সিনিয়র শিক্ষক
০৬ অক্টোবর, ২০২৫ ০৭:৪১ অপরাহ্ণ
সিনিয়র শিক্ষক
ধরনঃ সাধারণ শিক্ষা
শ্রেণিঃ অষ্টম
বিষয়ঃ সাহিত্য কনিকা
অধ্যায়ঃ অধ্যায়-৩ (গদ্য)
বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় বাংলা সাহিত্যের এক মহত্তর কথাসাহিত্যিক, যিনি গ্রামীণ জীবন ও প্রকৃতির চিত্র অমৃতভাষায় বর্ণনা করেছেন। তিনি ১৮৯৪ খ্রিষ্টাব্দে চব্বিশ পরগনা জেলার মুরাতিপুর গ্রামে, মাতুলালয়ে জন্মগ্রহণ করেন। পৈতৃক নিবাস ছিল পশ্চিমবঙ্গের চব্বিশ পরগনা জেলার ব্যারাকপুর গ্রামে।
ছোটবেলা ও কৈশোরকাল তিনি দারিদ্র্যের মধ্যে অতিবাহিত করেন। মাতা মৃণালিনী দেবী ছিলেন ঘরে ছোট ছোট সাহিত্যপ্রেমী, পিতা মহানন্দ বন্দ্যোপাধ্যায় ছিলেন কথক ও পৌরোহিত্য। কলেজে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে এম.এ. পড়াকালে (১৯১৮) তাঁর প্রথম স্ত্রীর মৃত্যু ঘটে, ফলে প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা অসম্পূর্ণ থাকে। এরপর তিনি স্কুল শিক্ষকতাসহ বিভিন্ন পেশায় জীবনযাপন করেন। প্রায় বাইশ বছর পরে, ১৯৪০ সালে, তিনি দ্বিতীয়বার বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন।
বিভূতিভূষণ প্রধানত ছোটগল্প, উপন্যাস, দিনলিপি ও ভ্রমণকাহিনির মাধ্যমে সাহিত্যচর্চা করেছেন। তাঁর সাহিত্যে প্রকৃতি ও মানবজীবন এক অবিচ্ছিন্ন একাত্মে গাঁথা হয়েছে। গ্রামবাংলার সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা, আবহমান প্রকৃতির সৌন্দর্য ও অনুভূতি তাঁর রচনায় গভীরভাবে প্রতিফলিত হয়েছে।
তাঁর শ্রেষ্ঠ সৃষ্টি হলো-
· উপন্যাস: পথের পাঁচালী, অপরাজিত, আরণ্যক, ইছামতী।
· গল্পগ্রন্থ: মেঘমল্লার, মৌরীফুল।
· ভ্রমণ-দিনলিপি: তৃণাঙ্কুর, স্মৃতির রেখা।
· কিশোর উপন্যাস: চাঁদের পাহাড়, মিসমিদের কবচ, হীরামানিক জ্বলে।
বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় বাংলা সাহিত্যের এক অমর রত্ন, যিনি গ্রামীণ সমাজ ও প্রকৃতিকে এমনভাবে উপস্থাপন করেছেন যা চিরকাল পাঠকের হৃদয়ে বেঁচে থাকবে। তার জীবনাবসান ঘটে ১৯৫০ খ্রিষ্টাব্দে। বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় কেবল একজন কথাসাহিত্যিকই ছিলেন না, তিনি গ্রামীণ জীবন ও প্রকৃতির এক অতুলনীয় চিত্রকার। তাঁর সাহিত্য মানবতার গভীর অনুভূতি ও প্রকৃতির সৌন্দর্যের এক অনবদ্য মিশ্রণ। পথের পাঁচালী ও অপরাজিত তাঁর অবিস্মরণীয় কীর্তি, যা বাংলা সাহিত্যের অনন্ত সম্পদ হিসেবে পরিচিত। বিভূতিভূষণের রচনায় জীবনের সরলতা, প্রকৃতির মাধুর্য ও মানুষের অন্তর্দৃষ্টি মিলেমিশে এক চিরস্মরণীয় সাহিত্য সৃষ্টি করেছে, যা বাংলা সাহিত্যের আকাশে চিরদিন দীপ্ত হবে।