Loading..

পাঠসংশ্লিষ্ট ছবি/ইমেজ

রিসেট

০২ অক্টোবর, ২০২৫ ০৭:৩৯ পূর্বাহ্ণ

নায়াসিনের উৎস

নায়াসিন (Niacin)

নায়াসিন হলো ভিটামিন বি–৩ (Vitamin B3)। একে নিকোটিনিক অ্যাসিড (Nicotinic acid) বা নিকোটিনামাইড (Nicotinamide) নামেও ডাকা হয়। এটি পানিতে দ্রবণীয় ভিটামিন এবং শরীরের শক্তি উৎপাদন প্রক্রিয়ায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

নায়াসিনের কাজ:

  • ১। শরীরে কার্বোহাইড্রেট, প্রোটিন ও চর্বি থেকে শক্তি উৎপাদনে সহায়তা করে।

  • ২। স্নায়ুতন্ত্র ও পরিপাকতন্ত্র সুস্থ রাখে।

  • ৩। ত্বক ও চুলের স্বাস্থ্য রক্ষায় ভূমিকা রাখে।

  • ৪। রক্ত সঞ্চালন উন্নত করে এবং কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে।

  • ৫। শরীরে NAD (Nicotinamide Adenine Dinucleotide) ও NADP নামক কো-এনজাইম গঠনে অপরিহার্য, যা শতাধিক বিপাকীয় ক্রিয়ায় জড়িত।

নায়াসিনের উৎস:

  • ১। মাংস (বিশেষত লিভার)

  • ২। মাছ (টুনা, স্যামন ইত্যাদি)

  • ৩। পোলট্রি (মুরগি, হাঁস)

  • ৪। ডিম

  • ৫। দুধ ও দুগ্ধজাত খাদ্য

  • ৬। ডাল, বাদাম ও শস্যজাতীয় খাবার

  • ৭। গম, চালের ভূষি ও যব
  • নায়াসিনের অভাবজনিত রোগ: নায়াসিনের ঘাটতিতে পেলাগ্রা (Pellagra) রোগ হয়।
    পেলাগ্রার প্রধান লক্ষণ:

    ১। Dermatitis (ত্বকের প্রদাহ ও দাগ)

    ২। Diarrhea (ডায়রিয়া বা পাতলা পায়খানা)

    ৩। Dementia (স্মৃতিভ্রংশ, মানসিক সমস্যা)

    একে 3D রোগ বলা হয়। মারাত্মক ক্ষেত্রে মৃত্যু পর্যন্ত হতে পারে।

    নায়াসিনের অভাবের লক্ষণ:

    ১। ক্ষুধামন্দা

    ২। দুর্বলতা ও ক্লান্তি

    ৩। ত্বকে খসখসে দাগ

    ৪। ডায়রিয়া

    ৫। মাথা ঘোরা, মাথাব্যথা

    ৬। মানসিক বিভ্রান্তি

    নায়াসিনের অতিরিক্ততা: খুব বেশি মাত্রায় নায়াসিন সাপ্লিমেন্ট খেলে-

    ১। ত্বকে লালভাব ও জ্বালাপোড়া (Niacin flush)

    ২। লিভারের ক্ষতি

    ৩। রক্তচাপ কমে যাওয়া

    ৪। হাইপারগ্লাইসেমিয়া (রক্তে শর্করা বৃদ্ধি)

    প্রতিকার:

    ১। ভিটামিন বি-৩ সমৃদ্ধ খাবার খাওয়া।

    ২। প্রয়োজন হলে চিকিৎসকের পরামর্শে নায়াসিন সাপ্লিমেন্ট গ্রহণ।

    ৩। সুষম খাদ্যাভ্যাস বজায় রাখা।

    প্রতিরোধ:

    ১। নিয়মিত সুষম খাদ্য গ্রহণ।

    ২। চাল ও গমের ভূষি না ফেলে খাওয়া।

    ৩। শিশু ও বৃদ্ধদের জন্য পর্যাপ্ত প্রাণিজ খাদ্য ও ডাল-বাদামের ব্যবস্থা করা।

    নায়াসিন একটি অপরিহার্য ভিটামিন, যা শরীরের শক্তি উৎপাদন থেকে শুরু করে স্নায়ুতন্ত্র, ত্বক ও মানসিক স্বাস্থ্য পর্যন্ত সবকিছুতেই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এর অভাব হলে গুরুতর রোগ হতে পারে, তাই প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় নায়াসিনসমৃদ্ধ খাবার রাখা অত্যন্ত জরুরি।

     

মন্তব্য করুন

সম্পর্কিত পোস্ট