টিস্যু কালচার একটি গবেষণাগার ভিত্তিক প্রক্রিয়া, যেখানে উদ্ভিদের একটি ছোট অংশ (এক্সপ্লান্ট) উপযুক্ত পুষ্টি মাধ্যমে কালচার করে নতুন উদ্ভিদ তৈরি করা হয়। এই পদ্ধতিতে বেশ কয়েকটি ধাপ রয়েছে।
টিস্যু কালচার পদ্ধতির ধাপসমূহ:
১. মাতৃ উদ্ভিদ নির্বাচন: প্রথমে, একটি সুস্থ ও রোগমুক্ত উদ্ভিদ নির্বাচন করতে হবে, যা থেকে টিস্যু সংগ্রহ করা হবে। এই নির্বাচিত উদ্ভিদকে মাতৃ উদ্ভিদ বলা হয়।
২. এক্সপ্লান্ট নির্বাচন: মাতৃ উদ্ভিদ থেকে প্রয়োজনীয় টিস্যু সংগ্রহ করা হয়, যাকে এক্সপ্লান্ট বলে। সাধারণত, কচি পাতা, কান্ড বা মূলের অগ্রভাগ ব্যবহার করা হয়।
৩. আবাদ মাধ্যম তৈরি: একটি উপযুক্ত পুষ্টি মাধ্যম তৈরি করতে হয়, যা উদ্ভিদের বৃদ্ধি ও বিকাশের জন্য প্রয়োজনীয় উপাদান ধারণ করে। এই মাধ্যমে সাধারণত শর্করা, ভিটামিন, হরমোন এবং অন্যান্য পুষ্টি উপাদান থাকে।
৪. জীবাণুমুক্তকরণ: আবাদ মাধ্যম এবং ব্যবহৃত যন্ত্রপাতি, যেমন - কাঁচের জার, বীকার ইত্যাদি, ভালোভাবে জীবাণুমুক্ত করতে হয়। এক্সপ্লান্টও জীবাণুমুক্ত করা হয়, যেন কোনো অবাঞ্ছিত জীবাণু কালচারকে সংক্রামিত করতে না পারে।
৫. আবাদ প্রতিষ্ঠা: জীবাণুমুক্ত এক্সপ্লান্টকে জীবাণুমুক্ত আবাদ মাধ্যমে স্থাপন করা হয়।
৬. ক্যালাস সৃষ্টি ও সংখ্যাবৃদ্ধি: উপযুক্ত পরিবেশে এক্সপ্লান্ট থেকে প্রথমে ক্যালাস (এক ধরনের অন diferenciated টিস্যু) সৃষ্টি হয় এবং পরে এই ক্যালাস সংখ্যাবৃদ্ধি লাভ করে।
৭. অঙ্গজ উৎপাদন: ক্যালাস থেকে মূল, কান্ড ও পাতা সৃষ্টি হয় এবং ধীরে ধীরে একটি সম্পূর্ণ উদ্ভিদ গঠিত হয়।
৮. চারা রোপণ: যখন চারাগুলো বৃদ্ধি পেয়ে যথেষ্ট বড় হয়, তখন তাদের আবাদ মাধ্যম থেকে সরিয়ে উপযুক্ত পাত্রে (যেমন - পটিং টবে) স্থানান্তর করা হয়।
৯. মাঠ পর্যায়ে স্থানান্তর: চারাগুলোকে ধীরে ধীরে প্রাকৃতিক পরিবেশে অভ্যস্ত করার জন্য মাঠ পর্যায়ে রোপণ করা হয়।
এই ধাপগুলো অনুসরণ করে টিস্যু কালচার পদ্ধতির মাধ্যমে অল্প সময়ে রোগমুক্ত ও উন্নত বৈশিষ্ট্য সম্পন্ন উদ্ভিদ তৈরি করা সম্ভব