সহকারী শিক্ষক
২২ আগস্ট, ২০২৫ ০১:৫০ অপরাহ্ণ
সহকারী শিক্ষক
ধরনঃ সাধারণ শিক্ষা
শ্রেণিঃ দ্বাদশ
বিষয়ঃ বাংলা সহপাঠ
মহুয়া' পালা অনুসারে, বেদের দল মহুয়াকে নিয়ে একদিন অন্ধকার রাতে সুসং দুর্গাপুর পরগনার উত্তরে গারো পাহাড়ের গভীরে পালিয়ে যায়। **খ. নদের চাঁদের হাতে মহুয়াকে তুলে দিতে হুমরা বেদে সম্মত নন কেন?** নদের চাঁদের হাতে মহুয়াকে তুলে দিতে হুমরা বেদে সম্মত ছিলেন না, কারণ মহুয়া ছিল তার পালিত কন্যা এবং বেদে দলের অমূল্য সম্পদ। এর পেছনে কয়েকটি কারণ বিদ্যমান: * **পিতৃস্নেহ:** হুমরা বেদে মহুয়াকে শিশুকালে কুড়িয়ে পেয়ে নিজের সন্তানের মতো লালন-পালন করেন। তাই তার প্রতি হুমরার প্রচণ্ড পিতৃস্নেহ ছিল। * **বেদে দলের সম্পদ:** মহুয়ার রূপ ও গুণ, বিশেষ করে তার নাচ-গান বেদে দলের জীবিকা নির্বাহের প্রধান আকর্ষণ ছিল। তাকে হারালে দলের অস্তিত্ব সংকটে পড়বে বলে হুমরা আশঙ্কা করতেন। * **শ্রেণিবৈষম্য:** নদের চাঁদ ছিলেন একজন জমিদারপুত্র, অন্যদিকে মহুয়া ছিল বেদে সম্প্রদায়ের মেয়ে। এই সামাজিক ও শ্রেণিগত পার্থক্যের কারণে তাদের মিলন হুমরা মেনে নিতে পারেননি। * **আভিজাত্যের প্রতি অবিশ্বাস:** হুমরা বেদে জমিদার বা অভিজাত শ্রেণির মানুষদের বিশ্বাস করতেন না। তিনি মনে করতেন, নদের চাঁদের ভালোবাসা মহুয়ার জন্য সর্বনাশ ডেকে আনবে। এই কারণগুলোর জন্যই হুমরা বেদে কোনোভাবেই মহুয়াকে নদের চাঁদের হাতে তুলে দিতে রাজি ছিলেন না। **গ. দুলির সাথে মহুয়া চরিত্রের সাদৃশ্য নিরূপণ কর।** উদ্দীপকের দুলি এবং 'মহুয়া' পালার মহুয়া—উভয় চরিত্রের মধ্যেই বেশ কিছু সাদৃশ্য লক্ষ্য করা যায়। নিচে তা তুলে ধরা হলো: * **প্রেমের প্রতি অবিচলতা:** উভয় চরিত্রই তাদের ভালোবাসার জন্য ছিল অবিচল। দুলি সাগরকে ভালোবাসত এবং তার জন্য সমাজের প্রথা ভেঙে পালিয়ে যেতে দ্বিধা করেনি। একইভাবে মহুয়াও জমিদারপুত্র নদের চাঁদকে গভীরভাবে ভালোবাসত এবং তার জন্য নিজের সম্প্রদায় ত্যাগ করতে প্রস্তুত ছিল। * **বিদ্রোহী সত্তা:** দুলি ও মহুয়া দুজনেই প্রচলিত সমাজ ব্যবস্থার বিরুদ্ধে বিদ্রোহী। দুলির বাবা তাদের সম্পর্ক মেনে না নিয়ে অন্যত্র বিয়ে দিলেও সে তার স্বামীকে গ্রহণ করেনি এবং পুরনো প্রেমিকের সাথে পালিয়ে যায়। মহুয়াও তার পালক পিতা হুমরা বেদের বাধা এবং বেদে সমাজের নিয়মকানুন উপেক্ষা করে নদের চাঁদের প্রতি বিশ্বস্ত ছিল। * **সাহসিকতা:** দুটি চরিত্রই অত্যন্ত সাহসী। প্রতিকূল পরিস্থিতিতেও তারা ভয় পেয়ে পিছিয়ে যায়নি। দুলি তার শ্বশুরবাড়ি থেকে প্রেমিকের হাত ধরে পালিয়ে যাওয়ার সাহস দেখিয়েছে। মহুয়াও নিজের জীবন বিপন্ন করে ভালোবাসার মানুষকে পাওয়ার জন্য সংগ্রাম করেছে। * **আত্মত্যাগের মানসিকতা:** ভালোবাসাকে টিকিয়ে রাখতে উভয় চরিত্রই আত্মত্যাগের পথ বেছে নেয়। উদ্দীপকে দেখা যায়, ধরা পড়ার পর দুলি ও সাগর একসাথে আত্মাহুতি দেয়। 'মহুয়া' পালার শেষেও মহুয়া ছুরি দিয়ে আত্মহত্যা করে প্রেমের চূড়ান্ত নিদর্শন স্থাপন করে। সুতরাং, প্রেমনিষ্ঠা, দ্রোহ, সাহস এবং আত্মত্যাগের মতো গুণাবলি দুলি এবং মহুয়া চরিত্র দুটিকে সাদৃশ্যপূর্ণ করে তুলেছে। **ঘ. সাগর-দুলির প্রেমের শাশ্বত রূপই যেন “মহুয়া” রচনার মূল উপজীব্য– মন্তব্যটির যথার্থতা বিশ্লেষণ কর।** "সাগর-দুলির প্রেমের শাশ্বত রূপই যেন 'মহুয়া' রচনার মূল উপজীব্য"— এই মন্তব্যটি সম্পূর্ণ যথার্থ। 'মহুয়া' পালা একটি রোমান্টিক আখ্যান, যার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে মহুয়া ও নদের চাঁদের নিষ্কলুষ ও বাঁধনহারা প্রেম। তাদের এই প্রেম সামাজিক বাধা, শ্রেণিগত বৈষম্য এবং প্রতিকূল পরিস্থিতিকে অতিক্রম করে এক শাশ্বত রূপ লাভ করেছে। উদ্দীপকের সাগর এবং দুলির প্রেমের আখ্যানেও একই সুর ধ্বনিত হয়েছে। তাদের সম্পর্ক সমাজ ও পরিবার মেনে নেয়নি, ঠিক যেমন মহুয়া ও নদের চাঁদের প্রেমকে বেদে সমাজ এবং হুমরা বেদে মেনে নিতে পারেনি। সাগর এবং দুলি সকল বাধা উপেক্ষা করে একে অপরের প্রতি বিশ্বস্ত থেকেছে এবং अंततः ভালোবাসার জন্য জীবন উৎসর্গ করেছে। তাদের এই আত্মাহুতি প্রেমকে মৃত্যুর ঊর্ধ্বে এক শাশ্বত মর্যাদা দিয়েছে। 'মহুয়া' পালায় মহুয়া ও নদের চাঁদের প্রেমও একইভাবে সমস্ত সামাজিক প্রতিবন্ধকতাকে অস্বীকার করে। হুমরা বেদের বাধা, বেদে সমাজের নিয়ম, শ্রেণিগত বিভেদ—কোনো কিছুই তাদের প্রেমে বাধা সৃষ্টি করতে পারেনি। অবশেষে, যখন মিলন সম্ভব নয় বলে মনে হয়েছে, তখন মহুয়া আত্মহত্যার মাধ্যমে তাদের প্রেমকে অমর করে দিয়ে গেছে। সুতরাং, উদ্দীপকের সাগর-দুলির প্রেমের যে বিদ্রোহী, আপোষহীন এবং আত্মত্যাগী রূপ ফুটে উঠেছে, তা 'মহুয়া' পালার মূল উপজীব্য—প্রেমের শাশ্বত মহিমারই প্রতিচ্ছবি। উভয় কাহিনীতেই প্রেম সামাজিক অনুশাসনের ঊর্ধ্বে স্থান পেয়েছে এবং মৃত্যুকে অতিক্রম করে অমরত্ব লাভ করেছে। তাই, মন্তব্যটি সম্পূর্ণরূপে সঠিক ও যুক্তিযুক্ত।