Loading..

পাঠসংশ্লিষ্ট ছবি/ইমেজ

রিসেট

০৬ অক্টোবর, ২০২৫ ১১:০৫ অপরাহ্ণ

শামসুজ্জামান খান : লোকজ সংস্কৃতির আলোচারি সাহিত্য সাধক

শামসুজ্জামান খান : লোকজ সংস্কৃতির আলোচারি সাহিত্য সাধক

শামসুজ্জামান খান ছিলেন বাংলাদেশের এক বিশিষ্ট লেখক, গবেষক ও ফোকলোরবিদ, যিনি লোকসংস্কৃতি ও ঐতিহ্যবাহী সাহিত্যচর্চায় বিশেষ অবদান রেখে গেছেন। তাঁর জন্ম ১৯৪০ খ্রিষ্টাব্দে মানিকগঞ্জ জেলার চারিগ্রামে। শৈশব থেকেই তিনি বাংলা ভাষা, সাহিত্য ও সংস্কৃতির প্রতি গভীর অনুরাগী ছিলেন।

পেশাগত জীবনে তিনি দেশের বিভিন্ন কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যাপনা করেছেন। পরবর্তীতে তিনি বাংলা একাডেমি, বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি এবং জাতীয় জাদুঘর-এই তিনটি গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় প্রতিষ্ঠানের মহাপরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তাঁর প্রশাসনিক দক্ষতা ও সাংস্কৃতিক নেতৃত্ব বাংলা সংস্কৃতির বিকাশে অসামান্য ভূমিকা রাখে।

শামসুজ্জামান খানের লেখালেখির জগৎ ছিল বিস্তৃত ও বৈচিত্র্যময়। তিনি প্রবন্ধ, রম্যরচনা, ফোকলোর গবেষণা ও শিশুসাহিত্যসহ নানা ক্ষেত্রে সৃজনশীলতার স্বাক্ষর রেখেছেন। তাঁর উল্লেখযোগ্য গ্রন্থসমূহের মধ্যে রয়েছে-

  • প্রবন্ধগ্রন্থ: নানা প্রসঙ্গ, গণসঙ্গীত, মাটি থেকে মহীরুহ, বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে আলাপ ও প্রাসঙ্গিক কথকতা, মুক্তবুদ্ধি, ধর্মনিরপেক্ষতা ও সমকাল, আধুনিক ফোকলোর চিন্তা, ফোকলোর চর্চা

  • রম্যরচনা: ঢাকাই রঙ্গরসিকতা, গ্রাম বাংলার রঙ্গরসিকতা

  • শিশুসাহিত্য: দুনিয়া মাতানো বিশ্বকাপ, লোভী ব্রাহ্মণ ও তেনালীরাম, ছোটদের অভিধান (যৌথভাবে রচিত)

বাংলা সাহিত্য ও সংস্কৃতিতে অসামান্য অবদানের জন্য তিনি বাংলা একাডেমি পুরস্কার ও একুশে পদকে ভূষিত হন। শামসুজ্জামান খান ছিলেন এমন একজন সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব, যিনি বাংলাদেশের লোকজ ঐতিহ্যকে আধুনিকতার সঙ্গে সংযোগ ঘটিয়ে নতুন দৃষ্টিভঙ্গিতে উপস্থাপন করেছেন। তাঁর লেখায় বাঙালির মাটি, মানুষ ও সংস্কৃতির প্রাণস্পন্দন স্পষ্টভাবে প্রতিফলিত হয়েছে। তিনি শুধু একজন গবেষক নন, ছিলেন এক সংস্কৃতি-সেনানী, যাঁর কাজ আমাদের জাতীয় পরিচয়কে গভীরভাবে সমৃদ্ধ করেছে। ২০২১ খ্রিষ্টাব্দের ১৪ই এপ্রিল তাঁর প্রয়াণে বাংলা সাহিত্য ও সংস্কৃতিজগৎ এক অমূল্য সাধককে হারায়।

মন্তব্য করুন

সম্পর্কিত পোস্ট