সিনিয়র শিক্ষক
০৬ অক্টোবর, ২০২৫ ০৭:২০ অপরাহ্ণ
সিনিয়র শিক্ষক
ধরনঃ সাধারণ শিক্ষা
শ্রেণিঃ অষ্টম
বিষয়ঃ সাহিত্য কনিকা
অধ্যায়ঃ অধ্যায়-২ (গদ্য)
কাজী নজরুল ইসলাম বাংলা সাহিত্যের এক অমর বিদ্রোহী কবি ও জাতীয় কবি। তিনি ১৮৯৯ খ্রিষ্টাব্দের ২৪ মে (১৩০৬ বঙ্গাব্দের ১১ জ্যৈষ্ঠ) বর্ধমান জেলার আসানসোল মহকুমার চুরুলিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। পড়াশোনায় বড় কোনো শিক্ষাগত সাফল্য অর্জন করতে পারেননি; বিদ্যালয়ে দশম শ্রেণিতে অধ্যয়নরত অবস্থায় প্রথম বিশ্বযুদ্ধ শুরু হলে স্কুল ছেড়ে বাঙালি পল্টনে যোগ দেন।
যুদ্ধ শেষে, ১৯১৯ সালে বাঙালি পল্টন ভেঙে দেওয়া হয়। নজরুল কলকাতায় ফিরে এসে সাহিত্যচর্চায় মনোনিবেশ করেন। এ সময় প্রকাশিত হয় তাঁর বিখ্যাত ‘বিদ্রোহী’ কবিতা, যা সারা বাংলায় সাড়া ফেলেছিল। কবিতায় পরাধীনতা ও অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রকাশিত তাঁর বিদ্রোহী চেতনা তাঁকে এক বিশেষ মর্যাদা দেয়। অবিচার ও শোষণের বিরুদ্ধে তাঁর অমিত প্রতিবাদ ও অসাম্প্রদায়িক দৃষ্টিভঙ্গি তাঁকে “বিদ্রোহী কবি” হিসেবে সুপরিচিত করেছে।
কাজী নজরুল ইসলাম সাহিত্যের বিভিন্ন শাখায় প্রতিভা প্রদর্শন করেছেন-কবিতা, সংগীত, উপন্যাস, নাটক, প্রবন্ধ ও গল্পে তাঁর অবদান অনন্য। তিনি সাম্যবাদী চেতনার কবিতা, শ্যামাসঙ্গীত, ইসলামি গান ও গজল রচনা করেছেন। তাঁর কবিতা ও গানে ব্যাপকভাবে আরবি-ফারসি শব্দের ব্যবহার লক্ষণীয়।
দুঃখজনকভাবে, মাত্র তেতাল্লিশ বছর বয়সে গুরুতর রোগে আক্রান্ত হন এবং তাঁর সাহিত্যচর্চা অচল হয়ে যায়। তবে তাঁর অবদান বাংলা সাহিত্যে চিরস্থায়ী হয়ে থাকে।
১৯৭২ সালে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের উদ্যোগে তাঁকে বাংলাদেশে আনা হয়। ১৯৭৪ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় তাঁকে ডি.লিট উপাধি প্রদান করে। ১৯৭৬ সালে তিনি বাংলাদেশের নাগরিকত্ব ও একুশে পদক লাভ করেন।
কাজী নজরুল ইসলামের উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ ও রচনা:
· কাব্যগ্রন্থ: অগ্নিবীণা, বিষের বাঁশী, সাম্যবাদী, সর্বহারা, সিন্ধু-হিন্দোল, চক্রবাক।
· উপন্যাস: মৃত্যুক্ষুধা, কুহেলিকা।
· গল্পগ্রন্থ: ব্যথার দান, রিক্তের বেদন, শিউলিমালা।
· প্রবন্ধগ্রন্থ: যুগবাণী, রুদ্রমঙ্গল।
· নাটক: ঝিলিমিলি, আলেয়া, মধুমালা।
কাজী নজরুল ইসলাম আমাদের জাতীয় কবি হিসেবে বাংলা সাহিত্যের এক উজ্জ্বল চিহ্ন হয়ে আছেন। তাঁর জীবনাবসান ঘটে ১৯৭৬ খ্রিষ্টাব্দের ২৯ আগস্ট ঢাকায়। কাজী নজরুল ইসলাম শুধুমাত্র বাংলা সাহিত্যের নয়, বাংলা জাতির এক প্রাণপ্রদ প্রেরণা। তাঁর রচনায় বিদ্রোহ, স্বাধীনতা, সাম্য ও মানবতার চেতনা স্পষ্টভাবে প্রতিফলিত হয়েছে। সহজ ভাষায় গভীর অর্থ বহন করা তাঁর কবিতা ও গান আজও মানুষের হৃদয়ে জেগে আছে। তিনি আমাদের শিখিয়েছেন, সাহিত্য শুধু শব্দ নয়-এটি প্রতিবাদ, আশা ও পরিবর্তনের শক্তি। তাই নজরুল এক শিল্পী, এক বিপ্লবী, এক জাতীয় নেতা হিসেবে চিরকাল বাংলা সাহিত্যে অমর থাকবেন।