Loading..

নেতৃত্বের গল্প

রিসেট

২৬ এপ্রিল, ২০২৫ ১১:২৮ অপরাহ্ণ

দেশপ্রেম নাকি দলপ্রেম কোনটা আগে ! দেশপ্রেম মৃত নাকি ঘুমন্ত?

নিরপেক্ষতার চোখ দিয়ে দেখুন সব। 


চারপাশে নানা পেশাজীবি ধামাধরা চাটুকারের সংখ্যা বাড়ছে। ক্ষমতা ও শক্তির মোহে নানা খানাখন্দ কি দৃষ্টি এড়িয়ে যাচ্ছে সবার? 


দেশপ্রেম  মূলত ব্যক্তি মনে তৈরি হওয়া নিজ দেশের প্রতি আবেগ, মমতা ও ভালোবাসার নাম। নিজ জন্মভূমিকে ভালোবাসা এবং তার জন্য কাজ করা প্রত্যেক মানুষের কর্তব্য। স্বদেশের জন্য মানুষের ভালোবাসা প্রকাশ পায় দেশ ও দেশবাসীর অগ্রগতি ও কল্যাণের জন্য দেশপ্রেমিকের চিন্তা ও কর্মের মাধ্যমে। কারণ একজন ব্যক্তি পরিপুষ্ট হয় স্বদেশের আলো-বাতাসে। এত কিছুর মধ্যে থেকে নিজের মধ্যে স্বদেশপ্রেম জাগ্রত না হলে, তাকে পশুর সঙ্গে তুলনা করা শ্রেয়। শুধু দেশের প্রতি ভালোবাসার মধ্যদিয়েই কি স্বদেশপ্রেমের পরিসামাপ্তি, নাকি বৃহৎ স্বার্থে দেশের জন্য নিজেকে উৎস্বর্গ করা?

বর্তমান সময়ে দেশের রাজনৈতিক পরিবেশে নাজুক অবস্থা বিরাজমান। একটি দেশের সমগ্র উন্নয়ন নির্ভর করে দেশটির রাজনীতির উন্নত পরিবেশের উপর। কিন্তু দেশে সেই পরিবেশে কতটুকু সুষ্ঠতা নিশ্চিত করা সম্ভব হয়েছে? আমরা মুখে গণতন্ত্রের বুলি আওড়ালেও পরাধীনতার শেকল গলায় ঝুলানো। আমরা স্বাধীনতার ৫০ বছর পরেও গড়তে পারিনি সহিংসতা মুক্ত একটি দেশ। দেশের রাজনৈতিক পরিবেশ এমন একটা অবস্থায় উপনীত হয়েছে, যেখানে কেউ স্বদেশ ও দশের উপকারের জন্য রাজনীতি করে না। রাজনীতিকে এখন মনে করা হয় ব্যবসার জায়গা। যার মধ্যদিয়ে ভুরি ভুরি টাকার মালিক হওয়া যায়। এখন রাজনীতিতে দেশপ্রেমের পরিবর্তে ব্যক্তিস্বার্থ এবং দলপ্রেমকেই বেশি প্রাধান্য দেওয়া হয়। কেউ স্বদেশপ্রেমকে কবর দিয়েছে নিজেদের স্বার্থ হাসিলের জন্য। আর কেউ কবর দিয়েছে দেশকে সহিংসতার চাদরে আচ্ছাদিত করে। রাস্তায় বের হলে নেই কারও জীবনের নিরাপত্তা। প্রতিদিন পত্রিকার পাতা খুললে দেখা যায় সড়ক দুর্ঘটনায় ঝরে যাওয়া তাজা প্রাণের শিরোনাম। যার জন্য দায়ী সড়ক ব্যবস্থার বেহালদশা। দেশ দুর্নীতির এক আঁতুড় ঘরে পরিণত হয়েছে। এই দুর্নীতি দেশের সার্বিক অবস্থাকে পঙ্গু করে রেখেছে। প্রকৃত স্বদেশপ্রেম কখনো দুর্নীতি করতে শেখায় না। বরং দুর্নীতিমুক্ত, শোষণমুক্ত, ক্ষুধামুক্ত দেশ গড়াই হবে একজন সত্যিকারের দেশপ্রেমিকের মূল লক্ষ্য। কিন্তু দুঃখজনক ব্যাপার হলো সর্বোচ্চ দুর্নীতিগ্রস্ত দেশের তালিকায় বাংলাদেশের অবস্থান ১৩তম। দুর্নীতিতে দেশের এই অবস্থান দেখে অনায়াসে আঁচ করা যায়, আমরা নিজেদের মনে স্বদেশপ্রেম কতটুকু লালন করতে পেরেছি! নাকি দলকানা হয়ে নিজের বিবেক বিষর্জন দিয়ে দিয়েছি! 


স্বাধীনতার পাঁচ দশকে এসেও ক্ষুধার যন্ত্রণায় মানুষ মরছে। দেশের মোট জনসংখ্যার ২৫ শতাংশ দারিদ্র্যের কষাঘাতে জর্জরিত, যেখানে তাদের দুমুটো ভাতের ব্যবস্থা করতে হিমশিম খেতে হচ্ছে, সেখানে তাদের মধ্যে দেশপ্রেম জাগ্রত করা এক প্রকার বিলাসিতার নামান্তর। এখন দেশের সাধারণ মানুষের বেশির ভাগই তাদের প্রাপ্য অধিকার থেকে বঞ্চিত। ১৯৭১ সালে জাতিগত ভেদাভেদ ভুলে সাধারণ জনগণের মধ্যে যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ার যে চেতনা ছিল, তা পুরোটাই বিলীন হয়ে গেছে। কারণ তারা আগে ভালোভাবে বেঁচে থাকার অধিকারের নিশ্চয়তা চায়। দেশপ্রেম মানুষের মনে তখনি জন্মাবে, যখন নিজ দেশে থেকে মানুষ তার প্রাপ্য অধিকারটুকু পাবে।


যদি সত্যি কারের দেশপ্রেম জাগ্রত হতো তাহলে সবার আগে সবাই দল নয় দেশের কথা ভাবত। 

মন্তব্য করুন