সিনিয়র শিক্ষক
০৬ অক্টোবর, ২০২৫ ১১:১৩ অপরাহ্ণ
সিনিয়র শিক্ষক
ধরনঃ সাধারণ শিক্ষা
শ্রেণিঃ অষ্টম
বিষয়ঃ সাহিত্য কনিকা
অধ্যায়ঃ অধ্যায়-১১ (গদ্য)
হুমায়ুন আজাদ ছিলেন বাংলাদেশের এক আধুনিক, মুক্তচিন্তার লেখক, কবি, প্রাবন্ধিক ও ভাষাবিজ্ঞানী। তাঁর জন্ম ১৯৪৭ খ্রিষ্টাব্দে মুন্সীগঞ্জ জেলার শ্রীনগর থানার রাড়িখাল গ্রামে। শৈশব থেকেই তিনি ছিলেন মেধাবী ও কৃতী ছাত্র। শিক্ষাজীবন শেষে তিনি কর্মজীবনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগে অধ্যাপক হিসেবে যোগ দেন এবং সেখানেই দীর্ঘকাল অধ্যাপনা করেন।
বাংলা ভাষা ও সাহিত্যে তাঁর গবেষণাধর্মী মনন তাঁকে এক অনন্য মর্যাদায় আসীন করেছে। তিনি ভাষাতত্ত্ব, সাহিত্যসমালোচনা ও সমাজচিন্তায় নতুন দৃষ্টিভঙ্গি উপস্থাপন করেন। তাঁর গবেষণা গ্রন্থগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য-শামসুর রাহমান : নিঃসঙ্গ শেরপা, বাক্যতত্ত্ব প্রভৃতি।
কিশোর পাঠকদের জন্যও তিনি লিখেছেন চিন্তাশীল ও কল্পনাপ্রবণ গ্রন্থ-যেমন লালনীল দীপাবলি ও কতো নদী সরোবর। তাঁর কাব্যগ্রন্থ অলৌকিক ইস্টিমার ও জ্বলো চিতাবাঘ আধুনিক বাংলা কবিতায় নতুন মাত্রা যোগ করেছে।
তাঁর লেখায় ছিল যুক্তিবাদ, মানবমুক্তির আহ্বান এবং ধর্মান্ধতা ও কুসংস্কারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ। এজন্য তিনি ছিলেন একদিকে বিতর্কিত, অন্যদিকে প্রগতিশীল চিন্তার অগ্রদূত। সাহিত্যে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে তিনি বাংলা একাডেমি পুরস্কার লাভ করেন।
হুমায়ুন আজাদ ছিলেন এমন এক সাহিত্যিক, যিনি লেখনীকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করেছেন অন্যায়, কুসংস্কার ও অন্ধবিশ্বাসের বিরুদ্ধে। তাঁর সাহসী কলম সমাজে নতুন চিন্তার জোয়ার এনেছে। ২০০৪ খ্রিষ্টাব্দে জার্মানির মিউনিখ শহরে তাঁর মৃত্যু বাংলা সাহিত্যকে এক নির্ভীক কণ্ঠস্বর থেকে বঞ্চিত করেছে। তবে তাঁর সৃষ্টি ও চিন্তা আজও নতুন প্রজন্মকে স্বাধীনভাবে ভাবতে ও বলতে শেখায়।