Loading..

পাঠসংশ্লিষ্ট ছবি/ইমেজ

রিসেট

০৪ অক্টোবর, ২০২৫ ০৪:৪৯ অপরাহ্ণ

গ্রেভস ডিজিজ (Graves’ disease)

গ্রেভস ডিজিজ (Graves’ disease) কী?

গ্রেভস ডিজিজ হলো একটি অটোইমিউন রোগ, যেখানে দেহের ইমিউন সিস্টেম ভুলভাবে থাইরয়েড গ্রন্থিকে আক্রমণ করে এবং অতিরিক্ত থাইরয়েড হরমোন (T3 ও T4) উৎপাদন করতে উৎসাহিত করে। ফলে হাইপারথাইরয়ডিজমের প্রধান কারণগুলোর মধ্যে এটি একটি প্রধান কারণ

গ্রেভস ডিজিজের কারণ:

১। অটোইমিউন প্রতিক্রিয়া-ইমিউন সিস্টেমে থাকা অ্যান্টিবডিগুলো থাইরয়েডের উপর আক্রমণ করে।

২। জেনেটিক প্রভাব-পরিবারের মধ্যে এ রোগের ইতিহাস থাকলে ঝুঁকি বৃদ্ধি পায়।

৩। মানসিক চাপ ও পরিবেশগত কারণও ভূমিকা রাখতে পারে।

গ্রেভস ডিজিজের লক্ষণ: গ্রেভস ডিজিজের লক্ষণগুলো মূলত হাইপারথাইরয়ডিজমের মতো হলেও এর কিছু বিশেষ লক্ষণও থাকে-

১। হাইপারথাইরয়ডিজমের লক্ষণ: ওজন হ্রাস, দ্রুত হৃদস্পন্দন, অস্থিরতা, অনিদ্রা, অতিরিক্ত ঘাম ইত্যাদি।

২। চোখের সমস্যা (Graves’ ophthalmopathy):

o   চোখ ফুলে যাওয়া

o   চোখ লাল ও চুলকানো

o   চোখ সামনে বের হয়ে যাওয়া (exophthalmos)

o   দ্বিগ্রাহী দৃষ্টি বা ঝাপসা দেখা

৩। ত্বকের সমস্যা: ত্বক মোটা, লাল বা জ্যাড়া হয়ে যাওয়া (Graves’ dermopathy)।

পরীক্ষা ও নির্ণয়:

·       রক্ত পরীক্ষা: T3 ও T4 এর মাত্রা , TSH এর মাত্রা

·       থাইরয়েড অ্যান্টিবডি পরীক্ষা (TSH receptor antibody)

·       চোখের মূল্যায়ন

·       থাইরয়েড স্ক্যান

চিকিৎসা:

১। অ্যান্টি-থাইরয়েড ঔষধ-যেমন মিথিমাজোল, প্রোপাইলথায়োরাসিল (PTU)।

২। আয়োডিন থেরাপি-রেডিওঅ্যাকটিভ আয়োডিন (Radioactive iodine therapy)।

৩। অপারেশন-থাইরয়েডের অংশ বা সম্পূর্ণ অপসারণ।

৪। চোখের সমস্যা হলে-স্টেরয়েড বা চোখের সার্জারি।

৫। জীবনধারায় পরিবর্তন ও নিয়মিত ফলো-আপ।
গ্রেভস ডিজিজ হলো হাইপারথাইরয়ডিজমের একটি বিশেষ রূপ, যেখানে শুধু থাইরয়েড হরমোনের অতিরিক্ত উৎপাদনই নয়, চোখ ও ত্বকেও সমস্যা দেখা দেয়।

 

মন্তব্য করুন

সম্পর্কিত পোস্ট