Loading..

নেতৃত্বের গল্প

রিসেট

১২ আগস্ট, ২০২৫ ১১:২৬ পূর্বাহ্ণ

নাহিদাল-নেতৃত্বের গল্প উত্তমচর্চা অনুশীলনকারী বদ্দীপুর বহলাল সপ্রাবি এর গল্প!

বদ্দীপুর গ্রামের মাঝখানে দাঁড়িয়ে আছে একটি ছোট্ট অথচ গর্বের ঠিকানা—বদ্দীপুর বহলাল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। একসময় এই বিদ্যালয়ের চেহারা ছিল বেশ সাধারণ—পুরনো ভবন, কম উপস্থিতি, আর শিক্ষার্থীদের মধ্যে পড়াশোনার প্রতি খুব একটা আগ্রহ ছিল না।


উন্নয়নমূলক দিক

প্রথমেই শুরু হলো অবকাঠামোগত উন্নয়ন। শ্রেণিকক্ষগুলো রঙিন পোস্টার, পাঠ-চার্ট, বিজ্ঞান কর্নার আর দেয়ালপত্রিকা দিয়ে সাজানো হলো। বই পড়ার জন্য তৈরি হলো “গল্পের ঘর”—যেখানে প্রতিদিন বিরতির সময় শিশুরা নতুন গল্পের বই পড়ে। মাঠে বসানো হলো দোলনা আর স্লাইড, যাতে শিক্ষার্থীরা খেলাধুলার মাধ্যমে শারীরিক ও মানসিক বিকাশ পায়।

বিদ্যালয়ে শুরু হলো ডিজিটাল ক্লাসরুম। শিক্ষকরা প্রজেক্টরের মাধ্যমে বিজ্ঞান, গণিত আর ইংরেজি পড়াতে লাগলেন। শিশুরা ছবি, ভিডিও ও অ্যানিমেশনের মাধ্যমে বিষয়গুলো দ্রুত বুঝতে লাগল।


শ্রেণি পাঠদানের কৌশল

নাহিদাল আপা ও তাঁর সহকর্মীরা শুধু বই মুখস্থ করানো থেকে বেরিয়ে এসে নিলেন নতুন কৌশল—


গল্পের মাধ্যমে শেখানো: বাংলা ব্যাকরণ, গণিতের যোগ-বিয়োগ, এমনকি বিজ্ঞানও গল্পে মিশিয়ে শেখানো হতো।


খেলা-ভিত্তিক শিক্ষা: শব্দ মিল খেলা, সংখ্যা ধাঁধা, দলগত কুইজ—যা শিশুদের প্রতিযোগিতামূলক মনোভাব বাড়ায়।


দলীয় কাজ: প্রতিটি দলে একজন দলনেতা, তারা মিলে সমস্যার সমাধান করত। এতে নেতৃত্ব ও সহযোগিতার গুণ তৈরি হলো।


প্রকল্পভিত্তিক শেখা: যেমন, “আমাদের গ্রাম” প্রকল্পে শিক্ষার্থীরা নিজের গ্রাম নিয়ে ছবি, তথ্য আর ছোট লেখা তৈরি করে ক্লাসে উপস্থাপন করত।


পরিবর্তনের ফলাফল

এক বছরের মধ্যেই বদ্দীপুর বহলাল বিদ্যালয়ের দৃশ্য পাল্টে গেল। উপস্থিতির হার ৯৫%-এর উপরে, অভিভাবকরা বললেন—

 “আগে বাচ্চারা স্কুলে যেতে চাইত না, এখন সকালে উঠে নিজেরাই ব্যাগ গুছিয়ে নেয়।”


বিদ্যালয়টি এখন শুধু পড়াশোনার জায়গা নয়, বরং আনন্দ, সৃজনশীলতা আর স্বপ্ন গড়ার কারখানা।


নাহিদাল আরজিন

সহকারি শিক্ষক

বদ্দীপুর বহলাল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়

সাতক্ষীরা সদর, সাতক্ষীরা।

সেরা কনন্টেন্ট নির্মাতা ও সেরা উদ্ভাবনী শিক্ষক- ২০২৫

মন্তব্য করুন