সিনিয়র শিক্ষক
০৫ অক্টোবর, ২০২৫ ০৯:১৩ অপরাহ্ণ
সিনিয়র শিক্ষক
ধরনঃ সাধারণ শিক্ষা
শ্রেণিঃ নবম
বিষয়ঃ গার্হস্হ্য বিজ্ঞান
অধ্যায়ঃ অধ্যায় দশম
নিউমোনিয়া (Pneumonia)
নিউমোনিয়া হলো ফুসফুসের একটি সংক্রমণ, যেখানে ফুসফুসের এ্যালভিওলি (Alveoli) বা বায়ুচক্রাণ কোষে প্রদাহ ও তরল জমে যায়। এর ফলে অক্সিজেন শোষণ কমে যায়, এবং শ্বাসকষ্ট ও অন্যান্য জটিলতা সৃষ্টি করে।
নিউমোনিয়ার কারণ:
১। ব্যাকটেরিয়া সংক্রমণ (যেমন Streptococcus pneumoniae)।
২। ভাইরাস সংক্রমণ (যেমন Influenza, RSV)।
৩। ছত্রাক সংক্রমণ (বিশেষত দুর্বল রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা থাকলে)।
৪। শ্বাসনালীতে সংক্রমণ ছড়িয়ে যাওয়া।
৫। দীর্ঘস্থায়ী শ্বাসযন্ত্রের রোগ (যেমন COPD, হাঁপানি)।
লক্ষণ:
১। জ্বর ও ঠান্ডা লাগা।
২। কাশি, বিশেষত পুঁজযুক্ত বা রঙিন শ্বাসনালী নির্গমন।
৩। শ্বাস নিতে কষ্ট বা দ্রুত শ্বাস নেওয়া।
৪। বুকের ব্যথা, বিশেষত শ্বাস নেওয়ার সময়।
৫। ক্লান্তি ও দুর্বলতা।
৬। ঘন ঘন শ্বাসের শব্দ বা সিসকার ধ্বনি।
৭। রোগীর ত্বক নীলচে বা ফ্যাকাশে হয়ে যাওয়া (অক্সিজেনের অভাবের লক্ষণ)।
প্রতিকার:
১। চিকিৎসকের পরামর্শে অ্যান্টিবায়োটিক, অ্যান্টিভাইরাল বা অ্যান্টিফাঙ্গাল ওষুধ গ্রহণ।
২। পর্যাপ্ত বিশ্রাম ও পুষ্টিকর খাবার।
৩। প্রচুর পানি পান।
৪। শ্বাসপ্রশ্বাস সুগম রাখতে বাতাস পরিষ্কার ও আর্দ্র রাখা।
৫। গুরুতর ক্ষেত্রে হাসপাতালের অন্তর্ভুক্তি ও অক্সিজেন থেরাপি।
প্রতিরোধ:
১। নিয়মিত হাত ধোয়া ও পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা।
২। ফুসফুস ও শ্বাসযন্ত্র সুস্থ রাখতে ধূমপান ও দূষণ এড়িয়ে চলা।
৩। শীতে ও রোগপ্রবণ সময় তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ করা।
৪। নির্দিষ্ট ভাইরাস ও ব্যাকটেরিয়ার বিরুদ্ধে ভ্যাকসিন গ্রহণ (যেমন- Pneumococcal vaccine, Influenza vaccine)।
নিউমোনিয়া হলো একটি গুরুতর রোগ, যা দ্রুত চিকিৎসা না করলে জীবন–হুমকির কারণ হতে পারে। শ্বাসকষ্ট, জ্বর ও ঘন ঘন কাশি দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।