Loading..

পাঠসংশ্লিষ্ট ছবি/ইমেজ

রিসেট

০৬ অক্টোবর, ২০২৫ ১১:৩৭ পূর্বাহ্ণ

রিউমাটয়েড আর্থ্রাইটিস (Rheumatoid Arthritis)

রিউমাটয়েড আর্থ্রাইটিস (Rheumatoid Arthritis) হলো একটি দীর্ঘস্থায়ী (chronic) অটোইমিউন রোগ, যেখানে দেহের ইমিউন সিস্টেম ভুলবশত নিজেরই জয়েন্ট টিস্যুকে আক্রমণ করে। ফলে জয়েন্টে প্রদাহ, ব্যথা, ফোলাভাব ও ধীরে ধীরে জয়েন্ট বিকৃতি (deformity) দেখা দেয়। এটি সাধারণত হাত, কবজি, হাঁটু ও পায়ের ছোট জয়েন্টগুলোতে বেশি প্রভাব ফেলে।

কারণসমূহ: রিউমাটয়েড আর্থ্রাইটিসের সঠিক কারণ এখনো সম্পূর্ণ জানা যায়নি, তবে কিছু ঝুঁকিপূর্ণ কারণ হলো-

১। অটোইমিউন প্রতিক্রিয়া: শরীরের ইমিউন সিস্টেম জয়েন্টের আস্তরণ (synovium) আক্রমণ করে।

২। বংশগত কারণ (Genetic predisposition): পরিবারে এ রোগ থাকলে ঝুঁকি বেশি।

৩। ধূমপান: ইমিউন সিস্টেম দুর্বল করে রোগের প্রবণতা বাড়ায়।

৪। হরমোনজনিত প্রভাব: নারীদের মধ্যে বেশি দেখা যায়।

৫। ভাইরাস বা ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণ: ইমিউন প্রতিক্রিয়াকে উদ্দীপ্ত করতে পারে।

লক্ষণসমূহ:

১। জয়েন্টে ব্যথা, ফোলাভাব ও লালচে ভাব

২। সকালে ঘুম থেকে ওঠার পর জয়েন্ট শক্ত হয়ে যাওয়া (Morning stiffness)

৩। জয়েন্টের উষ্ণতা ও স্পর্শে ব্যথা

৪। ধীরে ধীরে জয়েন্ট বিকৃতি (বিশেষ করে আঙুল ও কবজিতে)

৫। ক্লান্তি, হালকা জ্বর ও ক্ষুধামন্দা

প্রতিকার:

১। প্রদাহনাশক ও ইমিউন-নিয়ন্ত্রক ওষুধ (DMARDs) যেমন মেথোট্রেক্সেট (Methotrexate) চিকিৎসকের পরামর্শে।

২। ফিজিওথেরাপি ও জয়েন্ট ব্যায়াম-জয়েন্ট সচল ও শক্তিশালী রাখে।

৩। গরম সেঁক ও বিশ্রাম ব্যথা কমাতে সাহায্য করে।

৪। স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস-ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড, শাকসবজি, ফলমূল গ্রহণ।

৫। স্ট্রেস কমানো ও পর্যাপ্ত ঘুম।

প্রতিরোধ:

১। ধূমপান ও অ্যালকোহল সম্পূর্ণভাবে পরিহার করা।

২। নিয়মিত ব্যায়াম ও ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখা।

৩। দীর্ঘস্থায়ী সংক্রমণ হলে দ্রুত চিকিৎসা নেওয়া।

৪। পর্যাপ্ত বিশ্রাম ও মানসিক প্রশান্তি বজায় রাখা।

রিউমাটয়েড আর্থ্রাইটিস একটি জটিল কিন্তু নিয়ন্ত্রণযোগ্য রোগ। সময়মতো শনাক্তকরণ ও চিকিৎসা শুরু করলে জয়েন্ট ক্ষতি অনেকাংশে রোধ করা যায়। সচেতন জীবনযাপন, সুষম খাদ্য ও নিয়মিত ফলোআপই পারে জয়েন্টকে ব্যথামুক্ত ও সক্রিয় রাখতে।

মন্তব্য করুন

সম্পর্কিত পোস্ট