সিনিয়র শিক্ষক
০৬ অক্টোবর, ২০২৫ ০৫:২৩ অপরাহ্ণ
সিনিয়র শিক্ষক
ধরনঃ সাধারণ শিক্ষা
শ্রেণিঃ নবম
বিষয়ঃ গার্হস্হ্য বিজ্ঞান
অধ্যায়ঃ অধ্যায় দশম
চোখের স্বচ্ছ সামনের স্তর (কর্নিয়া) যদি ব্যাকটেরিয়া, ভাইরাস, ছত্রাক বা আঘাতজনিত সংক্রমণ ঘটে, তখন কর্নিয়ায় প্রদাহ সৃষ্টি হয়-একে বলে কর্নিয়াল প্রদাহ বা কেরাটাইটিস।
১। ব্যাকটেরিয়াজনিত সংক্রমণ: সাধারণত Staphylococcus, Pseudomonas প্রভৃতি জীবাণু থেকে হয়। (বিশেষত কনট্যাক্ট লেন্স ব্যবহারকারীদের ক্ষেত্রে বেশি দেখা যায়।)
২। ভাইরাল সংক্রমণ: বিশেষ করে হারপিস সিমপ্লেক্স ভাইরাস (Herpes Simplex Virus) এর কারণে।
৩। ছত্রাক (Fungal) সংক্রমণ: যেমন- Fusarium, Aspergillus, Candida প্রজাতির ছত্রাক।
৪। রাসায়নিক পদার্থ বা ধুলোবালি: চোখে ধুলো, ধোঁয়া, বা রাসায়নিক লাগলে প্রদাহ হতে পারে।
৫। ভিটামিন ঘাটতি: ভিটামিন বি₂ (রিবোফ্লাভিন) ও ভিটামিন এ-এর অভাবে কর্নিয়া দুর্বল হয়ে প্রদাহ হতে পারে।
৬। চোখে আঘাত: কর্নিয়ায় ছোট আঘাত, আঁচড় বা বিদেশি বস্তু ঢুকলে।
১। চোখ লাল হয়ে যাওয়া
২। চোখে ব্যথা বা জ্বালা
৩। চোখ দিয়ে অতিরিক্ত পানি পড়া
৪। চোখে কিছু ঢুকেছে এমন অনুভূতি
৫। আলোতে চোখে ব্যথা (Photophobia)
৬। দৃষ্টিশক্তি ঝাপসা হয়ে যাওয়া
৭। চোখ ফুলে যাওয়া বা কর্নিয়ায় দাগ পড়া
১। কর্নিয়ায় ঘা (Corneal Ulcer)
২। স্থায়ী দৃষ্টিক্ষয়
৩। অন্ধত্ব পর্যন্ত হতে পারে
১। চিকিৎসকের পরামর্শে সঠিক অ্যান্টিবায়োটিক বা অ্যান্টিভাইরাল ড্রপ ব্যবহার।
২। চোখ ঘষা থেকে বিরত থাকা।
৩। কনট্যাক্ট লেন্স ব্যবহার করলে তা পরিষ্কার ও সঠিকভাবে জীবাণুমুক্ত রাখা।
৪। চোখে আঘাত লাগলে দ্রুত চিকিৎসা নেওয়া।
১। চোখ পরিষ্কার রাখা
২। ধুলোবালি বা রাসায়নিক কাজের সময় চোখে সুরক্ষাচশমা পরা
৩। অপরিষ্কার হাতে চোখ না ছোঁয়া
৪। সুষম খাদ্য গ্রহণ, বিশেষ করে ভিটামিন এ ও বি₂ সমৃদ্ধ খাদ্য
৫। কনট্যাক্ট লেন্স নিয়মিত পরিষ্কার রাখা
কর্নিয়াল প্রদাহ চোখের জন্য অত্যন্ত সংবেদনশীল একটি সমস্যা। প্রাথমিক পর্যায়ে চিকিৎসা শুরু করলে সম্পূর্ণ সুস্থ হওয়া সম্ভব, কিন্তু দেরি করলে দৃষ্টিশক্তির স্থায়ী ক্ষতি হতে পারে। তাই চোখে ব্যথা, লালভাব বা দৃষ্টিক্ষীণতা দেখা দিলে দ্রুত চক্ষু বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া উচিত।