Loading..

পাঠসংশ্লিষ্ট ছবি/ইমেজ

রিসেট

০৪ অক্টোবর, ২০২৫ ০৩:২২ অপরাহ্ণ

এন্ডেমিক গলগণ্ড (Endemic Goiter)

এন্ডেমিক গলগণ্ড (Endemic Goiter)

এন্ডেমিক গলগণ্ড হলো একটি নির্দিষ্ট অঞ্চলে বহুল পরিমাণে দেখা যায় এমন গলগণ্ড, যা প্রধানত আয়োডিনের অভাবে হয়ে থাকে। পৃথিবীর এমন অনেক অঞ্চল আছে যেখানে মাটি ও পানিতে আয়োডিনের পরিমাণ কম থাকে, ফলে সেখানে বসবাসকারী মানুষের মধ্যে এ রোগের প্রাদুর্ভাব বেশি।

এন্ডেমিক গলগণ্ডের কারণ:

  • ১। আয়োডিনের ঘাটতি: আয়োডিন থাইরয়েড হরমোন তৈরিতে অপরিহার্য। এর অভাবে থাইরয়েড গ্রন্থি অতিরিক্ত কাজ করে এবং বৃদ্ধি পায়।

  • ২। আয়োডিনহীন খাবার ও পানির ব্যবহার।

  • ৩। সুষম খাদ্যের অভাব, বিশেষ করে আয়োডিন সমৃদ্ধ খাবারের অভাব।

লক্ষণ:

  • ১। গলার সামনের অংশে ফোলা বা গাঁট দেখা দেওয়া।

  • ২। গলা বা ঘাড়ে অস্বস্তি।

  • ৩। গলার ভিতরে চাপ অনুভূত হওয়া।

  • ৪। গিলে খাবারে অসুবিধা।

  • ৫। শ্বাস নিতে অসুবিধা (গুরুতর ক্ষেত্রে)।

  • ৬। কখনো কখনো হরমোনের ঘাটতি বা বেশি হওয়ার লক্ষণ।

প্রতিকার:

  • ১। আয়োডিনসমৃদ্ধ লবণ ব্যবহার করা।

  • ২। সাগরজাত খাবার (মাছ, শৈবাল ইত্যাদি) খাদ্যতালিকায় রাখা।

  • ৩। ভিটামিন ও মিনারেলসমৃদ্ধ সুষম খাদ্য।

  • ৪। গলগণ্ড বড় হলে চিকিৎসকের পরামর্শে থাইরয়েড হরমোন চিকিৎসা বা অস্ত্রোপচার।

প্রতিরোধ:

  • ১। প্রতিদিনের খাবারে আয়োডিনযুক্ত লবণ ব্যবহার নিশ্চিত করা।

  • ২। স্থানীয়ভাবে আয়োডিনহীন মাটি বা পানির উৎস এড়িয়ে চলা।

  • ৩। স্কুল ও কমিউনিটি স্তরে আয়োডিন ও পুষ্টি সচেতনতা বৃদ্ধি।

এন্ডেমিক গলগণ্ড হলো একটি প্রতিরোধযোগ্য রোগ। সঠিক খাদ্যাভ্যাস ও আয়োডিনের যথাযথ সরবরাহ নিশ্চিত করলে এ রোগ পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব। বিশেষ করে এমন অঞ্চলে, যেখানে আয়োডিনের ঘাটতি সাধারণ, সেখানে জনসচেতনতা ও স্বাস্থ্যসেবা খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

 

মন্তব্য করুন

সম্পর্কিত পোস্ট