Loading..

পাঠসংশ্লিষ্ট ছবি/ইমেজ

রিসেট

০৩ অক্টোবর, ২০২৫ ১১:৪৭ অপরাহ্ণ

উচ্চরক্তচাপ (Hypertension)

উচ্চরক্তচাপ (Hypertension) হলো একটি দীর্ঘমেয়াদি স্বাস্থ্য সমস্যা, যেখানে রক্তনালীতে রক্ত প্রবাহের চাপ স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি থাকে। সহজভাবে বলতে গেলে, এটি হলো রক্তচাপ নিয়মিত বেশি থাকা-যা হৃদরোগ, স্ট্রোক, কিডনি রোগ এবং অন্যান্য গুরুতর জটিলতার কারণ হতে পারে।

উচ্চরক্তচাপের কারণ:

১। অনিয়ন্ত্রিত জীবনযাপন

২। বংশগত প্রভাব

৩। ওজনাধিক্য

৪। বিপাকীয় ত্রুটি

৫। অতিরিক্ত লবণ ও তৈলাক্ত খাবার গ্রহণ

৬। মানসিক চাপ ও অস্বাস্থ্যকর অভ্যাস

উচ্চরক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখার উপায়: ঔষধের পাশাপাশি যথাযথ নিয়ন্ত্রিত খাদ্য গ্রহণ ও নিয়মিত পরিশ্রম বা ব্যায়ামের মাধ্যমে শরীরের ওজন নিয়মতান্ত্রিক জীবনযাপন ও সবাভাবিক রাখা সম্ভব।

নিয়মতান্ত্রিক জীবনযাপনের নিয়ম:

১। নিয়মিত সুষম খাদ্য গ্রহণ ও খাদ্য সংক্রান্ত বিধি-নিষেধ মেনে চলা।

২। নির্দিষ্ট সময়ে ঘুমাতে যাওয়া ও ঘুম থেকে ওঠা।

৩। প্রতিদিন ৬-৮ ঘণ্টা ঘুমানো।

৪। ধূমপান ও মদপান পরিহার করা।

৫। নিয়মিত ও প্রয়োজন অনুযায়ী ব্যায়াম বা শারীরিক পরিশ্রম করা।

৬। নিয়মিত রক্তচাপ পরিমাপ করা।

৭। পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন স্বাস্থ্যসম্মত জীবনযাপন করা।

৮। প্রতিদিন জীবনযাত্রায় যথাসম্ভব নির্দিষ্ট রুটিন মেনে চলা।

৯। চিকিৎসকের পরামর্শ ও ব্যবস্থাপত্র অনুযায়ী ওষুধ গ্রহণ করা।

১০। মানসিক চাপ, উত্তেজনা ও রাগ নিয়ন্ত্রণ করা।

১১। শরীরিক কোনো জরুরি অবস্থায় বা রক্তচাপ উঠানামা করলে চিকিৎসকের পরামর্শ গ্রহণ করা।

উচ্চরক্তচাপে খাদ্য ব্যবস্থাপনা:

খেতে হবে-

·       বেশি আঁশযুক্ত খাবার: শাকসবজি ও ফল, বিশেষ করে টকজাতীয় ফল (লেবু, জাম্বুরা, কমলা, আনারস ইত্যাদি)।

·       কচি ডাবের পানি উপকারী।

·       ভাত ও রুটি ও চাল ও আটার তৈরি খাবার প্রয়োজনীয় পরিমাণের চেয়ে বেশি না খাওয়া।

·       সাদা চাল ও সাদা আটা থেকে লাল চালের ভাত ও গমের ভুসিসহ আটার রুটি বেশি উপকারী।

·       চর্বি ছাড়া মাংস, মাছ, ডিম প্রয়োজনীয় পরিমাণে।

·       ডাল ও বাদাম খাওয়া যাবে।

·       ননী তোলা দুধ ও এই দুধের তৈরি টকদই খাওয়া।

·       রান্নায় লবণ কম ব্যবহার এবং খাওয়ার সময় বাড়তি লবণ এড়ানো।

·       প্রয়োজনের চেয়ে বেশি খাদ্য শক্তি গ্রহণ না করা।

পরিহার করতে হবে-

·       বেশি লবণযুক্ত খাবার: পনির, আচার-চাটনি, সস, চিপস্, চানাচুর ইত্যাদি।

·       সংরক্ষিত খাবার: নোনা ইলিশ, টিনজাত মাছ ইত্যাদি।

·       মাখন, ঘি, ডালডা, নারকেল ও বেশি তৈলাক্ত ও চর্বিযুক্ত খাদ্য।

·       চর্বিযুক্ত মাংস ও এর তৈরি খাদ্য।

·       ফাস্টফুড: চিকেন ফ্রাই, পিজ্জা, মাংসের তৈরি নাগেট ইত্যাদি।

·       বেকারির খাবার: বিস্কুট, পেস্ট্রি, ক্রিম কেক ইত্যাদি।

·       সফট ড্রিংকস ও এনার্জি ড্রিংকস, ডার্ক কফি ইত্যাদি।

·       সালাদে লবণ ও সালাদ ড্রেসিং, সয়াসস, চাইনিজ লবণ বা টেস্টিং সল্ট।

লক্ষণ: উচ্চরক্তচাপ প্রাথমিকভাবে কোনো লক্ষণ প্রকাশ নাও করতে পারে। অনেক সময় এটিনীরব হত্যাকারীহিসেবে পরিচিত। তবে কিছু ক্ষেত্রে লক্ষণ হতে পারে-

·       মাথা ঘোরা

·       মাথা ব্যথা

·       চোখে ঝাপসা দেখা

·       শ্বাসকষ্ট

·       ক্লান্তি বা বিভ্রান্তি

প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণ:

·       নিয়মিত রক্তচাপ পরিমাপ

·       সুষম ও লবণহীন খাদ্য গ্রহণ

·       নিয়মিত ব্যায়াম

·       ওজন নিয়ন্ত্রণ

·       ধূমপান ও মদপান পরিহার

·       মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণ

·       চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ঔষধ গ্রহণ

উচ্চরক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখা জীবনের মান ও সুস্থতা বজায় রাখার জন্য অপরিহার্য। নিয়মতান্ত্রিক জীবনযাপন, সুষম খাদ্যাভ্যাস ও নিয়মিত ব্যায়াম এই রোগ প্রতিরোধে সবচেয়ে কার্যকরী পদক্ষেপ। অনিয়ন্ত্রিত জীবনযাপন, অতিরিক্ত লবণ ও চর্বি গ্রহণ, মানসিক চাপ ও অস্বাস্থ্যকর অভ্যাস থেকে বিরত থাকাই দীর্ঘমেয়াদি স্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

মন্তব্য করুন

সম্পর্কিত পোস্ট