Loading..

পাঠসংশ্লিষ্ট ছবি/ইমেজ

রিসেট

০৩ জুলাই, ২০২৫ ১২:১৩ অপরাহ্ণ

করোনা ভাইরাস করনীয়, কিভাবে ছড়ায়

করোনাভাইরাস (COVID-19) একটি RNA ভাইরাস যা স্তন্যপায়ী প্রাণী এবং পাখিদের আক্রান্ত করে। এটি মানুষের শরীরে শ্বাসনালীর সংক্রমণ ঘটায়, যা মৃদু থেকে মারাত্মক আকার ধারণ করতে পারে, এমনকি মৃত্যুও হতে পারে। এই ভাইরাসটি ২০১৯ সালের ডিসেম্বরে চীনে প্রথম শনাক্ত হয় এবং পরবর্তীতে বিশ্বব্যাপী মহামারীতে রূপ নেয়।

কীভাবে ছড়ায়?

করোনাভাইরাস মূলত নিম্নলিখিত উপায়ে ছড়িয়ে পড়ে:

 * শ্বাসতন্ত্রের মাধ্যমে: আক্রান্ত ব্যক্তির হাঁচি, কাশি, কফ, থুথু এবং সর্দির মাধ্যমে নির্গত ছোট ছোট ফোঁটা বাতাসের মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে এবং অন্য ব্যক্তির শ্বাসতন্ত্রে প্রবেশ করে।

 * প্রত্যক্ষ সংস্পর্শ: আক্রান্ত ব্যক্তির সংস্পর্শে এলে, যেমন হ্যান্ডশেক বা জড়িয়ে ধরলে, ভাইরাস ছড়াতে পারে।

 * পৃষ্ঠতল থেকে সংক্রমণ: ভাইরাসযুক্ত কোনো পৃষ্ঠতল (যেমন - টেবিল, দরজার হাতল, মোবাইল ফোন) স্পর্শ করে সেই হাত দিয়ে চোখ, নাক বা মুখ স্পর্শ করলে ভাইরাস শরীরে প্রবেশ করতে পারে।

করণীয় কী?

করোনাভাইরাসের সংক্রমণ প্রতিরোধে নিম্নলিখিত বিষয়গুলি মেনে চলা উচিত:

 * হাত ধোয়া: সাবান ও পানি দিয়ে ঘন ঘন (অন্তত ২০ সেকেন্ড ধরে) হাত ধুতে হবে। যদি সাবান ও পানি না থাকে, তাহলে হ্যান্ড স্যানিটাইজার ব্যবহার করা যেতে পারে।

 * শারীরিক দূরত্ব বজায় রাখা: আক্রান্ত ব্যক্তি বা হাঁচি-কাশি দিচ্ছে এমন ব্যক্তি থেকে কমপক্ষে ৩ ফুট (১ মিটার) দূরত্ব বজায় রাখতে হবে।

 * মাস্ক ব্যবহার: জনসমাগমস্থলে এবং অসুস্থ বোধ করলে মাস্ক ব্যবহার করা উচিত।

 * হাঁচি-কাশির শিষ্টাচার: হাঁচি বা কাশি দেওয়ার সময় টিস্যু বা হাতের কনুই দিয়ে নাক ও মুখ ঢেকে রাখতে হবে। ব্যবহৃত টিস্যু দ্রুত নিরাপদ স্থানে ফেলে দিতে হবে।

 * চোখ, নাক ও মুখ স্পর্শ না করা: হাত না ধুয়ে চোখ, নাক ও মুখ স্পর্শ করা থেকে বিরত থাকতে হবে।

 * ঘর পরিষ্কার রাখা: নিয়মিতভাবে স্পর্শ করা হয় এমন পৃষ্ঠতল (যেমন - দরজার হাতল, সুইচ) পরিষ্কার ও জীবাণুমুক্ত রাখা উচিত।

 * ভিড় এড়িয়ে চলা: অপ্রয়োজনে জনসমাগমস্থল এড়িয়ে চলতে হবে।

 * সুস্থ জীবনযাপন: পর্যাপ্ত ঘুম, সুষম খাদ্য এবং ব্যায়ামের মাধ্যমে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে হবে।

 * লক্ষ্যণ দেখা দিলে করণীয়: যদি জ্বর, কাশি, শ্বাসকষ্ট বা অন্য কোনো উপসর্গ দেখা দেয়, তবে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে এবং সরকারের নির্ধারিত হটলাইন নম্বরে (যেমন - বাংলাদেশে 333 বা 16263) যোগাযোগ করতে হবে। নিজে নিজে হাসপাতালে না গিয়ে প্রথমে ফোন করে পরামর্শ নেওয়া উচিত, যাতে অন্যদের মধ্যে সংক্রমণ ছড়ানোর ঝুঁকি কমে।

 * তথ্য সচেতনতা: নির্ভরযোগ্য উৎস থেকে তথ্য সংগ্রহ করতে হবে এবং গুজব ছড়ানো থেকে বিরত থাকতে হবে।

এই সতর্কতাগুলো মেনে চললে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ এবং এর বিস্তার কমানো সম্ভব।


মন্তব্য করুন

সম্পর্কিত পোস্ট