সিনিয়র শিক্ষক
০২ অক্টোবর, ২০২৫ ০৭:৩৯ পূর্বাহ্ণ
সিনিয়র শিক্ষক
ধরনঃ সাধারণ শিক্ষা
শ্রেণিঃ নবম
বিষয়ঃ গার্হস্হ্য বিজ্ঞান
অধ্যায়ঃ অধ্যায় দশম
নায়াসিন (Niacin)
নায়াসিন হলো ভিটামিন বি–৩ (Vitamin B3)। একে নিকোটিনিক অ্যাসিড (Nicotinic acid) বা নিকোটিনামাইড (Nicotinamide) নামেও ডাকা হয়। এটি পানিতে দ্রবণীয় ভিটামিন এবং শরীরের শক্তি উৎপাদন প্রক্রিয়ায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
নায়াসিনের কাজ:
নায়াসিনের উৎস:
নায়াসিনের অভাবজনিত রোগ: নায়াসিনের
ঘাটতিতে পেলাগ্রা (Pellagra) রোগ
হয়।
পেলাগ্রার প্রধান লক্ষণ:
১। Dermatitis (ত্বকের প্রদাহ ও দাগ)
২। Diarrhea (ডায়রিয়া বা পাতলা পায়খানা)
৩। Dementia (স্মৃতিভ্রংশ, মানসিক সমস্যা)
একে 3D রোগ বলা হয়। মারাত্মক ক্ষেত্রে মৃত্যু পর্যন্ত হতে পারে।
নায়াসিনের অভাবের লক্ষণ:
১। ক্ষুধামন্দা
২। দুর্বলতা ও ক্লান্তি
৩। ত্বকে খসখসে দাগ
৪। ডায়রিয়া
৫। মাথা ঘোরা, মাথাব্যথা
৬। মানসিক বিভ্রান্তি
নায়াসিনের অতিরিক্ততা: খুব বেশি মাত্রায় নায়াসিন সাপ্লিমেন্ট খেলে-
১। ত্বকে লালভাব ও জ্বালাপোড়া (Niacin flush)
২। লিভারের ক্ষতি
৩। রক্তচাপ কমে যাওয়া
৪। হাইপারগ্লাইসেমিয়া (রক্তে শর্করা বৃদ্ধি)
প্রতিকার:
১। ভিটামিন বি-৩ সমৃদ্ধ খাবার খাওয়া।
২। প্রয়োজন হলে চিকিৎসকের পরামর্শে নায়াসিন সাপ্লিমেন্ট গ্রহণ।
৩। সুষম খাদ্যাভ্যাস বজায় রাখা।
প্রতিরোধ:
১। নিয়মিত সুষম খাদ্য গ্রহণ।
২। চাল ও গমের ভূষি না ফেলে খাওয়া।
৩। শিশু ও বৃদ্ধদের জন্য পর্যাপ্ত প্রাণিজ খাদ্য ও ডাল-বাদামের ব্যবস্থা করা।
নায়াসিন একটি অপরিহার্য ভিটামিন, যা শরীরের শক্তি উৎপাদন থেকে শুরু করে স্নায়ুতন্ত্র, ত্বক ও মানসিক স্বাস্থ্য পর্যন্ত সবকিছুতেই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এর অভাব হলে গুরুতর রোগ হতে পারে, তাই প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় নায়াসিনসমৃদ্ধ খাবার রাখা অত্যন্ত জরুরি।