সিনিয়র শিক্ষক
০৫ অক্টোবর, ২০২৫ ০৭:৪০ অপরাহ্ণ
সিনিয়র শিক্ষক
ধরনঃ সাধারণ শিক্ষা
শ্রেণিঃ নবম
বিষয়ঃ গার্হস্হ্য বিজ্ঞান
অধ্যায়ঃ অধ্যায় দশম
অ্যালার্জি (Allergy)
অ্যালার্জি হলো শরীরের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা (Immune System) দ্বারা প্রদত্ত একটি অতিরিক্ত ও অস্বাভাবিক প্রতিক্রিয়া, যা সাধারণত কোনো নিরাপদ উপাদান বা পরিবেশগত উৎসের কারণে ঘটে। অ্যালার্জি হলে শরীর “প্রতিরক্ষামূলক প্রতিক্রিয়া” হিসেবে বিভিন্ন লক্ষণ তৈরি করে, যা হালকা থেকে গুরুতর পর্যায় পর্যন্ত হতে পারে।
অ্যালার্জির প্রধান কারণ:
১। পরিবেশগত কারণ: ধুলো, পরাগকণিকা (pollen), ফাঙ্গাস (ফাঙ্গাল স্পোর), পশুর লোম।
২। খাদ্যজনিত অ্যালার্জি: দুধ, বাদাম, শেলফিশ, ডিম, সয়া, গম ইত্যাদি।
৩। ঔষধের অ্যালার্জি: পেনিসিলিন, অ্যান্টিবায়োটিক, কিছু ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া।
৪। বৈশিষ্ট্যগত অ্যালার্জি: গন্ধ, তাপমাত্রা পরিবর্তন, সূর্যের আলো ইত্যাদিতে প্রতিক্রিয়া।
৫। ইনজেকশন বা হরমোনজনিত অ্যালার্জি।
অ্যালার্জির লক্ষণ:
১। নাক বন্ধ বা সর্দি
২। চোখ লাল ও জল বের হওয়া
৩। শ্বাসকষ্ট বা হাঁপানি
৪। ত্বকে চুলকানি, ফুসকুড়ি বা লাল দাগ
৫। কাশি
৬। অস্থায়ী শ্বাসপ্রশ্বাসের সমস্যা
৭। মাথা ঘোরা বা চোখ ঝাপসা
৮। মুখ, ঠোঁট বা চোখের চারপাশ ফোলা (অ্যানাফাইল্যাক্সিসের ক্ষেত্রে গুরুতর লক্ষণ)
প্রতিকার:
কারণ চিহ্নিত ও পরিহার: অ্যালার্জি সৃষ্টিকারী খাদ্য বা পরিবেশ থেকে দূরে থাকা।
ঔষধ:
o অ্যান্টিহিস্টামিন (Antihistamines)
o স্টেরয়েড ক্রিম বা ওষুধ
o নাক স্প্রে বা ইনহেলার (হাঁচি ও শ্বাসকষ্ট কমাতে)
প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা:
o হিউমিডিফায়ার বা এয়ার পিউরিফায়ার ব্যবহার।
o ধুলো ও অ্যালার্জেন মুক্ত রাখা।
o হালকা ও শ্বাসপ্রশ্বাস সহজ করে এমন কাপড় পরা।
জটিল ক্ষেত্রে: অ্যানাফাইল্যাক্সিস হলে জরুরি চিকিৎসা ও এপিনেফ্রিন ইঞ্জেকশন।
প্রতিরোধ:
১। নিয়মিত বাড়ি ও পরিবেশ পরিষ্কার রাখা।
২। ধুলো, পরাগ ও পশুর লোম এড়ানো।
৩। অ্যালার্জি সৃষ্টিকারী খাদ্য তালিকা থেকে বর্জন।
৪। শ্বাসপ্রশ্বাসের জন্য নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করা।
৫। অ্যালার্জির জন্য চিকিৎসকের সাথে নিয়মিত পরামর্শ।
অ্যালার্জি হলো শরীরের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার অতিরিক্ত প্রতিক্রিয়া, যা অনেক ক্ষেত্রে অপ্রত্যাশিতভাবে জীবনকে প্রভাবিত করে। যথাযথ সচেতনতা, কারণ চিহ্নিতকরণ ও প্রতিকার গ্রহণের মাধ্যমে এ সমস্যা অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব।