Loading..

পাঠসংশ্লিষ্ট ছবি/ইমেজ

রিসেট

০৫ অক্টোবর, ২০২৫ ১১:২১ অপরাহ্ণ

ফুসফুসে পানি জমা (Pulmonary Edema)

ফুসফুসে পানি জমা (Pulmonary Edema)

ফুসফুসে পানি জমা হলো একটি গুরুতর শারীরিক অবস্থা, যেখানে ফুসফুসের এ্যালভিওলি (Alveoli) ও চারপাশের টিস্যুতে অতিরিক্ত তরল জমে যায়। ফলে শ্বাসপ্রশ্বাসে বাধা সৃষ্টি হয় এবং অক্সিজেন সরবরাহ কমে যায়। এটি দ্রুত চিকিৎসা না করলে জীবন-হুমকিপূর্ণ পরিস্থিতি সৃষ্টি করতে পারে।

ফুসফুসে পানি জমার কারণ:

১। হৃদরোগজনিত কারণ:

·       হৃদযন্ত্রের কার্যকারিতা কমে যাওয়া (Heart Failure)।

·       হৃদযন্ত্রে আঘাত বা হার্ট অ্যাটাক।

·       হৃদযন্ত্রের ভালভ বা লাফার সমস্যা।

২। হৃদরোগবহির্ভূত কারণ:

·       গুরুতর শ্বাসনালী সংক্রমণ বা ইনফ্ল্যামেশন।

·       নিউমোনিয়া।

·       ডুবে যাওয়া বা পানিতে দীর্ঘ সময় থাকা।

·       গুরুতর আঘাত বা ট্রমা।

·       বিষাক্ত গ্যাসে এক্সপোজার।

·       নিউরোলজিক্যাল সমস্যা।

লক্ষণ:

১। শ্বাস নিতে কষ্ট বা হঠাৎ শ্বাস বন্ধ হয়ে যাওয়া।

২। দ্রুত শ্বাস নেওয়া।

৩। বুকের চাপে বা জ্বালা।

৪। নীলচে ঠোঁট বা আঙুলের নখের চারপাশ।

৫। কাশি, যা অনেক সময় রঙিন বা ফেনাযুক্ত লালা বের করে।

৬। ক্লান্তি ও দুর্বলতা।

৭। গুরুতর ক্ষেত্রে অসচেতনতা বা কম্পন।

প্রতিকার:

১। তাৎক্ষণিক চিকিৎসা-হাসপাতালের আইসিইউতে ভর্তি হতে হতে পারে।

২। অক্সিজেন থেরাপি।

৩। ড্রাগ বা ওষুধ-যেমন ডিউরেটিকস (Diuretics) যাতে শরীর থেকে অতিরিক্ত পানি বের হয়।

৪। হৃদরোগ থাকলে হৃদযন্ত্রের চিকিৎসা।

৫। শ্বাসযন্ত্রের সংক্রমণ থাকলে অ্যান্টিবায়োটিক বা অ্যান্টিভাইরাল ওষুধ।

৬। গুরুতর ক্ষেত্রে যান্ত্রিক ভেন্টিলেশন।

প্রতিরোধ:

১। হৃদরোগ নিয়ন্ত্রণে রাখা।

২। উচ্চ রক্তচাপ ও হৃদযন্ত্রের সমস্যার নিয়মিত পরীক্ষা।

৩। ধূমপান ও অ্যালকোহল পরিহার।

৪। শ্বাসযন্ত্রের সংক্রমণ প্রতিরোধে পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা।

৫। সুষম খাদ্য ও স্বাস্থ্যকর জীবনধারা বজায় রাখা।

ফুসফুসে পানি জমা একটি জীবন-হুমকিপূর্ণ অবস্থা। শ্বাসকষ্ট, বুকের চাপ বা হঠাৎ শ্বাস বন্ধের মতো লক্ষণ দেখা দিলে তাৎক্ষণিকভাবে জরুরি চিকিৎসা নেওয়া উচিত।

মন্তব্য করুন

সম্পর্কিত পোস্ট