Loading..

নেতৃত্বের গল্প

রিসেট

০৫ আগস্ট, ২০২৫ ১০:১৫ পূর্বাহ্ণ

‘‘পিতা-মাতার দেখা স্বপ্নের পরের স্বপ্নটা দেখি শিক্ষকেরা’’

‘‘পিতা-মাতার দেখা স্বপ্নের পরের স্বপ্নটা দেখি শিক্ষকেরা’’

 

শুভকামনা আমার ক্ষুদে শিক্ষার্থী মাহবুবা ইসলাম সামিয়া(সপ্তম শ্রেণি)। বেশ শান্ত ও চুপচাপ থাকে সব সময়। তার কথাবলার ভঙ্গি সব সময় একই। চঞ্চলতা বলতে যা বুঝায় তা কখনো দেখিনি।

 

একেক দিন ক্লাসের একে জায়গায় বসে এটা তার একটা ভাল গুণ। আমিও সবাইকে এমনটাই নির্দেশ প্রদান করি, যেন সকল শিক্ষার্থীর সাথে একটা ভাল বন্ডিং হয়। কেউ সবল-কেউ দূর্বল এমন ভেদাভেদ না থাকে।

সৃজনশীলতা আছে, ইংরেজি হাতের লেখা অনেক সুন্দর। এজন্য গত বছর ষষ্ঠ শ্রেণিতে থাকাকালীন সুন্দর লেখার একটি পুরস্কার জিতে নেয় এই ক্ষুদে শিক্ষার্থী। তার এই গুণকে অর্থাৎ লেখার কৌশলকে তার সতীর্থদের সাথে শেয়ার করার সুযোগ তৈরি করে দেই।

 

তাকে নিয়ে আমার অনেক প্রত্যাশা। বিশেষ করে ক্লাসে সে তার সকল সতীর্থকে সাধ্যমতো সহযোগিতা করবে যা সকলের ভাল ফলাফলে সহায়ক হবে। সামিয়া প্রতটি ক্লাসে অনেককে সহযোগিতা করেও বটে।

 

ইংরেজিতে বেশ পারদর্শিতা আছে। নিজের মতো করে লিখতে পারে। গ্রামার অংশে কয়েকটি টপিক বাদে মোটামুটি সবগুলোই ভাল পারে। ক্লাসে শেয়ারিং এর মনোভাব রয়েছে। এজন্য  কোন কাজ করার পর প্রায়ই আমি তার সতীর্থদের শেয়ার করতে বলি। উল্লেখ্য, সপ্তম শ্রেণিতে কয়েকট জন ভাল শিক্ষার্থীর প্রভাবে পুরো ক্লাসে ইতিবাচক পরিবর্তন এসেছে।

 

আগে সবার সামনে কথাবলতে লজ্জা বোধ করতো। ইদানিং এটা কিছুটা কমেছে। তবে তার হাসিমুখটা এখনো সামনে আনতে পারছি না। সামিয় বেশ বাবা ভক্ত এই বিষয়টা আমাকে খুব আনন্দিত করে। সামিয়ার মতো এমন বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থী সপ্তম শ্রেণিকে আছে।

 

প্রত্যেক সন্তানকে নিয়ে পিতা-মাতার অনেক স্বপ্ন থাকে। তার পরের স্বপ্নটা থাকে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকদের। সেই হিসাবে আমিও সামিয়াকে নিয়ে স্বপ্ন দেখি। সে প্রতি বছর ভাল করবে। তার দ্বারা আরো কয়েকজন প্রভাবিত হবে, ক্রমশ আমার পুরো ক্লাসের শিক্ষার্থীদের উন্নতি হবে, পড়াশুনায় ভাল হবে। ওরা ভাল ফলাফল করলে প্রতিষ্ঠানের মুখ উজ্বল হবে। ওদের ভাল ফলাফল করিয়ে আমারা সম্মানিত হতে চাই।

 

প্রতিটি প্রতিষ্ঠানে প্রকাশিত-অপ্রকাশিত অনেক প্রতিবন্ধকতা থাকে। যা কেউ দেখে না। ঢালাওভাবে সমালোচনা করেন। কোথায়, কি পরিবেশে, কাদের নিয়ে কাজ করি এটা বিবেচনার প্রধান বিষয় হলেও আলোচনায় এগুলো উপক্ষিত থাকে। সবাইকে নিয়ে প্রাণপণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি প্রতিবন্ধকতা থেকে উত্তোরণের জন্য।

 

সচেতনদের লক্ষ্য উদ্দেশ্য কি, তারা সন্তানদের কোথায় পড়ান, তা জানার পরেও প্রতিষ্ঠান ও শিক্ষক এর উপর ভাল ফলাফলের চাপ অব্যাহত থাকে। অপ্রিয় হলেও সত্য শিক্ষক-শিক্ষার্থী-অভিভাবক-এলাকাবাসী একসাথে, এক লক্ষ্যে কাজ করলেই কেবল একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের  উন্নয়ন সম্ভব। এই লক্ষ্যে প্রতি বছর দুইটি করে অভিভাবক সমাবেশ করি।

 

প্রতিটি মানুষ যেমন তার সেরাটা সবসময় উজাড় করে দিতে চায়, আমরাও তেমনটাই চাই।

 

ধন্যবাদ

আপনাদের দোয়া ও সহযোগিতা আমি সবসময় চাই, চাইবো।

 

মো. আনোয়ার উদ্দীন (হিরন)

সহকারী প্রধান শিক্ষক

সান্দিকোনা স্কুল এন্ড কলেজ

কেন্দুয়া, নেত্রকোণা।

Website: www.sumbk.edu.bd

 

August 04, 2025

মন্তব্য করুন