এখানে উদ্দীপকের প্রশ্নগুলোর উত্তর দেওয়া হলো:
**ক. মুকুন্দরাম চক্রবর্তী কোন যুগের কবি?**
মুকুন্দরাম চক্রবর্তী মধ্যযুগের কবি।
**খ. ফুল্লরা জ্যৈষ্ঠ মাসকে পাপিষ্ঠ বলেছে কেন? ব্যাখ্যা কর।**
ফুল্লরা জ্যৈষ্ঠ মাসকে 'পাপিষ্ঠ' বলেছে কারণ এই মাসে প্রচণ্ড গরম এবং কষ্টের কারণে তার জীবন দুর্বিষহ হয়ে ওঠে। 'ফুল্লরার বারোমাস্যা' কবিতায় ফুল্লরা তার দুঃখের বর্ণনায় বলেছে যে, জ্যৈষ্ঠ মাসের তীব্র রোদে তার শরীর পুড়ে যায়। তৃষ্ণায় ছাতি ফাটলেও চিলের ভয়ে সে মাংসের পসরা ফেলে কোথাও যেতে পারে না। এই কঠিন সময়ে তাকে শুধুমাত্র ফল খেয়ে দিন কাটাতে হয়, যা তার দারিদ্র্য ও কষ্টকে আরও বাড়িয়ে তোলে। একারণেই সে দুঃখ ও ক্ষোভের সাথে জ্যৈষ্ঠ মাসকে পাপিষ্ঠ বলে অভিহিত করেছে।
**গ. উদ্দীপকের রহিমা মধ্যে 'ফুল্লরার বারোমাস্যা' কবিতার ফুল্লরার চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যের যে দিকটি ফুটে উঠেছে তা ব্যাখ্যা কর।**
উদ্দীপকের রহিমা বেগমের চরিত্রের মধ্যে 'ফুল্লরার বারোমাস্যা' কবিতার ফুল্লরার সংগ্রামী ও দুঃখী জীবনের প্রতিচ্ছবি ফুটে উঠেছে। ফুল্লরা ছিলেন একজন দরিদ্র ব্যাধের স্ত্রী, যার জীবন চরম অভাব-অনটনের মধ্যে কাটত। তাকে ও তার স্বামীকে পশু শিকার করে এবং সেই মাংস বিক্রি করে খুব কষ্টে সংসার চালাতে হতো।
একইভাবে, উদ্দীপকের রহিমা বেগমও স্বামীর মৃত্যুর পর একা হয়ে পড়েন এবং সংসার চালানোর জন্য অন্যের বাড়িতে কাজ করেন। তার থাকার ঘর ছাড়া আর কোনো সম্পদ নেই এবং সংসারে সব সময় অভাব লেগেই থাকে। ফুল্লরার মতো রহিমাও একজন সংগ্রামী নারী, যিনি সমস্ত প্রতিকূলতার বিরুদ্ধে লড়াই করে নিজের সংসার ও সন্তানদেরดูแล করছেন। দুজনের জীবনই কষ্ট এবং সংগ্রামের, এবং উভয়কেই কঠিন পরিস্থিতির মোকাবিলা করে টিকে থাকতে হয়। সুতরাং, রহিমার কষ্টসহিষ্ণুতা ও সংগ্রামী মনোভাবের দিকটি ফুল্লরার চরিত্রের সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ।
**ঘ. 'অবস্থানগত সাদৃশ্য থাকলেও দুঃখকে অতিক্রম করার ক্ষেত্রে রহিমা ও ফুল্লরার মধ্যে বৈসাদৃশ্য বিদ্যমান' – বিশ্লেষণ কর।**
উদ্দীপকের রহিমা এবং 'ফুল্লরার বারোমাস্যা' কবিতার ফুল্লরার জীবনযাত্রায় অনেক মিল থাকলেও, দুঃখ থেকে মুক্তি পাওয়ার ভাবনার ক্ষেত্রে তাদের মধ্যে সুস্পষ্ট পার্থক্য রয়েছে।
**সাদৃশ্য:** রহিমা ও ফুল্লরা উভয়েই অত্যন্ত দরিদ্র। রহিমা বিধবা এবং অন্যের বাড়িতে কাজ করে সংসার চালান। অন্যদিকে, ফুল্লরার স্বামী থাকলেও তাদের জীবন অনিশ্চিত শিকারের ওপর নির্ভরশীল, ফলে তাদের সংসারেও অভাব লেগেই থাকে। দুজনের জীবনই সংগ্রাম ও অনিশ্চয়তায় ভরা।
**বৈসাদৃশ্য:** দুঃখকে জয় করার মানসিকতার দিক থেকে দুজনের মধ্যে বড় পার্থক্য রয়েছে। রহিমা বেগম তার সন্তানদের স্কুলে পাঠান এবং স্বপ্ন দেখেন যে, একদিন পড়াশোনা করে তারা এই দুঃখের জীবন থেকে মুক্তি পাবে। তার এই প্রচেষ্টা বর্তমানের কষ্টকে स्वीकार করে ভবিষ্যতের জন্য একটি ইতিবাচক পদক্ষেপ।
বিপরীতে, ফুল্লরার দুঃখের বর্ণনা ছিল মূলত তার বর্তমান পরিস্থিতিকে রক্ষা করার একটি উপায়। ছদ্মবেশী দেবী চণ্ডীকে তার সতীন মনে করে ভয় দেখিয়ে তাড়ানোর জন্য সে তার বারো মাসের কষ্টের কাহিনী শুনিয়েছিল। তার বর্ণনায় দুঃখ থেকে মুক্তির কোনো দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনার কথা নেই, বরং এটি ছিল তার দুর্দশাময় জীবনের একটি বাস্তব চিত্র তুলে ধরে সেই অবস্থাকেই টিকিয়ে রাখার চেষ্টা। রহিমা যেখানে শিক্ষার মাধ্যমে ভবিষ্যৎ বদলানোর স্বপ্ন দেখেন, ফুল্লরার ভাবনায় সেই চেতনার প্রকাশ ঘটেনি।
সুতরাং, যদিও রহিমা ও ফুল্লরা উভয়েই দুঃখী ও সংগ্রামী, কিন্তু দুঃখ থেকে মুক্তির পথে রহিমা ভবিষ্যতের স্বপ্ন দেখেন, আর ফুল্লরা তার বর্তমানকে নিয়েই চিন্তিত। এখানেই তাদের মধ্যে মূল পার্থক্য।