সিনিয়র শিক্ষক
০৩ অক্টোবর, ২০২৫ ১১:৩১ অপরাহ্ণ
সিনিয়র শিক্ষক
ধরনঃ সাধারণ শিক্ষা
শ্রেণিঃ নবম
বিষয়ঃ গার্হস্হ্য বিজ্ঞান
অধ্যায়ঃ অধ্যায় দ্বাদশ
বর্তমান যুগে আমাদের দেশে হৃদরোগের প্রকোপ দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। অনিয়ন্ত্রিত জীবনযাপন, অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস, ব্যায়ামের অভাব ও বংশগত কারণসহ নানা কারণে হৃদরোগ এখন একটি গুরুতর স্বাস্থ্যঝুঁকি। হৃদরোগ একবার হলে সহজে নিরাময় সম্ভব নয়, তবে নিয়মতান্ত্রিক জীবনযাপন ও সুষম খাদ্যের মাধ্যমে এটিকে নিয়ন্ত্রণে রাখা যায়। তাই সুস্থ জীবনযাপনের জন্য হৃদরোগ প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণে সচেতনতা অপরিহার্য।
১। চর্বিজাতীয় ও অস্বাস্থ্যকর খাদ্য বেশি খাওয়া
২। প্রয়োজনের তুলনায় বেশি খাদ্যশক্তি গ্রহণ
৩। ব্যায়াম বা শারীরিক পরিশ্রম না করা
৪। মানসিক চাপ ও অস্বাস্থ্যকর জীবনধারা
৫। বংশগত কারণ ও বিপাকীয় ত্রুটি
১। নিয়মিত সুষম খাদ্য গ্রহণ করতে হবে।
২। প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময়ে ঘুমাতে ও জাগতে হবে এবং ৬-৮ ঘণ্টা ঘুমাতে হবে।
৩। নিয়মিত ব্যায়াম বা হাঁটার অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে।
৪। রক্তচাপ নিয়মিত মাপা ও নিয়ন্ত্রণ করা দরকার।
৫। মানসিক চাপ ও উত্তেজনা কমাতে হবে।
৬। ধূমপান ও মদপান সম্পূর্ণরূপে পরিহার করতে হবে।
৭। পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন স্বাস্থ্যসম্মত জীবনযাপনে অভ্যস্ত হতে হবে।
৮। কোনো জরুরি শারীরিক সমস্যা দেখা দিলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।
১। লাল চালের ভাত, ভুসিসহ আটার রুটি (পরিমিত)
২। আঁশযুক্ত শাকসবজি ও ফল, বিশেষ করে টক ফল যেমন লেবু, কমলা, আনারস
৩। রঙিন শাকসবজি যেমন গাজর, টমেটো, বিট, মুলা ইত্যাদি
৪। মাছ, ডাল, বাদাম, চর্বি ছাড়া মাংস, চামড়া ছাড়া মুরগি, ডিম
৫। ননী তোলা দুধ ও টক দই
যা পরিহার করতে হবে:
১। মাখন, ঘি, ডালডা, ক্রিম, নারকেল ও অতিরিক্ত তৈলাক্ত খাবার
২। আইসক্রিম, মিষ্টি, কেক, পেস্ট্রি
৩। চর্বিযুক্ত মাংস, কলিজা, হাঁস-মুরগির চামড়া
৪। অতিরিক্ত লবণযুক্ত খাবার: আচার, চানাচুর, সয়া সস, নোনা ইলিশ, টিনজাত মাছ
৫। ফাস্টফুড যেমন পিজ্জা, বার্গার, চিকেন ফ্রাই
৬। সফট ড্রিংকস, এনার্জি ড্রিংকস, ডার্ক কফি
৭। চাইনিজ লবণ বা টেস্টিং সল্ট
হৃদরোগ একটি জীবনঘাতী রোগ হলেও এটি নিয়ন্ত্রণযোগ্য। সঠিক খাদ্যাভ্যাস, নিয়মিত ব্যায়াম, মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণ, ওষুধ সেবন এবং স্বাস্থ্যসম্মত জীবনযাপন হৃদরোগ প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণের মূল চাবিকাঠি। তাই বলা যায়-সুস্থ ও দীর্ঘ জীবন লাভের জন্য নিয়মতান্ত্রিক জীবনযাপনের কোনো বিকল্প নেই।