Loading..

প্রেজেন্টেশন

রিসেট

১৭ অক্টোবর, ২০২৫ ১২:০৩ অপরাহ্ণ

করমরদর্ন ও কোলাকুলি করা সংক্রান্ত। হাদিস নং ৫১।

عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ قَبْلَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ الْحَسَن بَنِ عَلِي وَعِنْدَهُ الْأَقْرَعُ ابْنُ حَابِسٍ فَقَالَ الْأَقْرَعُ إِنَّ لِى عَشَرَةً مِّنَ الْوَلَدِ مَا قَبَّلْتُ مِنْهُمْ أَحَدًا فَنَظَرَ إِلَيْهِ رَسُوْلُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ ثُمَّ قَالَ مَنْ لَا يَرْحَمُ لَا يُرْحَمُ - (مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ)

 

 

অনুবাদ : হযরত আবু হুরায়রা (রা) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা রাসূলুল্লাহ (স হাসান ইবনে আলী (রা)-কে স্নেহভরে চুমু দিলেন। তখন তাঁর নিকটে হযরত আকর   ইবনে হাবেস (রা) উপস্থিত ছিলেন। তিনি রাসূল (স) দ্বারা হযরত হাসানকে চুমু দিতে দেখে বললেন, আমার দশটি সন্তান আছে, আমি তো তাদের একজনকেও কোনো দিন চুম্বন করিনি। তখন রাসূলুল্লাহ (স) তাঁর দিকে তাকালেন, অতঃপর বললেন, যো ব্যাক্তি অন্যের প্রতি দয়া করে না, তাকেও কখনো দয়া করা হয় না। (বুখারী ও মুসলিম

 

ক)  সংক্ষেপে উত্তর দাও.

০১)  لَا يَرْحَمُ لَا يُرْحَمُ-এর তাৎপর্য লিখ।

০২) চুম্বন কত প্রকার ও কী কী? বর্ণনা কর।

০৩)  فَنَظَرَ إِلَيْهِ وَسُوْلُ اللَّه  -এর ব্যাখ্যা কর।

০৪) চুম্বনের হুকুম বর্ণনা কর।

শিক্ষণীয় বিষয়সমূহঃ

  1. সন্তানের প্রতি ভালোবাসা ও স্নেহ প্রদর্শন করা সুন্নত – রাসূলুল্লাহ ﷺ নিজের নাতিকে স্নেহভরে চুমু দিয়ে আমাদের শিক্ষা দিয়েছেন যে, সন্তানদের প্রতি দয়া, মমতা ও ভালোবাসা প্রকাশ করা ইমানদারের একটি বৈশিষ্ট্য।

  2. কঠোরতা ও নির্দয়তা ইসলামে গ্রহণযোগ্য নয় – সন্তান বা পরিবারের প্রতি ভালোবাসা না দেখানো কঠোর হৃদয়ের নিদর্শন।

  3. মানুষের প্রতি দয়া প্রদর্শন করলে আল্লাহও দয়া করেন – রাসূল ﷺ বলেছেন: “যে অন্যকে দয়া করে না, তাকে দয়া করা হয় না।” অর্থাৎ, মানুষের প্রতি মমতা ও করুণা প্রদর্শন করলে আল্লাহর রহমত লাভ হয়।

  4. স্নেহ-ভালোবাসা দাওয়াত ও চরিত্র গঠনের অন্যতম মাধ্যম – সন্তান বা ছোটদের সাথে সদাচরণ করলে তারা দ্বীনের প্রতি আকৃষ্ট হয় এবং পারিবারিক বন্ধন দৃঢ় হয়।

  5. ইসলামের শিক্ষা মানবিকতা ভিত্তিক – এই হাদিস থেকে বোঝা যায় ইসলাম শুধু ইবাদত নয়, বরং মানুষের প্রতি ভালোবাসা, মায়া-মমতা, দয়া প্রদর্শনেরও শিক্ষা দেয়।

 

এই হাদীসটি থেকে শিক্ষার্থীদের একক কাজ (ব্যক্তিগত কাজ) হিসেবে যা গ্রহণ করা যায় তা হলো

একক কাজ (Individual Task):

“দয়ার আচরণ অনুশীলন করা”

এই হাদীসের মাধ্যমে রাসূলুল্লাহ ﷺ আমাদের শিখিয়েছেন—

  • অন্যের প্রতি ভালোবাসা ও দয়া প্রদর্শন করা ঈমানদারের গুণ।

  • যে দয়া করে না, সে দয়ার যোগ্যও হয় না।

  • পরিবার, ছোট-বড়, বন্ধু, সহপাঠী—সবার প্রতি সহানুভূতি দেখানো উচিত।

 

শিক্ষার্থীর একক কাজের উদাহরণ:

  1. প্রতিদিন অন্তত একজনের প্রতি দয়ালু আচরণ করা (যেমন—সহপাঠীকে সাহায্য করা)।

  2. ছোট ভাই-বোন বা বন্ধুদের প্রতি স্নেহ প্রদর্শন করা।

  3. কুরআন ও হাদীস থেকে দয়ার উদাহরণ লিখে চর্চা করা।

  4. নিজের আচরণে “দয়া ও মমতা” প্রকাশের একটি ছোট নোট লিখা।

 

 

এই হাদীস থেকে শিক্ষার্থীদের জোড়ায় কাজ (Pair Work) হিসেবে যা করা যায় তা হলো —

জোড়ায় কাজের শিরোনাম:

“দয়া ও মমতার গুরুত্ব আলোচনা”

শিক্ষার্থীরা দুই জনে মিলে হাদীসটির মূল শিক্ষা নিয়ে আলোচনা করবে এবং জীবনে কিভাবে “দয়া ও ভালোবাসা” প্রয়োগ করা যায়, তা নির্ধারণ করবে।

জোড়ায় কাজের নির্দেশনা:

  1. হাদীসটি পড়ে দুজন মিলে আলোচনা করবে—

  • “রাসূলুল্লাহ ﷺ কেন দয়া ও স্নেহ প্রদর্শনের শিক্ষা দিলেন?”

  • “আমরা কীভাবে আমাদের বন্ধু, ছোট ভাই-বোন বা প্রতিবেশীর প্রতি দয়া দেখাতে পারি?”

আলোচনার পর দুজন মিলে ৩টি বাস্তব দয়ার কাজের উদাহরণ লিখবে (যেমন: অসুস্থ বন্ধুকে দেখতে যাওয়া, ছোট ভাই-বোনকে সাহায্য করা, পশু-পাখির প্রতি দয়া দেখানো ইত্যাদি)।

শেষে দুজনের একজন ক্লাসে সেই আলোচনার সারসংক্ষেপ উপস্থাপন করবে।

 

এই হাদীস থেকে শিক্ষার্থীদের দলীয় কাজ (Group Work) হতে পারে

দলীয় কাজের শিরোনাম:

“দয়ার সংস্কৃতি গড়ে তুলি”

কাজের ধরণ:

৪–৫ জনের দলে বিভক্ত হয়ে হাদীসটির শিক্ষা ও বাস্তব প্রয়োগ নিয়ে আলোচনা করবে।

কাজের নির্দেশনা:

  1. দলটি আলোচনা করবে —

  • দয়া ও মমতার মানে কী?

  • সমাজে দয়ার অভাবের কারণ কী?

  • দয়া প্রদর্শনের মাধ্যমে সমাজে কী পরিবর্তন আনা যায়?

প্রতিটি দল ৫টি দয়ার কাজের উদাহরণ তৈরি করবে (যেমন—অসহায়কে সাহায্য করা, পশু-পাখির প্রতি সহানুভূতি, বৃদ্ধদের সহায়তা, সহপাঠীকে সহযোগিতা ইত্যাদি)।

দলনেতা হাদীসের শিক্ষা ও দলের উপসংহার ক্লাসে উপস্থাপন করবে।

 

 

 বাড়ির কাজের শিরোনাম:

“দয়া ও স্নেহের চর্চা আমার জীবনে

”বাড়ির কাজের নির্দেশনা:

  1. হাদীসটি ভালোভাবে পড়ে এর মূল শিক্ষা লিখবে —
    “
    যে দয়া করে না, তাকে দয়া করা হয় না।”

  2. নিজের পরিবারের মধ্যে দয়া ও মমতা প্রদর্শনের তিনটি বাস্তব উদাহরণ লিখবে।
    যেমন:

  • ছোট ভাই বা বোনকে সাহায্য করা,

  • অসুস্থ পরিবারের সদস্যের খোঁজ নেওয়া,

  • পাখি বা পশুর প্রতি দয়া দেখানো।

৫–৬টি বাক্যে লিখবে—
“
আমি কীভাবে আমার দৈনন্দিন জীবনে দয়া প্রদর্শনের চর্চা করি বা করতে পারি।”

পরের ক্লাসে সবাই তাদের লেখা জমা দেবে বা পাঠ করে শোনাবে।

 

 

মন্তব্য করুন