Loading..

ভিডিও ক্লাস

রিসেট

২১ আগস্ট, ২০২৫ ১০:২৬ পূর্বাহ্ণ

পূর্ব পাকিস্তান ও পশ্চিম পাকিস্তানের মধ্যকার বৈষম্য এবং ৬-দফার প্রেক্ষাপট বাবিপ-অধ্যায়-1, সৃজনশীল-2

পূর্ব পাকিস্তান ও পশ্চিম পাকিস্তানের মধ্যকার বৈষম্য এবং ৬-দফার প্রেক্ষাপট বাবিপ-অধ্যায়-1, সৃজনশীল-2

এখানে প্রদত্ত চিত্র এবং প্রশ্নাবলীর উপর ভিত্তি করে উত্তরগুলো নিচে দেওয়া হলো: ক. কত সালে যুক্তফ্রন্ট গঠিত হয়? ১৯৫৩ সালের ৪ ডিসেম্বর যুক্তফ্রন্ট গঠিত হয়। তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের প্রাদেশিক পরিষদ নির্বাচনে ক্ষমতাসীন মুসলিম লীগকে পরাজিত করার লক্ষ্যে আওয়ামী মুসলিম লীগ, কৃষক শ্রমিক পার্টি, নেজামে ইসলাম এবং গণতন্ত্রী দল মিলে এই জোট গঠন করে। খ. বাংলাদেশের জাতীয় চেতনা ও বাঙালি জাতীয়তাবাদ বলতে কী বোঝায়? বাঙালি জাতীয়তাবাদ: বাঙালি জাতীয়তাবাদ হলো একটি রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক ধারণা যা ভাষা, সংস্কৃতি, ইতিহাস এবং ঐতিহ্যের উপর ভিত্তি করে বাঙালি জাতির ঐক্য, স্বাতন্ত্র্য ও অধিকারের কথা বলে। এই জাতীয়তাবাদের মূল ভিত্তি হলো বাংলা ভাষা। এর উন্মেষ ঘটে মূলত ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শাসনের সময় এবং এটি বিকশিত হয় ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন, ১৯৬৬ সালের ছয় দফা আন্দোলন, ১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থান এবং ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে, যার চূড়ান্ত পরিণতিতে বাংলাদেশ রাষ্ট্রের জন্ম হয়। বাংলাদেশের জাতীয় চেতনা: বাংলাদেশের জাতীয় চেতনা বলতে সেই সম্মিলিত অনুভূতি ও মূল্যবোধকে বোঝায় যা দেশের মানুষকে ঐক্যবদ্ধ করে। এই চেতনার মূলে রয়েছে মুক্তিযুদ্ধের আদর্শ। এটি বাঙালি জাতীয়তাবাদের উপর ভিত্তি করে গড়ে উঠলেও এর সাথে যুক্ত হয়েছে একাত্তরের রক্তক্ষয়ী সংগ্রাম, ত্যাগ এবং বিজয়ের গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাস। এই চেতনার মূল স্তম্ভগুলো হলো গণতন্ত্র, সমাজতন্ত্র, ধর্মনিরপেক্ষতা এবং জাতীয়তাবাদ, যা ১৯৭২ সালের সংবিধানে রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতি হিসেবে গৃহীত হয়েছিল। মূলত, বাংলাদেশের জাতীয় চেতনা হলো সেই শক্তি যা দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বকে সমুন্নত রাখে এবং সকল নাগরিককে একটি অভিন্ন পরিচয়ে আবদ্ধ করে। গ. ছয় দফার কোন দাবি চিত্র ক-এ প্রদর্শিত তথ্যের আলোকে উত্থাপিত হয়েছিল— ব্যাখ্যা কর। চিত্র ‘ক’-এ তৎকালীন পাকিস্তানের কেন্দ্রীয় সরকারের চাকুরি এবং সামরিক বাহিনীতে পূর্ব ও পশ্চিম পাকিস্তানের মধ্যে ভয়াবহ বৈষম্যের চিত্র তুলে ধরা হয়েছে। যেমন, সামরিক অফিসার পদে পশ্চিম পাকিস্তানিদের যেখানে ৯৫% অংশীদারিত্ব, সেখানে পূর্ব পাকিস্তানিদের অংশীদারিত্ব ছিল মাত্র ৫%। একইভাবে কেন্দ্রীয় সিভিল সার্ভিস, ফরেন সার্ভিস, সশস্ত্র বাহিনী এবং বিমান বাহিনীতেও পূর্ব পাকিস্তানিদের প্রতিনিধিত্ব ছিল হতাশাজনকভাবে কম। এই চরম প্রশাসনিক ও সামরিক বৈষম্যের প্রেক্ষাপটে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান উত্থাপিত ছয় দফার ষষ্ঠ দফাটি প্রাসঙ্গিক। এই দফায় বলা হয়েছিল: ষষ্ঠ দফা: আঞ্চলিক সেনাবাহিনী গঠনের ক্ষমতা। এই দফায় আঞ্চলিক সংহতি ও শাসনতন্ত্র রক্ষার জন্য অঙ্গরাজ্যগুলোকে (অর্থাৎ পূর্ব পাকিস্তানকে) নিজস্ব কর্তৃত্বাধীনে আধা-সামরিক বা আঞ্চলিক সেনাবাহিনী গঠন ও রাখার ক্ষমতা দেওয়ার দাবি করা হয়েছিল। ব্যাখ্যা: চিত্র ‘ক’-এর তথ্য স্পষ্টভাবে প্রমাণ করে যে, পাকিস্তানের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা মূলত পশ্চিম পাকিস্তানিদের নিয়ন্ত্রণে ছিল। পূর্ব পাকিস্তানের নিরাপত্তা এবং প্রতিরক্ষায় তাদের নিজেদের জনগণের কার্যকর কোনো ভূমিকা রাখার সুযোগ ছিল না। এই সামরিক বৈষম্য দূর করে এবং অঞ্চলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যেই ষষ্ঠ দফায় পূর্ব পাকিস্তানের জন্য একটি নিজস্ব আধা-সামরিক বা আঞ্চলিক বাহিনী গঠনের দাবি উত্থাপন করা হয়েছিল। ঘ. ‘চিত্র খ-এ প্রদর্শিত বৈষম্যের কারণেই ছয় দফা দাবি তোলা হয়েছিল’— তুমি কি এ বক্তব্যের সাথে একমত? তোমার উত্তরের স্বপক্ষে যুক্তি দাও। হ্যাঁ, আমি এই বক্তব্যের সাথে সম্পূর্ণ একমত। চিত্র ‘খ’-এ প্রদর্শিত অর্থনৈতিক বৈষম্যই ছিল ছয় দফা দাবি উত্থাপনের অন্যতম প্রধান এবং সবচেয়ে শক্তিশালী কারণ। উত্তরের স্বপক্ষে যুক্তি: চিত্র ‘খ’-এ উন্নয়ন খাতের বৈদেশিক মুদ্রা, মার্কিন সাহায্য, শিল্পক্ষেত্রে বিনিয়োগ ও ঋণসহ বিভিন্ন অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে পূর্ব ও পশ্চিম পাকিস্তানের মধ্যে যে বিশাল বৈষম্য দেখানো হয়েছে, তা থেকে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের প্রতি পশ্চিম পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠীর শোষণ ও বঞ্চনার একটি সুস্পষ্ট চিত্র পাওয়া যায়। যেমন, উন্নয়ন খাতে বৈদেশিক মুদ্রার ৮০% পেত পশ্চিম পাকিস্তান, আর মাত্র ২০% পেত পূর্ব পাকিস্তান। শিল্পক্ষেত্রে বিনিয়োগের ৭৮% এবং ঋণের ৯৬% পশ্চিম পাকিস্তানে কেন্দ্রীভূত ছিল, যা পূর্ব পাকিস্তানকে একটি অর্থনৈতিক উপনিবেশে পরিণত করার সামিল। এই অর্থনৈতিক শোষণ ও বঞ্চনা অবসানের লক্ষ্যেই ছয় দফা প্রণীত হয়েছিল, যাকে "বাঙালি জাতির মুক্তির সনদ" বা ম্যাগনাকার্টা বলা হয়। ছয় দফার বেশ কয়েকটি দাবি সরাসরি এই অর্থনৈতিক বৈষম্যের প্রতিকার করার জন্য হয়েছিল: তৃতীয় দফা: এতে পূর্ব ও পশ্চিম পাকিস্তানের জন্য দুটি পৃথক ও অবাধে বিনিময়যোগ্য মুদ্রা অথবা একটি মুদ্রার শর্তে পূর্ব পাকিস্তান থেকে মূলধন পাচার রোধে কার্যকর ব্যবস্থা এবং পূর্বের জন্য পৃথক রিজার্ভ ব্যাংক ও মুদ্রানীতির দাবি করা হয়েছিল। এটি করা হয়েছিল যাতে পূর্ব পাকিস্তানের অর্জিত সম্পদ পশ্চিমে পাচার হতে না পারে। চতুর্থ দফা: এই দফায় সকল প্রকার কর ও শুল্ক ধার্য এবং আদায়ের ক্ষমতা আঞ্চলিক সরকারের হাতে ন্যস্ত করার দাবি জানানো হয়। এর উদ্দেশ্য ছিল, অর্জিত রাজস্ব যেন পূর্ব পাকিস্তানের উন্নয়নে ব্যয় করা যায়। পঞ্চম দফা: এতে বৈদেশিক বাণিজ্য ও বৈদেশিক সাহায্য বিষয়ে চুক্তি সম্পাদনের ক্ষমতা এবং অর্জিত বৈদেশিক মুদ্রার উপর আঞ্চলিক সরকারের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার দাবি করা হয়। চিত্র ‘খ’-তে দেখানো বৈদেশিক মুদ্রা বণ্টনের বৈষম্য নিরসনে এই দাবিটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ছিল। সুতরাং, চিত্র ‘খ’-এ প্রদর্শিত চরম অর্থনৈতিক বৈষম্যমূলক চিত্রটি প্রমাণ করে যে, পূর্ব পাকিস্তানকে অর্থনৈতিকভাবে পঙ্গু করে রাখা হয়েছিল। এই অবিচার ও শোষণ থেকে মুক্তি পাওয়ার জন্যই একটি স্বায়ত্তশাসিত অর্থনৈতিক ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে ছয় দফা দাবি উত্থাপন করা হয়েছিল, যা ছিল যৌক্তিক এবং অপরিহার্য। যুক্তফ্রন্ট কখন গঠিত হয়? ছয় দফা দাবিগুলো কি কি? বাঙালি জাতীয়তাবাদ বলতে কী বোঝায়? বাংলাদেশের জাতীয় চেতনার ভিত্তি

মন্তব্য করুন