Loading..

প্রেজেন্টেশন

রিসেট

১৭ নভেম্বর, ২০২৫ ০৬:২৯ পূর্বাহ্ণ

করমর্দন ও কোলাকুলি প্রসঙ্গে,৯ম শ্রেনী, হাদিস নং ৫২।

عَنْ الْبَرَاءِ بْنِ عَازِبٍ قَالَ قَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَا مِنْ مُسْلِمِينَ يَلْتَقِيَانِ فَيَتَصَافَحَانِ إِلَّا غُفِرَ لَهُمَا قَبْلَ أَن يَتَفَرَّقا - (رواه احمد والترمذي وابن ماجة وفي رواية ابي داود قَالَ إِذَا الْتَقَى الْمُسْلِمَانِ- فَتَصَافَحًا وَحَمِدَا اللَّهَ وَاسْتَغْفَرَاهُ غُفِرَ لَهُمَا

 

 

 

 

হযরত বারা ইবনে আযেব (রা) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূল (স) ইরশাদ করেছেন, যখন দু'জন মুসলমান মিলিত হয় এবং পরস্পর মুসাফাহা করে তখন তারা পৃথক হওয়ার পূর্বেই উভয়কে ক্ষমা করে দেওয়া হয়। (আহমদ, তিরমিযী ও ইবনে মাজাহ) আর আবু দাউদের বর্ণনায় আছে, রাসূল (স) ইরশাদ করেছেন, যখন দু'জন মুসলমান মিলিত হয়ে পরস্পর মুসাফাহা করে এবং তারা উভয়ে আল্লাহ তাআলার প্রশংসা ও তাঁর নিকট ক্ষমাপ্রার্থনা করে, তখন তাদের উভয়কে ক্ষমা করে দেওয়া হয়।

 

 

নিচে হাদীসটির মূল শিক্ষণীয় বিষয়গুলো তুলে ধরা হলোঃ

1.       মুসাফাহার গুরুত্ব:
দু’জন মুসলমান যখন সাক্ষাৎ করে এবং পরস্পর হাত মেলায় (মুসাফাহা করে), এটি ভালোবাসা, ভ্রাতৃত্ব ও ঐক্যের প্রতীক। ইসলামে এটি অত্যন্ত প্রশংসনীয় কাজ।

2.      ভ্রাতৃত্ব ও সম্পর্ক মজবুত করা:
মুসাফাহা হৃদয়ের হিংসা, বিদ্বেষ ও দূরত্ব দূর করে। এতে পারস্পরিক সম্পর্ক দৃঢ় হয় এবং সমাজে শান্তি ও সৌহার্দ্য বৃদ্ধি পায়।

3.      ক্ষমা প্রাপ্তির মাধ্যম:
রাসূল বলেছেন মুসাফাহা করার সময় আল্লাহ তাআলা উভয়ের গুনাহ মাফ করে দেন। এটি প্রমাণ করে, ইসলামে ভ্রাতৃত্বপূর্ণ আচরণ আল্লাহর রহমত ও ক্ষমা অর্জনের একটি মাধ্যম।

4.       আল্লাহর প্রশংসা ও দোয়ার গুরুত্ব:
দ্বিতীয় বর্ণনায় এসেছে সাক্ষাতের সময় তারা যদি আল্লাহর প্রশংসা করে ও ক্ষমা চায়, তবে উভয়কেই ক্ষমা করে দেওয়া হয়। এতে বোঝা যায়, যিকির ও দোয়া আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের গুরুত্বপূর্ণ উপায়।

5.      সামাজিক বন্ধন সুদৃঢ় করা:
মুসলমানদের মধ্যে পারস্পরিক অভিবাদন, হাত মেলানো ও হাসিমুখে সাক্ষাৎ করা সমাজে ঐক্য, ভালোবাসা ও আস্থা সৃষ্টি করে।

 

এই হাদীস আমাদের শেখায়
👉 আন্তরিকভাবে সাক্ষাৎ করা,
👉 পরস্পর মুসাফাহা করা,
👉 আল্লাহর প্রশংসা ও ক্ষমা চাওয়া
এই তিনটি কাজের মাধ্যমে আল্লাহর রহমত ও ক্ষমা লাভ করা যায়, যা ইসলামী ভ্রাতৃত্বের মূল চেতনা।

 

() সংক্ষেপে উত্তর দাও :

 

(مُعَانَقَةُ فِ مُصَافَحَةٌ (الف-এর সংজ্ঞা লেখ এবং উভয়ের হুকুম বর্ণনা কর।

 

مُصَافَعَةُ   দ্বারা কবীরা গুনাহ মাফ হয় কি না?

 

অথবা, মুসাফাহা কাকে বলে? মুসাফাহা করার বিধান কী?

 

(غُفِرَ لَهُمَا قَبْلَ أَن يَتَفَرَّقًا (ب-এর ব্যাখ্যা কর।

 

(تاইমাম তিরমিযী (র)-এর নাম কী? সংক্ষেপে তাঁর জীবনী লেখ।

 

( ثا ) হযরত বারা ইবনে আযেব (রা) সম্পর্কে যা জান লেখ।

 

 

একক কাজ

সহপাঠী ও বন্ধুদের সঙ্গে সাক্ষাতে আন্তরিকতা প্রকাশ করা, পরস্পর সালাম ও মুসাফাহা করা, এবং আল্লাহর প্রশংসা ও ক্ষমা প্রার্থনা করা।”

অর্থাৎ শিক্ষার্থী যেন প্রতিদিনকার জীবনে এ আদবগুলো পালন করে

·         আন্তরিকভাবে সাক্ষাৎ করা,

·         পরস্পর মুসাফাহা করা,

·         আল্লাহর প্রশংসা ও ক্ষমা চাওয়া
এর মাধ্যমে সে নিজের আমলকে পবিত্র রাখবে এবং পারস্পরিক সম্পর্ককে মজবুত করবে।

 

যৌথ কাজ

দু’জন বা একাধিক শিক্ষার্থী পরস্পর সাক্ষাৎ করে সালাম ও মুসাফাহা করবে, একসাথে ‘আলহামদুলিল্লাহ’ বলবে এবং আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করবে।”

অর্থাৎ দলগতভাবে বা সহপাঠীদের মধ্যে এ হাদীসের শিক্ষা বাস্তবায়ন করা

·         আন্তরিক সাক্ষাৎ,

·         পরস্পর মুসাফাহা,

·         আল্লাহর প্রশংসা ও ক্ষমা প্রার্থনা
এগুলো একসাথে পালন করাই এই হাদীসের জড়ায় কাজ।

 

দলীয় কাজ

শিক্ষার্থীরা দল গঠন করে হাদীসটি মুখস্থ করবে, অর্থ ও শিক্ষা আলোচনা করবে, এবং একে অপরের সঙ্গে মুসাফাহা ও সালাম বিনিময়ের অনুশীলন করবে।”

অর্থাৎ দলীয়ভাবে

1.       হাদীসটি পাঠ করবে ও ব্যাখ্যা শিখবে,

2.      হাদীসের শিক্ষা নিয়ে আলোচনা করবে,

3.      বাস্তবে মুসাফাহা করে দেখাবে,

4.       পরস্পর আল্লাহর প্রশংসা ও ক্ষমা প্রার্থনা করবে।

এভাবে দলীয়ভাবে কাজের মাধ্যমে তারা হাদীসের শিক্ষাকে জীবনে প্রয়োগ করতে শিখবে।

 বাড়ির কাজ

পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সাক্ষাতে সালাম ও মুসাফাহা করা, তাদের সঙ্গে হাদীসটি পড়ে শোনানো ও এর শিক্ষা আলোচনা করা।”

অর্থাৎ শিক্ষার্থী ঘরে গিয়ে

1.       হাদীসটি লিখে অনুশীলন করবে,

2.      পরিবারের সবাইকে হাদীসটি শুনাবে,

3.      একে অপরের সঙ্গে সালাম ও মুসাফাহা করবে,

4.       আল্লাহর প্রশংসা ও ক্ষমা প্রার্থনা করার অভ্যাস গড়ে তুলবে।

এভাবে বাড়িতে হাদীসের অনুশীলনের মাধ্যমে সে নিজের ও পরিবারের আমলকে সুন্দর করবে।

 

মন্তব্য করুন