Loading..

পাঠসংশ্লিষ্ট ছবি/ইমেজ

রিসেট

২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৫ ০৮:৪৪ পূর্বাহ্ণ

টাইফয়েড টিকা *সুস্থতা আল্লাহর মেয়ামত*

টাইফয়েডের টিকা: শিক্ষার্থীদের জন্য এক সুরক্ষাকবচ

টাইফয়েড একটি পানিবাহিত রোগ যা সালমোনেলা টাইফি নামক ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণে হয়ে থাকে। এই জ্বরে আক্রান্ত হলে রোগীর জীবন পর্যন্ত বিপন্ন হতে পারে। তবে আশার কথা হলো, টিকার মাধ্যমে এই রোগ কার্যকরভাবে প্রতিরোধ করা সম্ভব। বিশেষ করে শিক্ষার্থীদের জন্য এই টিকার প্রয়োজনীয়তা অপরিসীম।

টাইফয়েডের টিকা কী?

টাইফয়েডের টিকা হলো এক ধরণের জৈব প্রস্তুতি যা টাইফয়েড জ্বর থেকে সুরক্ষা প্রদান করে। এই টিকা শরীরে সালমোনেলা টাইফি ব্যাকটেরিয়ার বিরুদ্ধে প্রতিরোধ ক্ষমতা বা অ্যান্টিবডি তৈরি করে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) অনুমোদিত বিভিন্ন ধরণের টাইফয়েড টিকা রয়েছে, যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো:

  • টাইফয়েড কনজুগেট ভ্যাকসিন (TCV): এটি একটি অত্যন্ত কার্যকর টিকা যা ৯ মাস বয়সী শিশু থেকে শুরু করে সব বয়সের মানুষ নিতে পারে। এর একটি ডোজই দীর্ঘমেয়াদী সুরক্ষা দেয়।

  • ভিআই ক্যাপসুলার পলিস্যাকারাইড ভ্যাকসিন (ViCPS): এটি দুই বছরের বেশি বয়সী শিশুদের জন্য উপযোগী।

  • মুখে খাওয়ার টিকা (Ty21a): এটি ৬ বছরের বেশি বয়সীদের জন্য ক্যাপসুল আকারে দেওয়া হয়।

এই টিকাগুলো টাইফয়েড প্রতিরোধে ৫০% থেকে ৮৫% পর্যন্ত কার্যকর বলে প্রমাণিত হয়েছে।

শিক্ষার্থীদের জন্য টাইফয়েডের টিকা কেন জরুরি?

শিক্ষার্থীরা দেশের ভবিষ্যৎ এবং তাদের সুস্থতা নিশ্চিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিভিন্ন কারণে শিক্ষার্থীদের টাইফয়েডে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বেশি থাকে, যার ফলে তাদের জন্য এই টিকার প্রয়োজনীয়তা অনেক।

  • স্কুলে সংক্রমণের ঝুঁকি: শিক্ষার্থীরা দিনের বেশিরভাগ সময় স্কুলে অন্য অনেক ছাত্র-ছাত্রীর সাথে একসঙ্গে কাটায়। স্কুলের অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ, অনিরাপদ পানি এবং খোলা খাবার থেকে টাইফয়েডের জীবাণু খুব সহজে ছড়াতে পারে। একজন আক্রান্ত হলে তার থেকে অন্যদের মধ্যে রোগ ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা থাকে।

  • অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস: অনেক শিক্ষার্থী স্কুলের বাইরে বা রাস্তার পাশের দোকান থেকে খাবার ও পানীয় গ্রহণ করে, যা প্রায়শই স্বাস্থ্যসম্মতভাবে প্রস্তুত করা হয় না। এর ফলে টাইফয়েডের মতো পানিবাহিত রোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বেড়ে যায়।

  • শিক্ষাজীবনে প্রভাব: টাইফয়েডে আক্রান্ত হলে দীর্ঘ সময় ধরে শারীরিক দুর্বলতা থাকে এবং সম্পূর্ণ সুস্থ হতে काफी দিন সময় লাগে। এর ফলে শিক্ষার্থীর পড়াশোনায় মারাত্মকভাবে ব্যাঘাত ঘটে এবং তারা শিক্ষাজীবনে পিছিয়ে পড়তে পারে।

  • সামগ্রিক জনস্বাস্থ্য রক্ষা: শিশুদের মধ্যে টাইফয়েডের প্রকোপ বেশি। শিক্ষার্থীদের টিকা দেওয়ার মাধ্যমে সমাজে এই রোগের বিস্তার নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব। একটি বৃহৎ জনগোষ্ঠীকে টিকার আওতায় আনা গেলে হার্ড ইমিউনিটি (গোষ্ঠী مصونیت) তৈরি হয়, যা পরোক্ষভাবে সেই সব মানুষকেও সুরক্ষা দেয় যারা টিকা নিতে পারেনি।

বাংলাদেশে টাইফয়েড টিকাদান কর্মসূচি

বাংলাদেশে টাইফয়েড একটি সাধারণ স্বাস্থ্য সমস্যা এবং শিশুদের মধ্যে এর প্রাদুর্ভাব সবচেয়ে বেশি। ২০১৯ সালের এক সমীক্ষা অনুযায়ী, দেশে বছরে প্রায় ৪ লক্ষ ৭৮ হাজার মানুষ টাইফয়েডে আক্রান্ত হয়, যার মধ্যে ৬৮ শতাংশই শিশু।

এই ভয়াবহতা উপলব্ধি করে বাংলাদেশ সরকার সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচির (EPI) আওতায় দেশব্যাপী ৯ মাস থেকে ১৫ বছরের কম বয়সী শিশু ও শিক্ষার্থীদের বিনামূল্যে টাইফয়েড কনজুগেট ভ্যাকসিন (TCV) প্রদানের উদ্যোগ নিয়েছে। বিভিন্ন সময়ে, বিশেষ করে অক্টোবর মাসের দিকে, স্কুলভিত্তিক ও কমিউনিটি পর্যায়ে এই টিকাদান ক্যাম্পেইন পরিচালিত হয়। এর মূল লক্ষ্য হলো ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে টাইফয়েডের মারাত্মক ঝুঁকি থেকে রক্ষা করা এবং দেশে এই রোগের প্রকোপ কমিয়ে আনা।

সুতরাং, প্রতিটি অভিভাবকের উচিত তাদের সন্তানকে সময়মতো টাইফয়েডের টিকা দেওয়া নিশ্চিত করা। এটি কেবল শিক্ষার্থীর ব্যক্তিগত সুরক্ষাই নিশ্চিত করে না, বরং একটি সুস্থ ও নিরাপদ সমাজ গঠনেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

মন্তব্য করুন

সম্পর্কিত পোস্ট