সিনিয়র শিক্ষক
০৫ অক্টোবর, ২০২৫ ০৯:২২ অপরাহ্ণ
সিনিয়র শিক্ষক
ধরনঃ সাধারণ শিক্ষা
শ্রেণিঃ নবম
বিষয়ঃ গার্হস্হ্য বিজ্ঞান
অধ্যায়ঃ অধ্যায় দশম
ব্রংকাইটিস (Bronchitis)
ব্রংকাইটিস হলো শ্বাসনালীর (ব্রংকাই) প্রদাহ, যা শ্বাসপ্রশ্বাসে বাধা সৃষ্টি করে। এতে শ্বাসনালীর আস্তরণ ফুলে যায় এবং অতিরিক্ত লালা তৈরি হয়, ফলে কাশি ও শ্বাসকষ্ট হয়।
ব্রংকাইটিসের ধরন:
১। অ্যাকিউট ব্রংকাইটিস
o স্বল্পমেয়াদী (সাধারণত ১–২ সপ্তাহ)।
o সাধারণত ভাইরাসের সংক্রমণের কারণে হয়।
o ঠান্ডা, ফ্লু বা শ্বাসনালীতে সংক্রমণ থেকে শুরু হয়।
২। ক্রনিক ব্রংকাইটিস
o দীর্ঘমেয়াদী (৩ মাস বা তার বেশি, বছরে দুইবার বা তার বেশি পুনরায় ঘটে)।
o প্রধানত ধূমপান ও দূষণজনিত কারণে হয়।
o ক্রনিক অবস্ট্রাকটিভ পালমোনারি ডিজিজের (COPD) একটি অংশ।
ব্রংকাইটিসের কারণ:
১। ভাইরাস (যেমন Influenza, RSV)।
২। ব্যাকটেরিয়া সংক্রমণ।
৩। ধূমপান ও ধোঁয়া।
৪। দূষিত পরিবেশ ও রাসায়নিক বাষ্প।
৫। ঠান্ডা আবহাওয়া বা শ্বাসনালীতে আঘাত।
লক্ষণ:
১। ঘন কাশি, যা অনেক সময় লালচে বা হলুদ লালা উৎপন্ন করে।
২। শ্বাস নিতে কষ্ট বা দ্রুত শ্বাস নেওয়া।
৩। বুক জ্বালা বা চাপ অনুভব।
৪। ক্লান্তি ও দুর্বলতা।
৫। জ্বর ও গলা ব্যথা (অ্যাকিউট ক্ষেত্রে)।
৬। সিসকার বা শ্বাসের শব্দ।
প্রতিকার:
১। পর্যাপ্ত বিশ্রাম ও পানির খাওয়া।
২। কাশি উপশমে ওয়র্ম ফ্লুইড বা হালকা স্যুপ।
৩। ইনহেলার বা ব্রঙ্কোডাইলেটর (ডাক্তারি পরামর্শে)।
৪। সংক্রমণ থাকলে অ্যান্টিবায়োটিক বা অ্যান্টিভাইরাল ওষুধ।
৫। ধূমপান ও ধোঁয়া এড়িয়ে চলা।
৬। আর্দ্র পরিবেশ বজায় রাখা।
প্রতিরোধ:
১। ধূমপান পরিহার।
২। দূষণ ও ধোঁয়া থেকে দূরে থাকা।
৩। শ্বাসযন্ত্রের সংক্রমণ প্রতিরোধে সঠিক পরিচ্ছন্নতা।
৪। শীতে ও শ্বাসনালী সংক্রান্ত রোগপ্রবণ সময়ে সতর্ক থাকা।
ব্রংকাইটিস সাধারণত সময়মতো চিকিৎসা নিলে সম্পূর্ণ নিরাময়যোগ্য, তবে ক্রনিক হলে এটি দীর্ঘমেয়াদি সমস্যা হিসেবে রূপ নেবে। শ্বাসকষ্ট বা ঘন কাশি দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।