সহকারী শিক্ষক
১১ জুলাই, ২০২৫ ০৭:০৩ অপরাহ্ণ
সহকারী শিক্ষক
ধরনঃ সাধারণ শিক্ষা
শ্রেণিঃ দ্বাদশ
বিষয়ঃ অর্থনীতি ১ম পত্র
অধ্যায়ঃ অধ্যায় ৭
২০২৫-২৬ অর্থবছরের বাজেটটি এমন এক সময়ে আসবে যখন বাংলাদেশকে সম্ভবত কিছু বড় অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হবে। তাই বাজেটের মূল ফোকাস হবে অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা রক্ষা এবং জনজীবনে স্বস্তি আনা।
মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ: এটি হবে বাজেটের প্রধান এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ। উচ্চ মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে সরকার সরবরাহ ব্যবস্থা উন্নত করা, আমদানি শুল্ক পুনর্বিবেচনা করা এবং মুদ্রানীতির সাথে সামঞ্জস্য রেখে আর্থিক নীতি প্রণয়ন করতে পারে।
বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ স্থিতিশীল রাখা: ডলার সংকট ও রিজার্ভের উপর চাপ কমাতে আমদানি নিরুৎসাহিত করা, রপ্তানি আয় বৃদ্ধি এবং রেমিট্যান্স প্রবাহ বাড়ানোর জন্য নতুন নতুন প্রণোদনা বা কৌশল ঘোষণা করা হতে পারে।
সামাজিক সুরক্ষা খাতের আওতা বাড়ানো: ক্রমবর্ধমান জীবনযাত্রার ব্যয়ের সাথে তাল মিলিয়ে সাধারণ ও দরিদ্র মানুষের কষ্ট লাঘবের জন্য সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচির (যেমন: বয়স্ক ভাতা, বিধবা ভাতা, টিসিবি'র মাধ্যমে পণ্য বিক্রি) আওতা এবং ভাতার পরিমাণ বাড়ানো হতে পারে।
রাজস্ব আদায় বৃদ্ধি: বাজেটের অর্থায়নের জন্য করের আওতা বাড়ানো, কর ফাঁকি রোধে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ এবং জাতীয় রাজস্ব বোর্ডকে (NBR) আরও আধুনিক ও স্বয়ংক্রিয় করার উপর জোর দেওয়া হবে। নতুন কর আরোপের বদলে করের ভিত্তি (tax base) সম্প্রসারণের চেষ্টা করা হতে পারে।
উন্নয়ন প্রকল্পের অগ্রাধিকার নির্ধারণ: চলমান মেগা প্রকল্পগুলোর কাজ অব্যাহত রাখার পাশাপাশি নতুন প্রকল্প গ্রহণের ক্ষেত্রে সরকার আরও সতর্ক হবে। যে প্রকল্পগুলো দ্রুত অর্থনৈতিক সুফল বয়ে আনবে, সেগুলোকে অগ্রাধিকার দেওয়া হতে পারে। অপ্রয়োজনীয় বা কম গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পে বরাদ্দ কমানো হতে পারে।
কর্মসংস্থান সৃষ্টি: তরুণদের জন্য নতুন চাকরির সুযোগ তৈরি করতে ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প (SME), আইটি খাত এবং কৃষিভিত্তিক শিল্পে বিশেষ প্রণোদনা বা কর ছাড়ের ব্যবস্থা থাকতে পারে।
ক্রমবর্ধমান ঋণের বোঝা: অভ্যন্তরীণ এবং বৈদেশিক ঋণের পরিমাণ বাড়তে থাকায় সুদ পরিশোধের জন্য বাজেটের একটি বড় অংশ ব্যয় হবে, যা উন্নয়নমূলক কাজে ব্যয়ের সুযোগ কমিয়ে দেবে।
ভর্তুকির চাপ: বিদ্যুৎ, জ্বালানি এবং সারের মতো খাতে বিপুল পরিমাণ ভর্তুকির চাপ সরকারের উপর থাকবে। আন্তর্জাতিক বাজারে এগুলোর দাম বাড়লে ভর্তুকির বোঝাও বাড়বে।
বাজেট বাস্তবায়নের সক্ষমতা: প্রতি বছরই বাজেট বাস্তবায়নের হার লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে কম থাকে। প্রশাসনিক অদক্ষতা, দুর্নীতি এবং সময়মতো প্রকল্প শেষ করতে না পারা আগামী বাজেটেও একটি বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে থাকবে।
বৈশ্বিক অর্থনৈতিক মন্দার প্রভাব: বিশ্ব অর্থনীতি মন্দার দিকে গেলে বাংলাদেশের রপ্তানি আয় (বিশেষ করে পোশাক শিল্পে) এবং রেমিট্যান্স কমে যাওয়ার ঝুঁকি রয়েছে।
কর (Tax): ব্যক্তিগত আয়করের হারে কোনো পরিবর্তন আসছে কি না, বা কোন কোন পণ্যের উপর নতুন করে ভ্যাট বা সম্পূরক শুল্ক আরোপ করা হচ্ছে।
নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম: চাল, ডাল, তেল, চিনির মতো নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের দাম নিয়ন্ত্রণে সরকার কী পদক্ষেপ নিচ্ছে।
শিক্ষা ও স্বাস্থ্য: এই দুটি গুরুত্বপূর্ণ খাতে বরাদ্দ বাড়ানো হচ্ছে কি না, যা সরাসরি জনগণের জীবনমানের সাথে জড়িত।
স্থানীয় উন্নয়ন: আপনার এলাকার রাস্তাঘাট, সেতু বা অন্যান্য অবকাঠামো উন্নয়নে বাজেটে কোনো বরাদ্দ রাখা হয়েছে কি না।
উপসংহার:
২০২৫-২৬ সালের বাজেটটি হবে মূলত একটি 'সারভাইভাল' বা টিকে থাকার বাজেট। উচ্চাভিলাষী পরিকল্পনার চেয়ে অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনা এবং সাধারণ মানুষকে মূল্যস্ফীতির চাপ থেকে রক্ষা করাই হবে এর মূল লক্ষ্য। বাজেট ঘোষণার পর এর বিস্তারিত ধারা-উপধারা বিশ্লেষণ করে এর প্রকৃত প্রভাব সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে।