিন্ন ধরনের সৃজনশীল কাজে অংশগ্রহন করার মাধ্যমে খুদে ডাক্তার, সেরা মা , সেরা শিক্ষার্থী নির্বাচন করা হয়ে থাকে । এছাড়া বিভিন্ন ধরনের ভালো কাজের জন্য স্টাইল কার্ড প্রদান করা হয়ে থাকে ।
সেরা মা বা জয়ীতা নির্বাচনের মাধ্যমে মায়েদের আগ্রহ বেড়ে যায়। তারা তাদের সন্তানদের প্রতি আরো যত্নবান হয়ে উঠে।প্রতি বছর সেরা শিক্ষার্থী নির্বাচনের মাধ্যমে তারা তাদের সৃজনশীল কাজের মাধ্যমে তাদের মেধার বিকাশ ঘটাতে পারে। আর এভাবেই আমরা আমাদের ভবিষ্যত প্রজন্মকে সত্যিকার সুনাগরিক হিসেবে গড়ে তোলা সম্বব হচ্ছে। স্বপ্নের স্কুল কার্যক্রমে প্রতিটি বিস্যালয়কে আকষর্নীয় রঙ্গে রঙ্গিন করা, সুদঋশ্য ফটক ,বিভিন্ন ধরনের ফুলের বাগান করা, পরিস্কার-পরিচ্ছন্ন এবং সৃজনশীলতার আদশ একটি পরিবেশ আমাদের শিক্ষার্থীদের জন্য সৃষ্টি করে দিয়েছে স্বপ্নের স্কুল কার্যক্রম।
স্বপ্নের স্কুল কার্যক্রমে রয়েছে নবীন বরন, স্কুলব্যাগ বিতরন, স্কুল গভার্নিং বডি গঠন, শিক্ষার্থীদের মানষিক ও শারীরিক শাস্তি বন্ধের নিদের্শনা প্রদান ইত্যাদি।
পরিশেষে বলা যায় যে , আজ আমাদের শিক্ষার্থীদের কাছে বিদ্যালয় অত্যন্ত আনন্দের একটি জায়গা। বিদ্যালয়ের উপস্থিতি বাড়ানো, পরীক্ষায় পাশের হার উন্নতি,ইত্যাদি অন্যতম পদক্ষেপ, ঝ্রে পড়া রোধে যেখানে সারা বাংলাদেশে কমেছে ১৮ শতাংশ আর সেখানে আমাদের উপজেলায় ১ দশমিক ৮২ শতাংশ। এই হারই প্রমান করে যে শিক্ষাক্ষেএ সরকার কতটা সফল। জাতীয় অগ্রগতির প্রধান হাতিয়ার হলো শিক্ষা। আর এই হাতিয়ারকে পুজি করেই উন্নত- সমৃদ্ধ স্বপ্নের সোনার বাং গড়ার লক্ষ্যে সরকারের নেতৃত্বে বাংলাদেশ দুর্বার গতিতে এগিয়ে যাচ্ছে ।