Loading..

পাঠসংশ্লিষ্ট ছবি/ইমেজ

রিসেট

০৬ অক্টোবর, ২০২৫ ১২:২০ পূর্বাহ্ণ

অ্যানিউরিজম (Aneurysm)

অ্যানিউরিজম (Aneurysm)

অ্যানিউরিজম হলো রক্তনালীর দেয়ালে একটি অস্বাভাবিক ফোলা বা বাতাসের মতো বুদবুদ, যা দেয়ালকে দুর্বল করে দেয়। এটি সবচেয়ে বেশি ঘটে প্রধান ধমনী বা মস্তিষ্কের রক্তনালীতে। যদি এটি ফেটে যায়, তবে তা জীবন-হুমকিপূর্ণ পরিস্থিতি সৃষ্টি করতে পারে।

অ্যানিউরিজমের কারণ:

  • ১। উচ্চ রক্তচাপ (Hypertension)।

  • ২। ধমনীতে আয়ুসংক্রান্ত ক্ষয় (Atherosclerosis)।

  • ৩। জেনেটিক বা জন্মগত দুর্বলতা (Congenital defects)।

  • ৪। আঘাত বা শল্যচিকিৎসা সংক্রান্ত জটিলতা।

  • ৫। সংক্রমণ বা প্রদাহজনিত কারণ।

  • ৬। ধূমপান ও অ্যালকোহল ব্যবহারে বৃদ্ধি পাওয়া ঝুঁকি।

অ্যানিউরিজমের ধরন:

অ্যাবডোমিনাল অ্যানিউরিজম (Abdominal Aortic Aneurysm)-পেটের প্রধান ধমনীতে ঘটে।

থোরাসিক অ্যানিউরিজম (Thoracic Aortic Aneurysm)-বুকের ধমনীতে ঘটে।

সেরেব্রাল অ্যানিউরিজম (Cerebral Aneurysm)-মস্তিষ্কের রক্তনালীতে ঘটে।

অ্যানিউরিজমের লক্ষণ: 

১। অনেক ক্ষেত্রে কোনো লক্ষণ দেখা যায় না (বিশেষ করে ছোট অ্যানিউরিজম)।

  • ২। বড় অ্যানিউরিজমে:

    • ৩। বুক, পেট বা পিঠে তীব্র ব্যথা।

    • ৪। শ্বাসকষ্ট বা হঠাৎ শ্বাস বন্ধ হওয়া।

    • ৫। মাথা ঘোরা বা মাথা ব্যথা (সেরেব্রাল অ্যানিউরিজমে)।

    • ৬। নাক বা কান থেকে রক্তপাত।

    • ৭। অসাড়তা বা দেহের একপাশে দুর্বলতা (যদি মস্তিষ্কে ঘটে)।

অ্যানিউরিজমের প্রতিকার:

  • ১। ছোট অ্যানিউরিজমে নিয়মিত পর্যবেক্ষণ ও রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ।

  • ২। বড় বা ঝুঁকিপূর্ণ অ্যানিউরিজমে সার্জারি বা এনডোভাসকুলার রিপেয়ার।

  • ৩। ধূমপান ও অ্যালকোহল পরিহার।

  • ৪। রক্তচাপ ও কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণ।

  • ৫। চিকিৎসকের নিয়মিত পরামর্শ ও চেকআপ।

অ্যানিউরিজম প্রতিরোধ:

  • ১। উচ্চ রক্তচাপ ও কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে রাখা।

  • ২। ধূমপান ও অ্যালকোহল পরিহার।

  • ৩। স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস বজায় রাখা।

  • ৪। নিয়মিত ব্যায়াম ও ওজন নিয়ন্ত্রণ।

  • ৫। নিয়মিত শারীরিক পরীক্ষা ও রক্তচাপ পরিমাপ।

অ্যানিউরিজম প্রাথমিকভাবে কোনো লক্ষণ না দেখালেও এটি ফেটে গেলে তীব্র রক্তপাত ও জীবনহানির কারণ হতে পারে। তাই ঝুঁকিপূর্ণ ব্যক্তিদের নিয়মিত চিকিৎসা ও পরীক্ষা জরুরি।

 

মন্তব্য করুন

সম্পর্কিত পোস্ট