Loading..

পাঠসংশ্লিষ্ট ছবি/ইমেজ

রিসেট

২৩ জুলাই, ২০২৫ ০৮:৫৮ পূর্বাহ্ণ

সৌদি খেজুর চাষ পদ্ধতি

সৌদি আরবের আবহাওয়া এবং মাটি খেজুর চাষের জন্য অত্যন্ত উপযোগী। যদিও বাংলাদেশে সৌদি খেজুরের বাণিজ্যিক চাষ শুরু হয়েছে এবং সফলতাও আসছে, তবে মূল সৌদি খেজুর চাষ পদ্ধতির কিছু মৌলিক বিষয় রয়েছে:

১. জাত নির্বাচন:

সৌদি আরবে হাজারেরও বেশি জাতের খেজুর উৎপাদিত হয়। এর মধ্যে বাণিজ্যিকভাবে জনপ্রিয় কিছু জাত হলো:

 * আজওয়া (Ajwa): মদিনার বিখ্যাত এবং মূল্যবান জাত, কালো ও গোলাকার। এর ঔষধি গুণও আছে বলে বিশ্বাস করা হয়।

 * মরিয়ম (Mariam): লালচে-বাদামী রঙের লম্বাটে খেজুর।

 * বারহি (Barhi): ছোট ও গোলাকার, মিষ্টি স্বাদের নরম খেজুর।

 * মেডজুল (Medjool): বড় আকারের, মাংসল ও মিষ্টি, ক্যারামেলের মতো স্বাদ।

 * সুক্কারি (Sukkari): খুবই মিষ্টি, মাবরুমের মতো দেখতে।

 * সাফাওয়ি (Safawi): গাঢ় বাদামী, মাঝারি আকারের, নরম ও মাংসল।

 * আম্বারা (Ambarah): তুলনামূলকভাবে বড় আকারের খেজুর।

 * খুদরি (Khudri): অপেক্ষাকৃত কম মিষ্টি এবং চিবানো যায়।

২. মাটি ও স্থান নির্বাচন:

 * মাটি: খেজুর গাছ সব ধরনের মাটিতে জন্মাতে পারলেও বেলে ও বেলে-দো-আঁশ মাটি সবচেয়ে উপযোগী। তবে, পানি নিষ্কাশনের সুব্যবস্থা থাকা আবশ্যক।

 * স্থান: প্রচুর আলো-বাতাস পায় এমন উঁচু স্থান নির্বাচন করতে হবে যেখানে পানি জমে না।

৩. চারা উৎপাদন ও রোপণ:

 * বীজ থেকে চারা: বীজ থেকে চারা তৈরি করা যায়। এর জন্য মাটির সাথে বালি, ছাই, গোবর ও কম্পোস্ট সার মিশিয়ে পটিং মিডিয়া তৈরি করতে হয়। বীজ থেকে চারা তৈরির ক্ষেত্রে ফলন আসতে অনেক সময় লাগতে পারে এবং মাতৃগাছের গুণাগুণ বজায় নাও থাকতে পারে।

 * টিস্যু কালচার বা অফশ্যুট (Offshoot) থেকে চারা: বাণিজ্যিকভাবে টিস্যু কালচার পদ্ধতি বা মাতৃগাছ থেকে গজানো 'অফশ্যুট' (গাছের গোড়া থেকে বের হওয়া চারা) ব্যবহার করা হয়। এটি মাতৃগাছের বৈশিষ্ট্য বজায় রাখে এবং দ্রুত ফলন দেয়।

 * রোপণ দূরত্ব: বেডে একাধিক চারা রোপণ করলে সাধারণত ২০ ফুট দূরত্ব রাখা হয়।

 * গর্ত তৈরি: চারা রোপণের জন্য ৬ ফুট চওড়া ও ৩ ফুট গভীর গর্ত তৈরি করে এক সপ্তাহ রোদে শুকিয়ে তারপর সার ও মাটি দিয়ে ভরাট করে নিতে হয়। গর্তের গোড়ায় খড়কুটা দিয়ে আগুন দিয়ে পুড়িয়ে মাটি জীবাণুমুক্ত করা যেতে পারে।

 * চারা রোপণ: চারার গোড়ার মাটি উঁচু করে বাইরের দিকে ঢালু করে দিলে গোড়ায় পানি জমবে না।

 * ছায়া: রোপণের প্রথম ১০-১৫ দিন উত্তর-পূর্ব দিক উন্মুক্ত রেখে পাতলা ছালা দিয়ে দক্ষিণ-পশ্চিম দিক ভালোভাবে ঢেকে গাছকে হালকা ছায়ায় রাখা প্রয়োজন, বিশেষ করে নতুন চারা রোপণের পর।

৪. পরিচর্যা:

 * পানি ব্যবস্থাপনা: খরা মৌসুমে নিয়মিত গাছের গোড়ায় পানি দিতে হবে। গাছের বৃদ্ধি ও ফলন উন্নত করার জন্য পর্যাপ্ত পানি দেওয়া ও নিষ্কাশন ব্যবস্থা জরুরি।

 * পরাগায়ন: খেজুর গাছের ফলনের জন্য পুরুষ ও স্ত্রী ফুল উভয়ই প্রয়োজন হয়। প্রাকৃতিকভাবে বাতাসের মাধ্যমে পরাগায়ন হলেও, বাণিজ্যিকভাবে হাত পরাগায়ন (manual pollination) করা হয় ভালো ফলনের জন্য।

 * সার প্রয়োগ: গাছের বয়স ও বৃদ্ধির পর্যায় অনুযায়ী সুষম সার প্রয়োগ করতে হয়।

 * রোগ ও পোকামাকড় নিয়ন্ত্রণ: রোগ ও পোকামাকড়ের আক্রমণ থেকে গাছকে রক্ষা করার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে।

 * ফলের যত্ন: ফল আসার পর সেগুলো থোকায় থোকায় ধরে, তখন ফলের উপযুক্ত বৃদ্ধি ও সুরক্ষার জন্য বিশেষ যত্ন নিতে হয়।

৫. ফল সংগ্রহ:

খেজুর ফল কাঁচা অবস্থায় সবুজ থাকে, তারপর হলুদ, লাল এবং সবশেষে বাদামী বা কালো হয়ে পাকে। জাতভেদে পাকার সময় ভিন্ন হয়। ফল যখন সম্পূর্ণ পেকে যায়, তখন সংগ্রহ করা হয়।

বাংলাদেশে সৌদি খেজুর চাষের সম্ভাবনা:

বাংলাদেশের উষ্ণ আবহাওয়া এবং ক্রমবর্ধমান লবণাক্ত মাটি সৌদি খেজুর চাষের জন্য অনুকূল হয়ে উঠছে। বিশেষ করে উপকূলীয় জেলাগুলোতে এর ভালো সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে। বর্তমানে অনেক কৃষক ব্যক্তিগত উদ্যোগে বা কৃষি গবেষকদের সহায়তায় আজওয়া, মরিয়ম, বারহি সহ বিভিন্ন জাতের সৌদি খেজুর সফলভাবে চাষ করছেন।

খেজুর চাষ একটি দীর্ঘমেয়াদী বিনিয়োগ, কারণ চারা রোপণের পর ফল আসতে সাধারণত ৪-৫ বছর সময় লাগে। তবে একবার ফলন শুরু হলে তা দীর্ঘকাল ধরে ফল দিতে থাকে।


মন্তব্য করুন

সম্পর্কিত পোস্ট