মাটি উপরে থেকে নিচে বিভিন্ন স্তর বা দিগন্ত (horizons) দ্বারা গঠিত, যা একত্রে একটি মাটির প্রোফাইল তৈরি করে। এই স্তরগুলো হলো O (জৈব), A (উপরের মাটি), E (আদি বা খনিজ), B (সঞ্চয় স্তর), C (শিলাচূর্ণ), এবং R (আদি শিলা)। এই স্তরগুলোতে বিভিন্ন ধরনের পদার্থ যেমন খনিজ, জৈব পদার্থ, জল এবং বায়ু থাকে এবং এগুলো মাটির উর্বরতা ও গঠন নির্ধারণ করে।
মাটির বিভিন্ন স্তর:
- O-দিগন্ত (জৈব স্তর): এটি মাটির সবচেয়ে উপরের স্তর, যা পচনশীল জৈব পদার্থ যেমন পাতা এবং অন্যান্য উদ্ভিদ ও প্রাণীর অংশ দ্বারা গঠিত।
- A-দিগন্ত (উপরের মাটি): এই স্তরটি জৈব পদার্থ ও খনিজ পদার্থে সমৃদ্ধ এবং এটি খুবই উর্বর হয়। বীজ অঙ্কুরোদগম এবং নতুন শিকড় তৈরি হওয়ার জন্য এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ স্তর।
- E-দিগন্ত (আদি বা খনিজ স্তর): কিছু মাটিতে এই স্তরটি দেখা যায়, যেখানে খনিজ পদার্থ ধুয়ে নিচে চলে যায়।
B-দিগন্ত (সঞ্চয় স্তর): এই স্তরটি খনিজ পদার্থ, বিশেষ করে কাদামাটি এবং পুষ্টি উপাদানে সমৃদ্ধ, যা ওপরের স্তর থেকে ধুয়ে নিচে জমা হয়। একে সঞ্চয় স্তর বা ইলুভিয়াল স্তরও বলা হয়।C-দিগন্ত (শিলাচূর্ণ স্তর): B-দিগন্তের নিচে অবস্থিত এই স্তরটি আংশিকভাবে বিয়োজিত শিলাচূর্ণ দ্বারা গঠিত। এটি আদি শিলা এবং মাটির মধ্যবর্তী সংযোগ স্থাপন করে।R-দিগন্ত (আদি শিলা): এটি মাটির সবচেয়ে নিচের স্তর, যা কঠিন এবং বিয়োজিত হয়নি এমন আদি শিলা দ্বারা গঠিত।