সিনিয়র শিক্ষক
১১ অক্টোবর, ২০২৫ ১০:৫৪ অপরাহ্ণ
সিনিয়র শিক্ষক
ধরনঃ সাধারণ শিক্ষা
শ্রেণিঃ ষষ্ঠ
বিষয়ঃ শারীরিক শিক্ষা ও স্বাস্থ্য
অধ্যায়ঃ অধ্যায়-৫
দাবা
উৎপত্তি: দাবা খেলার জন্মস্থান নিয়ে মতভেদ রয়েছে। কেউ বলেন এটি ভারতের সৃষ্টি, কেউ বলেন পারস্যে, আবার কেউ বলেন চীনে। তবে অনেকের মতে, দাবার ছক বা কোর্ট প্রথম আবিষ্কার করেন চীনের এক বুদ্ধিমান ব্যক্তি হানসিং। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে দাবা সারা বিশ্বে ছড়িয়ে পড়ে এবং এটি আজ এক জনপ্রিয় বুদ্ধির খেলা হিসেবে পরিচিত।
দাবা বোর্ড: দাবা বোর্ড ৬৪টি সমান বর্গক্ষেত্র নিয়ে তৈরি। ঘরগুলো সাদা ও কালো রঙে পর্যায়ক্রমে সাজানো থাকে। বোর্ডের নিচের ডান পাশের ঘরটি সাদা রঙের হয়। খেলার শুরুতে এক খেলোয়াড়ের কাছে থাকে ১৬টি সাদা, অপর খেলোয়াড়ের কাছে থাকে ১৬টি কালো ঘুঁটি। প্রতিটি দলে থাকে-
দাবার চাল: এক ঘর থেকে অন্য ঘরে ঘুঁটির স্থান পরিবর্তনকেই দাবার চাল বলে। খেলা শুরু করার আগে টসের মাধ্যমে নির্ধারিত হয় কে সাদা ঘুঁটি নেবে। সাদা ঘুঁটি নেওয়া খেলোয়াড়ই প্রথম চাল দেয়।
রাজা: রাজা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ঘুঁটি। সে সামনে, পেছনে, ডানে, বামে এবং তির্যকভাবে-সব দিকে এক ঘর করে যেতে পারে।
মন্ত্রী: মন্ত্রী বোর্ডের সবচেয়ে শক্তিশালী ঘুঁটি। সে নৌকার মতো সোজা পথে ও গজের মতো তির্যকভাবে চলতে পারে। মন্ত্রীর মান ৯।
নৌকা: নৌকা সোজা পথে-ডানে, বামে, সামনে বা পেছনে চলে। কোনো ঘুঁটি ডিঙিয়ে যেতে পারে না। নৌকার মান ৬।
গজ বা হাতি: গজ তির্যকভাবে চলে। সাদা ঘরের গজ সাদা ঘরেই এবং কালো ঘরের গজ কালো ঘরেই চলতে পারে। গজের মান ৩।
ঘোড়া: ঘোড়া এক বিশেষভাবে চলে-একদিকে দুই ঘর, তারপর তার লম্বে এক ঘর, অর্থাৎ ইংরেজি ‘L’-এর আকৃতিতে। ঘোড়া অন্য ঘুঁটির ওপর দিয়ে লাফিয়ে যেতে পারে। ঘোড়ার মান ৩।
বোড়ে বা সৈনিক: বোড়ে প্রথম চালে এক বা দুই ঘর এগোতে পারে, পরে এক ঘর করে এগোয়। বোড়ে কখনো পেছনে যেতে পারে না। এটি তির্যকভাবে এক ঘর সামনের বিপক্ষের ঘুঁটি খেতে পারে। বোড়ের মান ১।
বিশেষ চাল: ক্যাসলিং
রাজার নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য রাজা ও নৌকার মধ্যে জায়গা বদলের একটি বিশেষ চাল দেওয়া হয়, একে ক্যাসলিং বলে। এটি তখনই সম্ভব যখন রাজা ও নৌকা কেউই আগে না চলে এবং তাদের মাঝে কোনো ঘুঁটি না থাকে।
খেলার নিয়ম:
দাবা শুধু একটি খেলা নয়; এটি মেধা, কৌশল, পরিকল্পনা ও ধৈর্যের এক অনন্য প্রতিযোগিতা। নিয়মিত দাবা খেলার মাধ্যমে মনোযোগ, যুক্তিবোধ ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা বৃদ্ধি পায়। তাই একে rightly বলা যায়-“বুদ্ধির রাজকীয় খেলা”।