সহকারী শিক্ষক
০৭ জুলাই, ২০২৫ ০৭:৪৩ অপরাহ্ণ
দুষ্টু ভালুক ও জ্ঞানী কাঠবিড়ালি
ধরনঃ সাধারণ শিক্ষা
শ্রেণিঃ সপ্তম
বিষয়ঃ আনন্দ পাঠ বাংলা দ্রুত পঠন
অধ্যায়ঃ অধ্যায়-৩ (গল্প)
দুষ্টু ভালুক ও জ্ঞানী কাঠবিড়ালি
একদা গভীর জঙ্গলে এক দুষ্টু ভালুক ছিল যার নাম ভোলা। ভোলা ভালুকটা সারাদিন শুধু মজা করত আর অন্য প্রাণীদের বিরক্ত করত। সে কারো কথা শুনত না। জঙ্গলের সবাই ভোলার যন্ত্রণায় অতিষ্ঠ ছিল।
একদিন ভোলা দেখল একটি কাঠবিড়ালি খুব মন দিয়ে আখরোট ভাঙছে। ভোলা কাঠবিড়ালিকে বিরক্ত করার জন্য তার কাছে গিয়ে বলল, "আরে কাঠবিড়ালি ভাই, এত কষ্ট করছ কেন? এভাবে আখরোট ভাঙলে কি হয়? চলো, আমার সাথে মজা করবে।"
কাঠবিড়ালি বলল, "না ভাই ভোলা, এখন আমার খেলার সময় নয়। শীত আসছে, তার জন্য খাবার জমা করছি। তুমিও কিছু খাবার জমিয়ে রাখো, পরে কষ্ট হবে না।"
কিন্তু ভোলা কাঠবিড়ালির কথা শুনল না। সে হাসল আর বলল, "আরে বাবা, শীত আসতে এখনো অনেক দেরি! এখন শুধু মজা করব।" এই বলে ভোলা চলে গেল। সে সারাটা দিন দুষ্টুমি করে আর খেলে বেড়াত।
দিনের পর দিন পেরিয়ে গেল। দেখতে দেখতে শীতকাল চলে এলো। ঠান্ডা হাওয়া বইতে শুরু করল, আর চারদিক বরফে ঢেকে গেল। এখন ভোলার কাছে কোনো খাবার নেই। সে ক্ষুধায় ছটফট করতে লাগল।
জঙ্গলের অন্য প্রাণীরা যখন নিজেদের জমানো খাবার খাচ্ছিল, তখন ভোলা লজ্জায় কারো কাছে যেতে পারছিল না। তার খুব কষ্ট হচ্ছিল।
শেষে ভোলা কাঠবিড়ালির কাছে গেল। কাঠবিড়ালি তখন আরাম করে আখরোট খাচ্ছিল। ভোলাকে দেখে কাঠবিড়ালি বলল, "কি ভোলা ভাই, আমার কথা মনে আছে? বলেছিলাম খাবার জমাতে, শোননি কেন?"
ভোলা মাথা নিচু করে বলল, "আমার ভুল হয়ে গেছে, কাঠবিড়ালি ভাই। এখন আমার খুব কষ্ট হচ্ছে।"
কাঠবিড়ালি ভোলার কষ্ট দেখে তাকে কিছু আখরোট খেতে দিল। ভোলা আখরোট খেয়ে একটু সুস্থ হলো। সেদিন ভোলা বুঝল যে, সময়ের কাজ সময়ে না করলে পরে অনেক কষ্ট হয়। সে কাঠবিড়ালির কাছে ক্ষমা চাইল এবং প্রতিজ্ঞা করল যে, আর কখনো এমন ভুল করবে না। এরপর থেকে ভোলা অনেক ভালো হয়ে গেল এবং সব কাজ সময় মতো করতে শিখল।
শিক্ষণীয় বিষয়: এই গল্প থেকে আমরা শিখলাম যে সময়ের কাজ সময়ে করা উচিত। আজকের কাজ কালকের জন্য ফেলে রাখলে ভবিষ্যতে অনেক সমস্যায় পড়তে হয়। আর যারা বুদ্ধিমান, তারা সবসময় ভবিষ্যতের জন্য প্রস্তুত থাকে।