সিনিয়র শিক্ষক
০৬ অক্টোবর, ২০২৫ ০৭:০৬ অপরাহ্ণ
সিনিয়র শিক্ষক
ধরনঃ সাধারণ শিক্ষা
শ্রেণিঃ অষ্টম
বিষয়ঃ সাহিত্য কনিকা
অধ্যায়ঃ অধ্যায়-১ (গদ্য)
শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
বাংলা সাহিত্যের অন্যতম জনপ্রিয় ও প্রভাবশালী কথাশিল্পী শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় ১৮৭৬ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর পশ্চিমবঙ্গের হুগলি জেলার দেবানন্দপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতা মোতিলাল চট্টোপাধ্যায় ছিলেন সাহিত্যপ্রেমী কিন্তু আর্থিকভাবে অনিশ্চিত অবস্থার মানুষ। এই কারণে ছোটবেলা থেকেই শরৎচন্দ্রের জীবনে দারিদ্র্য ও সংগ্রাম ছিল নিত্যসঙ্গী।
কৈশোর ও যৌবনের অধিকাংশ সময় তিনি ভাগলপুরের মাতুলালয়ে কাটান। এখানেই তিনি লেখালেখির প্রতি আকর্ষণ অনুভব করতে শুরু করেন। যদিও তিনি কলেজশিক্ষা সম্পূর্ণ করতে পারেননি, তবুও তাঁর মেধা, জীবন-অভিজ্ঞতা ও গভীর মানববোধ তাঁকে এক অনন্য সাহিত্যিক হিসেবে গড়ে তোলে।
১৯০৩ সালে জীবিকার সন্ধানে তিনি রেঙ্গুন (বর্তমান ইয়াঙ্গুন, মায়ানমার) যাত্রা করেন এবং সেখানে প্রায় তেরো বছর (১৯০৩-১৯১৬) অবস্থান করেন। এই সময়েই তিনি লেখালেখির জগতে প্রবেশ করেন। ১৯০৭ সালে 'ভারতী' পত্রিকায় তাঁর প্রথম উপন্যাস ‘বড়দিদি’ প্রকাশিত হয় এবং এর মাধ্যমেই তিনি সাহিত্যজগতে সাড়া ফেলেন।
পরবর্তীকালে তিনি একের পর এক কালজয়ী উপন্যাস ও গল্প রচনা করেন, যা সাধারণ মানুষের হৃদয়ে গভীরভাবে প্রভাব ফেলে। তাঁর লেখায় গ্রামীণ জীবন, সমাজের কুসংস্কার, নারীর প্রতি বৈষম্য, প্রেম, ত্যাগ, মানবতা ও সামাজিক বাস্তবতার নিখুঁত চিত্র ফুটে ওঠে।
তাঁর বিখ্যাত রচনাগুলির মধ্যে উল্লেখযোগ্য-
· উপন্যাস: পল্লীসমাজ, দেবদাস, শ্রীকান্ত (চার পর্ব), গৃহদাহ, দেনাপাওনা, পথের দাবী, শেষ প্রশ্ন।
· গল্পসংকলন: অরণ্যের অধিকার, রামশশী, অভাগীর স্বর্গ প্রভৃতি।
শরৎচন্দ্র বাংলা ভাষার এমন এক লেখক যিনি সাধারণ বাঙালি পাঠকের আবেগ, দুঃখ, প্রেম ও সংগ্রামকে গভীর সহানুভূতির সঙ্গে উপস্থাপন করেছেন। তাঁর ভাষা ছিল সহজ, মর্মস্পর্শী ও জীবনের কাছাকাছি-যা তাঁকে সর্বজনপ্রিয় করে তুলেছিল। সাহিত্য প্রতিভার স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ‘জগত্তারিণী স্বর্ণপদক’ এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ডি.লিট উপাধি লাভ করেন। এই মহান সাহিত্যিকের মৃত্যু ঘটে ১৯৩৮ সালের ১৬ জানুয়ারি কলকাতায়। কিন্তু তাঁর সাহিত্যকীর্তি আজও অম্লান বাঙালি সমাজ ও সাহিত্যে শরৎচন্দ্র আজও এক অনুপ্রেরণার প্রতীক।