Loading..

ভিডিও ক্লাস

রিসেট

০৯ মার্চ, ২০২৫ ০৩:১২ অপরাহ্ণ

Tim Berners Lee

Tim Berners Lee দাখিল নবম-দশম শ্রেণির ‘তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিকাশে যে কয়জন উল্লেখযোগ্য ব্যক্তি ছিলেন, তাদের মধ্যে স্যার টিমোথি জন ‘টিম’ বার্নার্স-লি অন্যতম। স্যার টিমোথি জন ‘টিম’ বার্নার্স-লি একজন বিশিষ্ট ব্রিটিশ কম্পিউটার বিজ্ঞানী, ওয়ার্ল্ড ওয়াইড ওয়েবের জনক । TimBL নামেও যিনি পরিচিত, যিনি পেশায় একজন ব্রিটিশ পদার্থবিদ, কম্পিউটার বিজ্ঞানী, MIT অধ্যাপক এবং (WWW) ওয়ার্ল্ড ওয়াইড ওয়েবের জনক এবং ওয়ার্ল্ড ওয়াইড ওয়েব কনসোর্টিয়ামের পরিচালক। তিনি ওয়ার্ল্ড ওয়াইড ওয়েব ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা। Tim Berners Lee তার জন্ম ও অবদান সম্পর্কে নিচে বিস্তারিত বর্ণনা দেওয়া হলো: জন্ম: ৮ জুন ১৯৫৫, লন্ডন, ইংল্যান্ড। টিম বার্নার্স-লি শীন মাউন্ট প্রাইমারী স্কুলে ভর্তি হন এবং পরবর্তীকালে দক্ষিণ-পশ্চিম লন্ডনের এমানুয়লে স্কুলে ১৯৬৯ থেকে ১৯৭৩ সাল পর্যন্ত শিক্ষাগ্রহণ করেন। এরপর তিনি ১৯৭৩ থেকে ১৯৭৬ সাল পর্যন্ত অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে পদার্থবিজ্ঞানে পড়াশোনা করেন এবং তিনি সেখানে প্রথম শ্রেণী অর্জন করেন। ১৯৮৪ সালে তিনি পুনরায় সার্ন এ যোগদান করেন। তিনি ১৯৮৯ সালে ওয়েবের ধারণা দেন। তখন তিনি CERN ল্যাবে সফটওয়্যার প্রকৌশলী হিসেবে কর্মরত ছিলেন। CERN ল্যাব হচ্ছে বৈজ্ঞানিক গবেষণাগার, যেখানে বৈজ্ঞানিক লব্ধ ফলাফলের জন্য যে ডেটাবেজ ব্যবহার করা হতো। তার লক্ষ্য ছিল কীভাবে একটি কম্পিউটারে তথ্য রেখে তা অন্য কম্পিউটার থেকে একসেস করা যায়। এই ধারণা থেকেই ওয়েবের উদ্ভব। তিনি তখন একটি পূর্ণাঙ্গ ওয়েবসাইট তৈরি করেন। • মৃত্যু: (জীবিত, এই তথ্যের সর্বশেষ আপডেট অনুযায়ী, তিনি এখনও জীবিত।) তার অবদান: টিম বার্নার্স-লির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অবদান হলো ওয়ার্ল্ড ওয়াইড ওয়েব (WWW) এর উদ্ভাবন। তার কাজ ইন্টারনেট ব্যবহারের ধরণ বদলে দিয়েছে এবং বিশ্বকে ডিজিটাল দুনিয়ার নতুন এক দিগন্তে পৌঁছে দিয়েছে। তার অবদানের উল্লেখযোগ্য দিকগুলো হলো: 1. হাইপারটেক্সট ট্রান্সফার প্রোটোকল (HTTP): o এটি এমন একটি প্রোটোকল যা ওয়েব ব্রাউজার এবং সার্ভারের মধ্যে যোগাযোগ নিশ্চিত করে। এটি ওয়েবপেজ ট্রান্সফারের মূল প্রযুক্তি। 2. হাইপারটেক্সট মার্কআপ ল্যাঙ্গুয়েজ (HTML): o ওয়েব পেজ তৈরি এবং প্রদর্শনের জন্য ব্যবহৃত ভাষা। 3. ইউনিভার্সাল রিসোর্স আইডেন্টিফায়ার (URI): o এটি প্রতিটি ওয়েব রিসোর্সের একটি অনন্য ঠিকানা। 4. ওয়ার্ল্ড ওয়াইড ওয়েব কনসোর্টিয়াম (W3C): o ১৯৯৪ সালে, তিনি ওয়ার্ল্ড ওয়াইড ওয়েবের উন্নতি ও মান নির্ধারণের জন্য এই সংস্থা প্রতিষ্ঠা করেন। 5. ওয়েবকে উন্মুক্ত রাখা: o তিনি নিশ্চিত করেছেন যে ওয়েবের প্রযুক্তি উন্মুক্ত থাকবে এবং এটি কোনো একক ব্যক্তি বা সংস্থা দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হবে না। সম্মাননা: টিম বার্নার্স-লি তার অসাধারণ অবদানের জন্য বিভিন্ন পুরস্কার ও সম্মাননা পেয়েছেন, যেমন: • নাইটহুড (২০০৪): যুক্তরাজ্য থেকে স্যার উপাধি। • টুরিং পুরস্কার (২০১৬): কম্পিউটার বিজ্ঞানে অসাধারণ অবদানের জন্য। • টাইম ম্যাগাজিনের ১০০ প্রভাবশালী ব্যক্তির তালিকায় স্থান। ওয়ার্ল্ড ওয়াইড ওয়েবের প্রভাব: সম্মানসূচক ডক্টরেট অব সায়েন্স, হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে, ২০১১, সম্মানসূচক ডক্টরেট অব সায়েন্স, ম্যানচেস্টার বিশ্ববিদ্যালয়, ২০০৮, অর্ডার অব মেরিট, নাইট কমান্ডার অব দ্য ব্রিটিশ এম্পায়ার, ফেলো অব দ্য রয়েল সোসাইটি, ফেলো অব দ্য রয়েল একাডেমি অব ইঞ্জিনিয়ারিং, ফেলো অব দ্য রয়েল সোসাইটি অব আর্টস। টিম বার্নার্স-লির উদ্ভাবন আধুনিক সমাজে বিপ্লব এনেছে। এটি জ্ঞান ও তথ্যের আদান-প্রদান সহজ করেছে, ব্যবসা ও শিক্ষা ক্ষেত্রকে নতুনভাবে গড়ে তুলেছে এবং মানুষকে আরো সংযুক্ত করেছে। তিনি এখনো ওয়েবকে আরো অন্তর্ভুক্তিমূলক, ন্যায্য এবং উন্মুক্ত করার প্রচেষ্টায় কাজ করে যাচ্ছেন।

মন্তব্য করুন