Loading..

প্রেজেন্টেশন

রিসেট

১১ মার্চ, ২০২৫ ০৫:০৪ অপরাহ্ণ

সালাম অধ্যায়, ৯ম শ্রেণী, হাদিস নং ২২।

وَعَنْ عَمْرِوِ بْنِ شُعَيْبٍ, عَنْ أَبِيهِ, عَنْ جَدِّهِ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ - صلى الله عليه وسلم     ليس منا من تشبه بغيرنا لا تشبهوا باليهود ولا بنصاراي فان تسليم اليهود الاشارة باصابع وتسليم انصاري الاشارة بالاكف

 

অনুবাদ

হযরত আমর  ইবনে শোয়াইব রাঃ হতে বর্নিত । তিনি তার পিতা থেকে ,তার পিতা তার দাদা থেকে বর্ননা করেন, নবি করিম সা; বলেছেন  যে ব্যাক্তি আমাদের জাতি ব্যাতিত অন্য জাতির সাদ্ররশ্য অবলম্বন করবে সে আমাদের দলভুক্ত নয় ।তোমরা ইহুদী , নাসারাদের সাথে কোনরুপ সাদৃশ্য রেখোনা। ( তাদের পদ্বতিতে সালাম দিওনা) কেননা ইহুদিরা আঙ্গুলের ইশারা এবং নাসারারা হাতের তালুর ইশারার মাধ্যমে সালাম দেয়।

 

এই হাদিস থেকে আমরা কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা গ্রহণ করতে পারি:

1.       মুসলমানদের স্বতন্ত্র পরিচয় বজায় রাখামুসলমানদের উচিত অন্য জাতির সাথে অনুকরণ না করে নিজেদের ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক পরিচয় রক্ষা করা।

2.      বিশেষত ইহুদি ও খ্রিস্টানদের অনুকরণ না করাহাদিসে বিশেষভাবে ইহুদি ও খ্রিস্টানদের অভ্যাস অনুসরণ করতে নিষেধ করা হয়েছে। কারণ তাদের নির্দিষ্ট রীতিনীতিগুলো ইসলামের আদর্শের সাথে সাংঘর্ষিক হতে পারে।

3.      ইসলামী পদ্ধতিতে সালাম প্রদান করামুসলমানদের উচিত ইসলামের নির্ধারিত পদ্ধতিতে সালাম প্রদান করা, যেমন – “আসসালামু আলাইকুম” বলা। শুধু ইশারার মাধ্যমে সালাম দেওয়া ইসলামের সুন্নাত সম্মত পদ্ধতি নয়।

4.       বিশুদ্ধ ইসলামি সংস্কৃতি লালন করামুসলমানদের উচিত নিজস্ব ধর্মীয় সংস্কৃতি ও ইসলামী বিধান মেনে চলা, যাতে অন্য জাতির সংস্কৃতি দ্বারা প্রভাবিত না হয়।

5.      আত্মপরিচয়ের সংরক্ষণইসলাম চায় প্রতিটি মুসলমান তার ধর্মীয় পরিচয় দৃঢ়ভাবে ধারণ করুক এবং মুসলিম জাতির স্বকীয়তা বজায় রাখুক।

এই হাদিস থেকে বোঝা যায় যে, ইসলামের মৌলিক আদর্শ ও সংস্কৃতি রক্ষা করা প্রত্যেক মুসলমানের দায়িত্ব।

 

 

হাদিসের ব্যাখ্যা বিশ্লেষণ করলে কয়েকটি মূল শিক্ষা পাওয়া যায়:

১. মুসলিম উম্মাহর স্বকীয়তা রক্ষা করা:

রাসুলুল্লাহ এ হাদিসে স্পষ্টভাবে বলেছেন যে, কোনো ব্যক্তি যদি অন্য জাতির সাদৃশ্য গ্রহণ করে, তবে সে আমাদের দলভুক্ত নয়। অর্থাৎ, ইসলামে মুসলিম উম্মাহকে একটি স্বতন্ত্র জাতি হিসেবে গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। তাদের আচার-আচরণ, পোশাক-পরিচ্ছদ, সংস্কৃতি ও ধর্মীয় রীতি-পদ্ধতিতে অন্য ধর্মের অনুসরণ করা উচিত নয়।

২. অমুসলিমদের অনুকরণ থেকে বিরত থাকা:

হাদিসের বিশেষ অংশে বলা হয়েছে "তোমরা ইহুদী, নাসারাদের সাথে কোনো রূপ সাদৃশ্য রেখো না।" এর মাধ্যমে বোঝানো হয়েছে যে, মুসলমানদের জীবনযাপন, সামাজিক রীতিনীতি ও ধর্মীয় আচরণ যেন অমুসলিমদের মতো না হয়। ইসলামে এমন কোনো কিছু গ্রহণ করা উচিত নয় যা ইসলামের মৌলিক আদর্শের বিপরীত।

৩. সালামের পদ্ধতিতে ভিন্নতা রাখা:

হাদিসে বলা হয়েছে যে, ইহুদিরা আঙুলের ইশারায় এবং খ্রিস্টানরা হাতের তালুর ইশারায় সালাম দেয়। এর দ্বারা বুঝানো হয়েছে যে, মুসলমানদের সালামের স্বতন্ত্র পদ্ধতি রয়েছে "আসসালামু আলাইকুম ওয়া রহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহু" বলা। শুধু ইশারা করা ইসলামের সালামের প্রকৃত আদব ও পদ্ধতি নয়।

৪. বাহ্যিক অনুকরণে বিশ্বাসগত দুর্বলতা:

অনেক ক্ষেত্রে বাহ্যিক অনুকরণ অভ্যন্তরীণ বিশ্বাসের দুর্বলতার দিকে ইঙ্গিত করে। কেউ যদি ইচ্ছাকৃতভাবে অন্য জাতির অনুকরণ করে, তাহলে তা তার চিন্তাধারা ও বিশ্বাসের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে। তাই রাসুলুল্লাহ মুসলমানদের সতর্ক করেছেন, যেন তারা নিজেদের আত্মপরিচয় সংরক্ষণ করে।

 

 

 

 

 

একক কাজ

  • শিক্ষার্থীরা যেন নিজেদের পোশাক-পরিচ্ছদ, আচরণ ও সংস্কৃতিতে ইসলামী আদর্শ মেনে চলে।

  • অমুসলিমদের বিশেষ রীতিনীতি ও সংস্কৃতির অনুসরণ না করা।

  • ইসলামের নির্ধারিত পদ্ধতিতে সালাম দেওয়া: "আসসালামু আলাইকুম"।

  • ইহুদি ও খ্রিস্টানদের মতো শুধু হাত বা আঙুলের ইশারায় সালাম না দেওয়া।

  • ইসলামের মৌলিক বিধিবিধান ও নবিজির (সা.) আদর্শ অনুযায়ী জীবনযাপন করা।

  • অন্য ধর্মের বা সংস্কৃতির এমন কোনো অনুকরণ না করা, যা ইসলামের মৌলিক শিক্ষা ও পরিচয়ের বিরুদ্ধে যায়।

 

 

হাদিসের জোড়ায় কাজ

 

১. যৌথভাবে ইসলামী সংস্কৃতি ও চেতনাকে সংরক্ষণ করা

২. যৌথভাবে সুন্নতি সালামের প্রচলন করা

৩. যৌথভাবে ইসলামি চেতনায় একত্রিত হওয়া

৪. যৌথভাবে ইসলামী আদর্শ অনুযায়ী অনুষ্ঠান ও আচরণ বজায় রাখা

 

 

দলীয় কাজ

 

১. ইসলামী সংস্কৃতি ও পরিচয় সংরক্ষণে সচেতনতা বৃদ্ধি

  • দলগতভাবে ইসলামী আদর্শ ও সংস্কৃতি বজায় রাখার জন্য উদ্যোগ নেওয়া।

  • ইসলামের মৌলিক শিক্ষা, পোশাক, আচরণ ও সালামের সঠিক পদ্ধতি অনুসরণ করতে একে অপরকে উৎসাহিত করা।

2. সুন্নাহ অনুযায়ী সালামের প্রচলন

  • শিক্ষার্থীদের একটি দল প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সুন্নাহ মোতাবেক সালাম প্রচলনে কাজ করবে।

  • ইহুদি ও নাসারাদের মত আঙুল বা হাতের ইশারায় সালাম না দিয়ে "আসসালামু আলাইকুম" বলার প্রচলন করা।

৩. ইসলামী জ্ঞান অর্জন ও প্রচার করা

  • ইসলামের মূল শিক্ষাগুলো বুঝতে ও প্রচার করতে দলীয়ভাবে আলোচনা সভা আয়োজন করা।

  • নবিজির (সা.) সুন্নাহ সম্পর্কে পড়াশোনা করা ও তা অনুসরণে অন্যদের সচেতন করা।

 

 

মন্তব্য করুন