Loading..

পাঠসংশ্লিষ্ট ছবি/ইমেজ

রিসেট

১৩ অক্টোবর, ২০২৫ ০৯:৪১ পূর্বাহ্ণ

ফুটবল: খেলায় জীবনের পাঠ

ফুটবল: ফুটবল একটি আন্তর্জাতিক খেলা। বাংলাদেশেও ফুটবলের জনপ্রিয়তা কম নয়। ফুটবল খেলার মধ্য দিয়ে শারীরিক কর্মদক্ষতা, আত্মবিশ্বাস, দলীয় একাত্মবোধ, পরস্পর সহযোগিতা, নেতৃত্বদান প্রভৃতি গুণ অর্জিত হয়।

নিয়মাবলি:

খেলার মাঠ:

ফুটবল খেলার মাঠ আন্তর্জাতিকভাবে দৈর্ঘ্যে ১১০ গজ এবং প্রস্থে ৭০ গজ হয়ে থাকে। তবে জুনিয়রদের জন্য দৈর্ঘ্যে ৮০ গজ ও প্রস্থে ৫০ গজ মাপের মাঠে ফুটবল খেলা যেতে পারে। গোলপোস্ট উচ্চতায় ৮ ফুট এবং এক পোস্ট থেকে অন্য পোস্টের দূরত্ব ২৪ ফুট। উভয় গোলপোস্ট থেকে পাশে ৬ গজ এবং মাঠের দিকে ৬ গজ দূরত্ব নিয়ে যে আয়তক্ষেত্র তৈরি হয় তাকে গোল এরিয়া বলে। উভয় গোলপোস্ট থেকে পাশে ১৮ গজ ও মাঠের দিকে ১৮ গজ দূরত্ব নিয়ে যে আয়তক্ষেত্র তৈরি হয় তাকে পেনাল্টি এরিয়া বলে। দুই গোলপোস্টের ঠিক মাঝখান থেকে মাঠের ভিতর ১২ গজ সামনে একটি পেনাল্টি স্পট থাকে। যেখান থেকে পেনাল্টি কিক মারা হয়। মধ্যমাঠে ১০ গজ ব্যাসার্ধ নিয়ে একটি বৃত্ত করা হয়, যেখান থেকে কিক অফ করে খেলা শুরু করা হয়। এছাড়া মাঠের কোনায় ১ গজের একটি কোয়ার্টার সার্কেল থাকে যেখান থেকে কর্নার কিক করা হয়।

খেলোয়াড় সংখ্যা: দুই দলে ১১জন করে মোট ২২জন খেলোয়াড় খেলে।

রেফারি: খেলা পরিচালনার জন্য একজন রেফারি, দুজন সহকারী রেফারি ও একজন চতুর্থ রেফারি থাকেন।

খেলার স্থিতিকাল: খেলার নির্ধারিত সময় ৯০ মিনিট। তবে ছোটোদের জন্য ৩৫+১০+৩৫ মিনিট খেলা হতে পারে।

খেলা আরম্ভ: খেলার শুরুতে টসে জয়ী দলকে অবশ্যই মাঠের যে কোনো সাইড বেছে নিতে হবে। টসে পরাজিত দল রেফারির সংকেতের সাথে সাথে 'কিক অফ'-এর মাধ্যমে খেলা শুরু করবে।

অপরাধ ও অসদাচরণের জন্য দুই ধরনের ফ্রি কিক দেওয়া হয়। যথা- ডাইরেক্ট ও ইনডাইরেক্ট। যে কিকে সরাসরি গোল করা যায় তাকে ডাইরেক্ট ফ্রি কিক বলে। যে কিকে সরাসরি গোল করা যায় না তাকে ইনডাইরেক্ট ফ্রি কিক বলে। নিম্নলিখিত ১০টি অপরাধের জন্য ডাইরেক্ট ফ্রি কিক দেওয়া হয়-

১) বিপক্ষ খেলোয়াড়কে লাথি মারা বা লাথি মারার চেষ্টা করা।

২) বিপক্ষ খেলোয়াড়কে ল্যাং মারা বা ল্যাং মারার চেষ্টা করা।

৩) বিপক্ষ খেলোয়াড়ের ওপর লাফিয়ে পড়া।

৪) বিপক্ষ খেলোয়াড়কে আক্রমণ বা চার্জ করা।

৫) বিপক্ষ খেলোয়াড়কে আঘাত করা বা আঘাত করার চেষ্টা করা।

৬) বিপক্ষ খেলোয়াড়কে ধাক্কা দেওয়া।

৭) বিপক্ষ খেলোয়াড়কে আটকানো বা ধরে রাখা।

৮) বিপক্ষ খেলোয়াড়কে বেআইনিভাবে ট্যাকল করা।

৯) বিপক্ষ খেলোয়াড়ের গায়ে থুতু দেওয়া।

১০) ইচ্ছাকৃতভাবে হাত দিয়ে বল ধরা (তবে নিজ পেনাল্টি এরিয়ায় গোলরক্ষকের জন্য এই নিয়ম প্রযোজ্য নয়)।

নিম্নলিখিত কারণে ইনডাইরেক্ট ফ্রি কিক দেওয়া হয়-

১) গোলরক্ষক তার হাতে বল নিয়ন্ত্রণের পর খেলার মাঠে পাঠানোর আগে যদি ৬ সেকেন্ডের বেশি সময় বল ধরে রাখে।

২) গোলরক্ষক একবার বল ছেড়ে দেওয়ার পর অন্য কোনো খেলোয়াড়ের ছোঁয়ার আগেই যদি পুনরায় বলটি ধরে।

৩)নিজ দলের কোনো খেলোয়াড়ের ইচ্ছাকৃত কিক করা বল বা ব্যাকম্পাস যদি গোলরক্ষক হাত দিয়ে ছোঁয় বা ধরে:

৪)নিজ দলের কোনো খেলোয়াড়ের কর্তৃক থ্রো-ইন করা বল যদি গোলরক্ষক হাত দিয়ে ছোঁয় বা ধরে;

৫)বিপজ্জনকভাবে খেলা।

৬)বল না খেলে বিপক্ষ খেলোয়াড়ের সম্মুখগতিতে বাধা দেওয়া।

৭)গোলরক্ষক বল ছুড়ে দেওয়ার সময় তাকে বাধা দেওয়া।

থ্রো-ইন: বল মাঠের পার্শ্বরেখা অতিক্রম করলে থ্রো-ইনের মাধ্যমে পুনরায় খেলা শুরু করতে হয়। থ্রো-ইন করার সময় বল দুই হাতে সমান ভর দিয়ে মাথার পেছন দিক থেকে এবং মাথার উপর দিয়ে দুই পা মাঠের বাইরে বা দাগের উপর রেখে বল মাঠের মধ্যে নিক্ষেপ করতে হয়। থ্রো-ইন থেকে সরাসরি গোল হয় না।

গোল কিক: বিপক্ষের খেলোয়াড়ের ছোঁয়া লেগে যদি বল গোললাইন অতিক্রম করে তাহলে গোল কিক হয়। গোল কিক গোল এরিয়ার মধ্য থেকে বল বসিয়ে মারতে হয়। গোল কিক থেকে সরাসরি গোল হয়। তবে গোল কিক পেনাল্টি এরিয়ার বাইরে না গেলে বল খেলার মধ্যে গণ্য হয় না।

কর্নার কিক: ডিফেন্ডারদের ছোঁয়া লেগে যদি বল গোললাইন অতিক্রম করে তাহলে বিপক্ষ দল একটি কর্নার কিক পায়। গোললাইনের যে পাশ দিয়ে বল গোললাইন অতিক্রম করে, সেই পাশের কোনা থেকে কর্নার কিক মারতে হয়।

ফুটবল মূলত পা দিয়ে খেলা হয়। তাই পায়ের সাহায্যে বলের ওপর নিয়ন্ত্রণ আনার ওপরই ফুটবল খেলার দক্ষতা নির্ভর করে। কাজেই পা সম্পর্কে কিছুটা জ্ঞান থাকা দরকার। পায়ের পাতার তিনটি দিক আছে।

১) পায়ের ভেতরের দিক (ইনসাইড)

২) পায়ের বাইরের দিক (আউটসাইড)

৩) পায়ের পাতার ওপরের দিক (ইনস্টেপ)

এছাড়া পায়ের আঙুলের দিককে টো এবং পায়ের পেছনের দিককে হিল (গোড়ালি) বলে।

ক) কিকিং: পায়ের বিভিন্ন অংশ দিয়ে নানা রকম কিক মারা যায়। ইনসাইড কিক সহজ এবং খুব সহজে আয়ত্ত করা যায়। ইনসাইড কিক মারার সময় নন-কিকিং ফুট ফুটবলের লাইনের সামান্য পেছনে এবং বল থেকে ৬-৮ ইঞ্চি দুরে স্থাপন করে বলের ওপর দৃষ্টি রেখে পায়ের বাঁকানো অংশ দিয়ে কিক মারতে হয়। যে পা দিয়ে কিক মারবে তার বিপরীত পায়ের ওপর দেহের ভর রেখে দুই হাত সামান্য প্রসারিত করে কিক করবে। কিক করার পর কিকিং ফুট ফুটবলের দিকে এগিয়ে যাবে। এছাড়া নিচু সোজা কিক শুধু পায়ের উপরের অংশ ব্যবহার করে বলের মাঝখানে কিক মারতে হয় এই কিককে লো হার্ড কিক বলে।

খ) হেডিং: মাথা দিয়ে বল খেলাকে হেডিং বলে। হেড করার সময় বল এর দিকে দৃষ্টি রেখে দেহকে সামান্য পেছনে এনে ঘাড় শক্ত করে মাথার সামনের অংশ (কপাল) দিয়ে হেড করতে হয়। হেড করে বলকে সামনে, পেছনে ও পাশে পাঠানো যায়।

ফুটবল একটি দলীয় খেলা। এটি শরীরচর্চা ও মানসিক বিকাশে সাহায্য করে। নিয়ম মেনে ও সহযোগিতার মনোভাব নিয়ে খেললে ফুটবল শুধু খেলা নয়-জীবন গঠনেরও এক অনন্য হাতিয়ার।

 

 

 

মন্তব্য করুন

সম্পর্কিত পোস্ট