Loading..

পাঠসংশ্লিষ্ট ছবি/ইমেজ

রিসেট

০৩ অক্টোবর, ২০২৫ ১১:১১ অপরাহ্ণ

ডায়াবেটিস : একটি বিপাকজনিত দীর্ঘমেয়াদি রোগ

ডায়াবেটিস : একটি বিপাকজনিত দীর্ঘমেয়াদি রোগ

ডায়াবেটিস একটি বিপাকজনিত অসুখ, যেখানে শরীরে ইনসুলিন নামক হরমোনের অভাব অথবা কার্যকারিতা কমে যায়। এর ফলে রক্তে গ্লুকোজ বা শর্করার মাত্রা অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যায়। এটি কোনো সংক্রামক রোগ নয়, তবে একবার হলে সারাজীবন নিয়ন্ত্রণের মধ্যে রাখতে হয়। সঠিক চিকিৎসা, খাদ্য নিয়ন্ত্রণ, ব্যায়াম ও নিয়মতান্ত্রিক জীবনযাপন দ্বারা ডায়াবেটিস পুরোপুরি নিরাময় করা না গেলেও সহজেই নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব।

ডায়াবেটিস হওয়ার ঝুঁকির কারণ:

  • বংশগত কারণ: পরিবারে বাবা-মা বা নিকটাত্মীয়ের কারো ডায়াবেটিস থাকলে ঝুঁকি বেশি।

  • অতিরিক্ত ওজন: স্থূলকায় ব্যক্তিদের মধ্যে ডায়াবেটিসের ঝুঁকি বেশি।

  • ব্যায়াম না করা: শারীরিক পরিশ্রম বা নিয়মিত ব্যায়ামের অভাব।

  • অনিয়ন্ত্রিত জীবনযাপন: অনিয়মিত খাবার ও ঘুম, অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস ইত্যাদি।

ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণের চারটি মূল স্তম্ভ:

·     খাদ্য নিয়ন্ত্রণ

·     ঔষধ (ট্যাবলেট বা ইনসুলিন)

·     ব্যায়াম / শারীরিক পরিশ্রম

·     রোগ সম্পর্কে শিক্ষা

(ক) খাদ্য নিয়ন্ত্রণ:  ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে খাদ্যই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। যেমন-

বেশি খাওয়া যাবে: আঁশযুক্ত শাকসবজি (লাউ, করল্লা, পেঁপে, বাঁধাকপি, ফুলকপি, শসা, ধন্দুল ইত্যাদি) ও কিছু ফল (জাম, জামরুল, আমলকী, লেবু, জাম্বুরা ইত্যাদি)।

হিসেব করে খেতে হবে: ভাত, রুটি, চিড়া, আলু, দুধ, মিষ্টি ফল (কলা, আম ইত্যাদি), মাছ-মাংস-ডিম, বাদাম ইত্যাদি।

পরিহার করতে হবে: চিনি, গুড়, মিষ্টি, সফট ড্রিংকস, কেক, পেস্ট্রি, ক্ষীর, জুস ইত্যাদি।

খাওয়া-দাওয়া অবশ্যই সময়মতো ও নির্দিষ্ট পরিমাণে হতে হবে। কোনো বেলা বাদ দেওয়া যাবে না, একদিন বেশি আরেকদিন কম খাওয়া যাবে না।

(খ) শারীরিক পরিশ্রম বা ব্যায়াম:

·     প্রতিদিন নিয়মিত ব্যায়াম করলে ইনসুলিনের কার্যকারিতা বাড়ে।

·     ব্যায়ামের মাধ্যমে শরীরের অতিরিক্ত ওজন কমানো যায় এবং ডায়াবেটিস সহজে নিয়ন্ত্রণে আসে।

·     হাঁটা, সাইকেল চালানো, হালকা ব্যায়াম ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য বিশেষ উপকারী।

(গ) ঔষধ:

·     অনেক ক্ষেত্রে শুধু খাদ্য নিয়ন্ত্রণ ও ব্যায়াম যথেষ্ট নয়, ওষুধ প্রয়োজন হয়।

·     কারো কারো ক্ষেত্রে খাবার বড়ি যথেষ্ট, আবার কারো ক্ষেত্রে ইনসুলিন ইনজেকশন নিতে হয়।

·     ওষুধ গ্রহণ অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী করতে হবে, ডোজ পরিবর্তন করা যাবে না।

(ঘ) রোগ সম্পর্কে শিক্ষা:

·     ডায়াবেটিস হলো আজীবনের রোগ, তাই রোগী ও তার পরিবারের সদস্যদের এ সম্পর্কে সচেতন ও শিক্ষিত হতে হবে।

·     নিয়মিত রক্তে গ্লুকোজ পরীক্ষা, রিপোর্ট সংরক্ষণ এবং চিকিৎসকের পরামর্শ মেনে চলা জরুরি।

ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে শৃঙ্খলা:

১। নিয়মিত সুষম খাদ্য গ্রহণ

২। প্রতিদিন প্রয়োজনীয় ব্যায়াম

৩। ওষুধ/ইনসুলিন সঠিকভাবে গ্রহণ

৪। পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা

৫। পায়ের বিশেষ যত্ন নেওয়া

৬। ধূমপান ও মদপান সম্পূর্ণ পরিহার

৭। জীবনযাত্রায় রুটিন মেনে চলা

৮। চিকিৎসা বন্ধ না করা

৯। শারীরিক জটিলতা দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া

ডায়াবেটিস নিরাময়যোগ্য না হলেও সঠিক খাদ্যব্যবস্থা, ব্যায়াম, ঔষধ ও জীবনযাপনে শৃঙ্খলা বজায় রেখে সহজেই নিয়ন্ত্রণ করা যায়। এজন্য সচেতনতা ও শিক্ষা সবচেয়ে বড় শক্তি।

মন্তব্য করুন

সম্পর্কিত পোস্ট